দক্ষিণ ইয়র্কশায়ারের থার্নসকো গ্রামের হাজারো মানুষকে দুই দিন ব্রডব্যান্ড ও টেলিফোন সংযোগ ছাড়া থাকতে হয়েছে তার চোরদের কারণে। সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে পাশের গোল্ডথর্পের নিকোলাস লেনে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয় আর ওই এলাকার তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্ত চলছে।
ভুগলেন আসলে কারা
বাসিন্দারা বলছেন, শুক্র ও শনিবার জুড়ে তাঁদের বয়স্ক স্বজনেরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের আর কোনো উপায় ছাড়াই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সেই মানুষগুলোকে নিয়ে, যাঁদের দ্বিতীয় কোনো উপায় ছিল না।
ক্ষতিগ্রস্ত ডিয়ার্ন নর্থ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লুক হুইট কথাটি সরাসরিই বলেছেন: ‘আমাদের বহু বয়স্ক ও অসহায় বাসিন্দার কাছে এটিই বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র উপায়।’ চুরিটিকে ‘নির্বোধ’ বলে তিনি জানান, কঠোর পুলিশি ব্যবস্থার দাবিতে মেয়র ও স্থানীয় এমপিদের চিঠি দেবেন।

ওপেনরিচের একজন মুখপাত্র ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, তার চুরি ‘গুরুতর অপরাধ, আর এতে জনগোষ্ঠীর ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে’; প্রকৌশলীরা যত দ্রুত সম্ভব ব্যাপক ক্ষতি মেরামতের কাজ করেছেন।
এটি একটিমাত্র ঘটনা নয়
গত সপ্তাহে ডনকাস্টারের কারক্রফটের বাসিন্দারাও তার চুরির কারণে সংযোগহীন ছিলেন। ইন্সপেক্টর অ্যালিসন কার জানিয়েছেন, গ্রীষ্মের শুরু থেকে ডনকাস্টারজুড়ে তার চুরি হঠাৎ বেড়ে গেছে, আর এ সময়ে পুলিশ এলাকাটি থেকে ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি মূল্যের তামার তার উদ্ধার করেছে।
তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই অঙ্কটি কেবল তারের ভেতরের তামার ওজনের হিসাব—তার বসানোর খরচ কিংবা যেখান থেকে নেওয়া হয়েছে সেই জায়গা মেরামতের খরচ এতে নেই। আসল বিলটি ভাঙারির দামের কয়েক গুণ, আর এ অপরাধের অর্থনীতি এক বাক্যেই বোঝা যায়: চোর পায় কয়েক শ পাউন্ড, নেটওয়ার্ক পরিচালকের খরচ হয় কয়েক হাজার।
কার তার চুরিকে ‘জননিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলেই বর্ণনা করেছেন।
এ গল্পের যে সংস্করণ বাংলাদেশের চেনা
তামা চুরি ব্রিটেনের সমস্যা নয়, তামার দামের সমস্যা—আর ধাতুটির পুনর্বিক্রয়মূল্য থাকলে এবং তারটি নাগালে থাকলে যেখানে-সেখানেই তা ঘটে। বাংলাদেশ নিজের সংস্করণগুলো দেখেছে—ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি, টেলিফোনের লাইন কাটা, রাতের অন্ধকারে খুঁটি থেকে ড্রপ ক্যাবল টেনে নেওয়া—আর ধরনটি অভিন্ন: চোর নেয় ধাতু, এলাকা হারায় সেবা, আর মেরামতের খরচ ভাঙারির দামের বহু গুণ।
কাঠামোগত একটি পার্থক্য আছে, যা আমাদের অনুকূলে। বাংলাদেশের শেষ ধাপের সংযোগের বড় অংশ এখন ফাইবার, যার ভাঙারিমূল্য একেবারেই নেই। ফাইবার বিস্তারের যুক্তি ছিল গতি ও সক্ষমতা; কম আলোচিত সুবিধাটি হলো, কাচ কেউ চুরি করে না। যেখানে তামা রয়ে গেছে—বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিতরণে—সেখানে ঝুঁকি আগের মতোই।
হস্তান্তরযোগ্য অন্য কথাটি ওই কাউন্সিলরেরই। যাঁদের হাতে মুঠোফোন ও ডেটা প্যাক আছে, তাঁদের কাছে নেটওয়ার্ক বিভ্রাট অসুবিধা; যাঁদের নেই, তাঁদের কাছে জরুরি অবস্থা। তামার টেলিফোন নেটওয়ার্ক গুটিয়ে আনার পরিকল্পনা যে দেশেরই থাকুক, আগে একটি সহজ প্রশ্নের উত্তর থাকা দরকার: এ এলাকায় কাদের কাছে কেবল ল্যান্ডলাইনই আছে, আর সেটি বন্ধ হওয়ার দিন তাঁদের বিকল্প কী?
ঠেকানো যায় কীভাবে
এ ধরনের চুরি ঠেকানোর কার্যকর উপায়গুলো পুলিশি নয়, বাজারসংক্রান্ত। যেসব দেশে ভাঙারি ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, নগদে তামা কেনা নিষিদ্ধ আর বিক্রেতার পরিচয়পত্র রাখার বিধান আছে, সেখানে তার চুরি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ চুরি করা তামা বিক্রি করা কঠিন হলে চুরির অর্থনীতিটাই ভেঙে পড়ে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন, ট্রান্সফরমার ও টেলিযোগাযোগের তার—তিনটিতেই একই ঝুঁকি আছে, আর ভাঙারির বাজার প্রায় পুরোটাই অনানুষ্ঠানিক। ফলে তদন্ত সাধারণত চোর পর্যন্ত গিয়ে থামে, যেখানে কাজের তদন্তটি হওয়া উচিত ক্রেতা পর্যন্ত।
আরেকটি কথা অবকাঠামোর নকশা নিয়ে। ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয়ে যাওয়ার পর তারে হাত পড়া সহজ হয়—অর্থাৎ প্রথম চুরিটিই পরেরটির দরজা খুলে দেয়। তালাযুক্ত ঢাকনা, যৌগিক উপাদানের ঢাকনা কিংবা সাধারণ সেন্সরে খরচ সামান্য, আর তাতে পুরো শৃঙ্খলটি ভেঙে দেওয়া যায়।




