প্রযুক্তি বাংলাদেশ

এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও করের নথি এক পরিচয়ে আনতে চায় আইসিটি বিভাগ

ছড়িয়ে থাকা নাগরিক তথ্যভান্ডার এক পরিচয়ের নিচে আসবে। একই বৈঠকে এসেছে সার্বভৌম এআই, ১২০ জন সাইবার জনবল আর ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় টোল ব্যবস্থার কথা।

এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও করের নথি এক পরিচয়ে আনতে চায় আইসিটি বিভাগ

নাগরিকদের ছড়িয়ে থাকা তথ্যভান্ডারগুলোকে এক পরিচয়ের নিচে আনতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ নামে একটি উদ্যোগ নেবে আইসিটি বিভাগ। উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার আর বর্তমান বিচ্ছিন্নতার সুযোগে হওয়া প্রতারণা কমানো।

সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজম (সিটিজে)–এর কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে বৈঠকে পরিকল্পনাটি তুলে ধরেন আইসিটি সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। বৈঠকে যুগ্ম সচিব মো. মজিবুর রহমানও ছিলেন।

আসলে কী জোড়া লাগছে

এখন সরকারি ব্যবস্থায় একজন মানুষ একাধিকবার আছেন—একবার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারে, আবার পাসপোর্টের নথিতে, আবার জন্মনিবন্ধনে, আবার করের ফাইলে। প্রতিটিতে একই মানুষের কিছুটা আলাদা সংস্করণ, আর একটির সঙ্গে আরেকটির মিল থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

এই পুনরাবৃত্তি শুধু অগোছালো নয়। এ কারণেই একধরনের প্রতারণা সহজ হয়ে যায়—যে নথি অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায় না, সেটি ভুয়া প্রমাণ করাও সহজ নয়।

এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্ম, কর
যে চারটি নাগরিক তথ্যভান্ডারকে এক পরিচয়ে আনতে চায় আইসিটি বিভাগ, যাতে একজন মানুষ আর চারবার আলাদা করে না থাকেন। গ্রাফিক: টেক বিডি।

নিচের কাঠামোটি

তথ্যভান্ডার জোড়া লাগানো লিখতে সহজ, বানাতে কঠিন। বিভাগ জানিয়েছে, একটি ইন্টারঅপারেবিলিটি কাঠামো তৈরি হচ্ছে, যাতে সরকারি দপ্তরগুলো নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে এবং তা সুরক্ষিত থাকে। এই স্তর ছাড়া ‘এক আইডি’ মানে দাঁড়াবে কেবল চারটি ব্যবস্থার একটি অভিন্ন নম্বর।

পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে শক্তিশালী করা হবে, নিয়োগ দেওয়া হবে ১২০ জন, যাঁদের বড় অংশ কারিগরি বিশেষজ্ঞ। এই নিয়োগই নজরে রাখার মতো বিষয়: এক পরিচয়ের তথ্যভান্ডার যতটা সুবিধা কেন্দ্রীভূত করে, ঝুঁকিও ততটাই করে।

সার্বভৌম এআই আর বাংলা মডেল

সচিব সার্বভৌম এআই নিয়ে কাজের কথাও বলেছেন—একটি জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ও অভিন্ন জিপিইউ অবকাঠামো, যার উদ্দেশ্য দেশের তথ্য দেশের নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর অংশ হিসেবে বাংলা ভাষার এআইর কথা বলা হয়েছে।

আরও দুটি বিষয় এসেছে। উদ্যোক্তাদের জন্য একটি তহবিল যৌথভাবে পরিচালনা করবে স্টার্টআপ বাংলাদেশ ও আইসিটি বিভাগ। আর দেশের সব সেতু ও টোল প্লাজায় চালু হবে অভিন্ন ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা, লক্ষ্য ডিসেম্বর।

সাংবাদিকেরা বিনিময়ে যা চেয়েছেন

সিটিজে প্রতিনিধিদল কেবল শুনে যায়নি। সভাপতি হাসান জাকির (সহকারী সম্পাদক, সমকাল) বিভাগের কাজ স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানান এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রকল্প এড়াতে বলেন।

সাধারণ সম্পাদক সাইফ আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার, যুগান্তর) বলেন, তথ্যের গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, আর উদ্ভাবনের আর্থিক সহায়তা স্বজনপ্রীতি ছাড়াই প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে।

সহসভাপতি মিজানুর রহমান সোহেল, সাংগঠনিক পরিচালক রেজাউল করিম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি কাজী সোহাগ ও লেখক রাহিতুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটি সময়মতো তথ্য পাওয়া, এআই ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত কর্মশালা এবং নীতিনির্ধারণী কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব চেয়েছে।

যে প্রশ্নে সব ঠিক হবে

এসব ঘোষণার প্রতিটিই কোনো না কোনোভাবে আগেও হয়েছে। কার্যকর এক পরিচয় আর জাতীয় দায় হয়ে ওঠা পরিচয়ের পার্থক্য উদ্বোধনে নয়, সুশাসনে—কে জোড়া লাগানো নথি দেখতে পারবেন, দেখলে কী লেখা থাকবে, আর কেউ ব্যক্তিগত কারণে কারও তথ্য দেখলে কী হবে।

ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। কাঠামোটি প্রকাশিত হলে এই প্রশ্নই করতে হবে।

আগের উদ্যোগগুলো থেকে পার্থক্য কোথায়

নাগরিক তথ্য এক জায়গায় আনার কথা বাংলাদেশে নতুন নয়। আগের চেষ্টাগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আটকে গেছে এক জায়গাতেই—এক দপ্তরের তথ্যভান্ডার আরেক দপ্তরের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি, কারণ কে কার তথ্য দেখতে পাবে তা কখনো স্পষ্ট করে লেখা হয়নি।

এবারের ঘোষণায় ইন্টারঅপারেবিলিটি কাঠামোর কথা আলাদা করে থাকা তাই ইতিবাচক। তবে কাঠামোটি কবে প্রকাশ পাবে, কারা তা মানতে বাধ্য থাকবে এবং না মানলে কী হবে—এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত এটিও আগের ঘোষণাগুলোর মতোই শোনাবে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।