প্রযুক্তি বিশ্ব

কিশোরের মৃত্যুতদন্তে মেটা ও স্ন্যাপচ্যাটকে পক্ষভুক্ত করলেন করোনার, তথ্য চাওয়া হলো ১৫ প্রতিষ্ঠানের কাছে

প্রথম তদন্ত শুনানি চলেছিল ২৩ মিনিট। সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নতুন তথ্য আসার পর সেটির সিদ্ধান্ত বাতিল করেন হাইকোর্ট।

কিশোরের মৃত্যুতদন্তে মেটা ও স্ন্যাপচ্যাটকে পক্ষভুক্ত করলেন করোনার, তথ্য চাওয়া হলো ১৫ প্রতিষ্ঠানের কাছে

১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যুর দ্বিতীয় তদন্তে মেটা ও স্ন্যাপচ্যাটকে ‘পক্ষভুক্ত ব্যক্তি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন করোনার। এর আগে থেকেই এই মর্যাদা পাওয়া টিকটক তথ্য দিতে রাজি হয়েছে।

চেলটেনহ্যামের জুলস সুইনি মারা যান ২০২২ সালের এপ্রিলে। তাঁর মা এলেন রুম মনে করেন, অনলাইনের কোনো চ্যালেঞ্জ ভুল পথে গিয়েছিল। সেই থেকে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে থাকা তথ্য পেতে আন্দোলন করে আসছেন তিনি। এখন ১৫টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য ও প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।

‘পক্ষভুক্ত ব্যক্তি’ মানে কী

এই স্বীকৃতি কোনো প্রতিষ্ঠানকে তদন্তে অংশ নেওয়ার ও আইনজীবী রাখার অধিকার দেয়। উপস্থিত থাকা বা সাক্ষ্য দেওয়া অবশ্য বাধ্যতামূলক নয়। বাস্তবে এটিই সেই উপায়, যার মাধ্যমে করোনার কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাইরে থেকে চিঠি না দিয়ে কার্যক্রমের ভেতরে নিয়ে আসেন—প্ল্যাটফর্ম চাইলে জবাব দিতে পারে এমন একটি অনুরোধ, আর যে প্রক্রিয়ার সে নিজেই অংশ, দুইয়ের পার্থক্য এখানেই।

তালিকায় আরও আছে জুলসের পরিবার, গ্লস্টারশায়ার পুলিশ ও সাউথ ওয়েস্টার্ন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ট্রাস্ট।

১৫ প্রতিষ্ঠান, ২৩ মিনিট
যতগুলো সামাজিক মাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কাছে এখন তথ্য চাওয়া হয়েছে—আর প্রথম তদন্ত শুনানির দৈর্ঘ্য, যার সিদ্ধান্ত হাইকোর্ট বাতিল করেছিলেন। গ্রাফিক: টেক বিডি।

দ্বিতীয় তদন্ত কেন

প্রথমটি চলেছিল ২৩ মিনিট, তাতে একটি বর্ণনামূলক সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ হয়। পরে জ্যেষ্ঠ বিচারকেরা শোনেন, সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে এবং ‘বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানের সূত্র’ অনুসরণ করা হয়নি। এরপর হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে নতুন শুনানির নির্দেশ দেন।

এর মধ্যে ছিল, মৃত্যুর কিছু আগে একটি অপরাধী চক্রের চালানো ভুয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে জুলসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, আর তাঁর ফোনের তথ্যে ‘চাঁদাবাজি বা সেক্সটরশনের সম্ভাব্য চেষ্টার’ আলামত মিলেছিল।

জ্যেষ্ঠ করোনার কেটি স্কেরেট বলেছেন, নতুন তদন্তে দেখা হবে মৃত্যুর চিকিৎসাগত কারণ, মৃত্যুর দিনের ঘটনাপ্রবাহ ও জরুরি সাড়া, এবং তার আগের সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন কার্যক্রম।

যে আইন এল এর থেকে

রুমের আন্দোলন থেকেই এসেছে জুলস ল, যা চালু হয় ২০২৬ সালের এপ্রিলে। এ আইনে কোনো শিশুর মৃত্যু হলে পাঁচ দিনের মধ্যে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হয়। তিনি বলেছেন, ‘আমার জায়গায় আর কোনো অভিভাবককে দাঁড়াতে হওয়া উচিত নয়।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, বড় লক্ষ্যটি এখনো অর্জিত হয়নি—‘চূড়ান্ত লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাইনি, এখনো শিশুরা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে।’

আদালতের বাইরে তিনি বলেন, করোনার এবার আগের চেয়ে বেশি তথ্য বিবেচনায় নিচ্ছেন বলে তিনি খুশি, আর টিকটকের আইনজীবীরা প্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যবহারযোগ্য ফরম্যাটে দিতে রাজি হয়েছেন। শেষ কথাটিই বাস্তব মূল বিষয়। ব্যবহার করা যায় না এমন রূপে তথ্য দিলে অনুরোধ রক্ষা হয়, জবাব মেলে না—আর সাড়ে চার বছরের পুরোনো একটি মামলায় ফরম্যাট নিছক কারিগরি খুঁটিনাটি নয়।

পুনরায় শুনানি হতে পারে ২০২৭ সালের বসন্তে, চলতে পারে এক সপ্তাহ পর্যন্ত—যদিও রুম মনে করেন, এই সময়সীমা ‘কিছুটা উচ্চাভিলাষী’।

প্ল্যাটফর্মগুলো কেন এই মামলার দিকে তাকিয়ে

করোনারের আদালতে সাধারণত প্রযুক্তিনীতি তৈরি হয় না, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যা প্রায়ই থাকে না, সেই ক্ষমতা এখানে আছে—নির্দিষ্ট একটি ঘটনায়, নির্দিষ্ট একজন মানুষকে নিয়ে, বাঁধা সময়সীমার মধ্যে প্রমাণ হাজির করতে বাধ্য করা যায়। করোনারের কাছে দেওয়া তথ্য এমনভাবে নথিভুক্ত হয়, স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে যা হয় না।

একসঙ্গে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাওয়ার তাৎপর্য এখানেই। একটি কার্যক্রমেই বেরিয়ে আসবে, একজন কিশোর সম্পর্কে কোন প্ল্যাটফর্ম আসলে কী জমা রেখেছিল আর কে কত সহজে তা হস্তান্তর করল—শিল্পের নিজেদের প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক কড়া একটি হিসাব, যা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা লিখতে পারবে না।

এ দেশসহ অন্যত্র পরিবারগুলোর জন্য শিক্ষাটি শুনানিতে নয়, জুলস ল-তে। সাড়ে চার বছর ধরে রুম যে বাধার মুখে পড়েছেন, তা ঠিক অস্বীকৃতি নয়—মুছে যাওয়া: কেউ চাওয়ার কথা ভাবার আগেই তথ্যগুলো আর ছিল না। দিনের হিসাবে বাঁধা সংরক্ষণের নিয়মই এর সেই অংশ, যা অন্য দেশ কম খরচে অনুসরণ করতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।