২৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ‘প্রো অ্যান্ড টেল’ নামের এক আয়োজনে ওএলইডি পর্দা ও টাচস্ক্রিনসহ নতুন ম্যাকবুক প্রো উন্মোচন করতে পারে অ্যাপল।
প্রচলিত আয়োজন নয়
অ্যাপলের বিশ্বব্যাপী বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেগ জোসওয়াক সোমবার এক্সে এ কথা জানান: ‘আগামী সপ্তাহে প্রো অ্যান্ড টেল আয়োজনের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না।’ ধরনটি চিরাচরিত ধারণকৃত মূল বক্তব্যের মতো নয়—আমন্ত্রিত সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতারা সরাসরি পণ্য দেখে ব্যবহারও করে দেখতে পারবেন। বিক্রি শুরু হতে পারে ৬ নভেম্বরের মধ্যেই।

যা যা আসতে পারে
গুঞ্জন অনুযায়ী ম্যাকবুক প্রো আসবে ১৪ ও ১৬ ইঞ্চি দুই আকারে, ওএলইডি পর্দা ও টাচস্ক্রিনসহ। আইফোনের পরিচিত ডায়নামিক আইল্যান্ড প্রথমবারের মতো ম্যাকে যুক্ত হতে পারে, আর নতুন মডেলগুলো বর্তমানের চেয়ে হালকা হবে বলে ধারণা।
চিপ সম্ভবত এম৫ প্রো ও এম৫ ম্যাক্স, এম৬ নয়। চলতি মাসের শুরুতে ম্যাকওএস ২৭.২-এর পরীক্ষামূলক সংস্করণে টাচস্ক্রিনসংক্রান্ত কিছু সংকেত মিলেছে—এতেই গুঞ্জনটি কেবল অনুমান না থেকে প্রমাণের কাছাকাছি গেছে।
আয়োজনে এম৬ চিপের ১৪ ইঞ্চি ম্যাকবুক প্রো ও ২৪ ইঞ্চি আইম্যাকের নতুন সংস্করণও আসতে পারে—আগস্টে ম্যাক মিনিতে প্রথম এম৬ ব্যবহার হয়েছিল—তবে দুটির নকশায় বড় পরিবর্তনের আশা নেই। অষ্টম প্রজন্মের আইপ্যাড মিনিও আসতে পারে, ৮ দশমিক ৪ ইঞ্চির ওএলইডি পর্দাসহ।
টাচস্ক্রিন কেন আলাদা খবর
কারণ এক দশকের বেশি সময় অ্যাপল এর বিপক্ষেই যুক্তি দিয়ে এসেছে। স্টিভ জবস বলেছিলেন, খাড়া টাচস্ক্রিন শরীরের জন্য বেঠিক; এরপর থেকে অ্যাপলের প্রায় প্রতিটি কর্মকর্তা কথাটির কোনো না কোনো রূপ বলেছেন, আর আইপ্যাডকে স্পর্শের যন্ত্র আর ম্যাককে কি-বোর্ডের যন্ত্র হিসেবেই বিক্রি করেছেন। টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো তাই কেবল একটি সুবিধা নয়, অবস্থান বদল—আর আগ্রহের প্রশ্নটি হলো কী বদলাল। সম্ভবত এটিই যে, এক দশকের আইপ্যাড ব্যবহারে যাঁরা বড় হয়েছেন, তাঁদের কাছে ল্যাপটপের পর্দায় হাত বাড়ানো এখন স্বাভাবিক।
ঢাকায় এর মানে
দুটি বাস্তব কথা। এক, গুঞ্জন সত্যি হলে ২৮ অক্টোবরেই বর্তমান ম্যাকবুক প্রো আগের প্রজন্ম হয়ে যাবে, আর বসুন্ধরা সিটি ও অনলাইন বিক্রেতাদের হাতে থাকা মজুতের দাম সাধারণত উন্মোচনের পক্ষকালের মধ্যে কিছুটা নামে। যাঁদের ওএলইডি দরকার নেই, তাঁরা এখনো চমৎকার একটি যন্ত্র আরও ভালো দামে পেতে যাচ্ছেন।
দুই, উন্মোচনের দামটিকে হিসাবের শুরু ভাবুন, শেষ নয়। এ দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কেনা ম্যাকবুক প্রোর সঙ্গে মার্কিন দামের ওপর যুক্ত হয় শুল্ক ও ভ্যাট; আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিঙ্গাপুর-দুবাই থেকে আসা গ্রে-মার্কেট যন্ত্রে স্থানীয় ওয়ারেন্টি থাকে না—প্রথম প্রজন্মের নতুন পর্দাপ্রযুক্তিসহ ল্যাপটপে যা পরিণত পণ্যের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে ফ্রিল্যান্সারের আয় যন্ত্রটির ওপর নির্ভরশীল, তাঁর জন্য ওয়ারেন্টিও স্পেসিফিকেশনেরই অংশ।
যেখানে সংশয় রাখা দরকার
আয়োজন পর্যন্ত দুটি সতর্কতা ধরে রাখা ভালো। এক, কিছুই নিশ্চিত নয়: টাচস্ক্রিন ও ওএলইডি এখনো গুঞ্জন, যার পেছনে আছে পরীক্ষামূলক সংস্করণের কিছু সংকেত—আর বিটা কোডে প্রায়ই এমন ভিত্তি তৈরি করা থাকে, যা এক বছর পরে আসে কিংবা কখনোই আসে না। দুই, প্রথম প্রজন্মের ওএলইডি ল্যাপটপ পর্দা ঠিক সেই উপাদান, যা নিয়ে শুরুর দিকে অভিযোগ ওঠে—উজ্জ্বলতার অসমতা, কিংবা সারা দিন স্থির মেনু বার দেখানো পর্দায় বার্ন-ইনের দুশ্চিন্তা।
যন্ত্রটি যদি খেলনা না হয়ে কাজের সরঞ্জাম হয়, তবে চমকহীন পরামর্শটিই খাটে: কয়েক লাখ টাকা দেওয়ার আগে অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না প্রথম উৎপাদনের যন্ত্রগুলো এমন পর্যালোচকদের হাতে যায় যাঁরা মাসখানেক সেগুলো ব্যবহার করেছেন।
আর দামের প্রসঙ্গে একটি হিসাব। অ্যাপলের ঘোষিত দাম ডলারে, আর এ দেশে পৌঁছাতে তার সঙ্গে যুক্ত হয় শুল্ক, ভ্যাট ও পরিবেশকের মুনাফা। ফলে ‘কত ডলার’ শুনে উচ্ছ্বসিত হওয়ার চেয়ে ‘ঢাকায় কত টাকায় মিলবে’ জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বাস্তবসম্মত।
আর যাঁরা এখনকার ম্যাকবুক প্রো ব্যবহার করছেন, তাঁদের জন্য কথাটি সহজ: এম৫ বা এম৪ চিপের যন্ত্র হঠাৎ খারাপ হয়ে যাচ্ছে না। নতুন প্রজন্ম এলে পুরোনোটি ধীর হয় না, কেবল তুলনাটি বদলায়।




