কিছু চিকিৎসক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভারী ব্যবহারকে জুয়া, ওপিওয়েড বা সিগারেটের সঙ্গে তুলনা করেন। অন্যরা মনে করেন, ‘আসক্তি’ শব্দটি বড় বেশি ঢিলেঢালাভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই পক্ষ একটি বিষয়ে একমত: বহু মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাট থেকে সহজে সরে আসতে পারেন না—আর সেটি নকশারই অংশ, কারণ প্রতিটি বাড়তি মিনিট মানে আরেকটি বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ।
সংজ্ঞার লড়াই
স্ট্যানফোর্ড স্কুল অব মেডিসিনের অ্যাডিকশন মেডিসিনের পরিচালক আনা লেমকের সংজ্ঞায়, ক্ষতি জেনেও কোনো পদার্থ বা আচরণের ওপর অব্যাহত, নিয়ন্ত্রণহীন নির্ভরতাই আসক্তি। সেই সংজ্ঞায় অনেক স্ক্রলিংই পড়ে যায়। অন্য গবেষকেরা আপত্তি তোলেন: চিকিৎসাবিজ্ঞানের আসক্তিতে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও শনাক্তযোগ্য প্রত্যাহার-উপসর্গ থাকতে হয়, আর ভারী সামাজিক-মাধ্যম ব্যবহার সেই মাপে পৌঁছায়—এমন ঐকমত্য নেই। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের রেফারেন্স ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল অব মেন্টাল ডিসঅর্ডার্স (ডিএসএম) সামাজিক-মাধ্যম আসক্তিকে আনুষ্ঠানিক রোগ হিসেবে স্বীকার করে না।
ব্যবহারিক উত্তর: তকমার চেয়ে প্রভাবটাই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর হতে পারে—কিশোরদের মতোই প্রাপ্তবয়স্কদেরও—এ নিয়ে বিতর্কের কারও আপত্তি নেই।
সমস্যা হয়ে গেছে, বুঝবেন কীভাবে
বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের মনোরোগ ও আচরণবিজ্ঞানের অধ্যাপক লরেল উইলিয়ামস এমন একটি পরীক্ষা দেন, যাতে কোনো রোগনির্ণয় লাগে না: আপনি নিজে যদি অনুভব করেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন, আর কাজ, পড়াশোনা, শখ বা সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—সেটাই সংকেত। ব্যবহারের পর নিয়মিত ক্লান্ত, উদ্বিগ্ন, বিষণ্ন বা খিটখিটে লাগাও আরেকটি। সততার সঙ্গে তিনটি প্রশ্ন করুন:
- কাজের মাঝখানে বারবার ফোন হাতে নিচ্ছি?
- কমানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি?
- কতটা ব্যবহার করি, তা নিয়ে অপরাধবোধ হয়?
তিনটিরই উত্তর হ্যাঁ হলে কিছু বদলানোর সময় এসেছে—নাম যা-ই দিন।
যা সত্যিই কাজ করে
বিশেষজ্ঞদের মতে প্রথম ধাপ সচেতনতা: ফিড আর বিজ্ঞাপন যে মনোযোগ ধরে রাখার জন্যই বানানো, তা বুঝলে টানটিকে ব্যক্তিগত দুর্বলতা ভাবা বন্ধ হয়। এরপর যে পরিবর্তনগুলো টেকে, সেগুলো বীরত্বের নয়, কাঠামোর:
- প্রতিটি সামাজিক অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করুন। কখন দেখবেন, ঠিক করবেন আপনি, অ্যাপ নয়।
- অ্যাপগুলো হোম স্ক্রিন থেকে সরান, বা প্রতিবার ব্যবহারের পর লগআউট করুন, যাতে খুলতে চেষ্টা লাগে।
- ফোনের নিজস্ব স্ক্রিন-টাইম টুল দিয়ে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিন, সীমা পেরোলে আটকে দিক।
- শোবার ঘরে ফোন নয়। দিনের শেষ ও প্রথম আধা ঘণ্টাতেই বেশির ভাগ বাধ্যতামূলক ব্যবহার বাস করে।
- শুধু সরাবেন না, বদলে দিন। হাঁটা, বই বা বন্ধুকে ফোন—স্ক্রলিং যে শূন্যতা ভরত, সেটি পূরণ করুক।
এর কোনোটিতেই ছেড়ে দিতে হয় না। লক্ষ্য ব্যবহারকে আবার সচেতন করা—আর কয়েক সপ্তাহ পর লক্ষ করা, কিছু হারানোর ভয়টা প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত মিলিয়ে যায়।




