প্রযুক্তি বিশ্ব

১,২৭১ জনের চাকরি, পদ বা শহর বদলাচ্ছে ক্যানভা—যা প্রতিষ্ঠানের ২২ শতাংশ কর্মী

সহপ্রতিষ্ঠাতা মেলানি পারকিন্স কর্মীদের জানিয়েছেন, ১,২৭১ জন চাকরি হারাবেন, শহর বদলাবেন বা দায়িত্ব বদলাবেন। বিনিয়োগকারীরা মূল্যায়ন ৬ হাজার কোটি থেকে কমিয়ে ৪,৯০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার করেছে।

১,২৭১ জনের চাকরি, পদ বা শহর বদলাচ্ছে ক্যানভা—যা প্রতিষ্ঠানের ২২ শতাংশ কর্মী

অস্ট্রেলিয়ার ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম ও দেশটির সবচেয়ে পরিচিত স্টার্টআপগুলোর একটি ক্যানভা এমনভাবে পুনর্গঠনে যাচ্ছে, যাতে ২২ শতাংশ কর্মী প্রভাবিত হবেন। সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মেলানি পারকিন্স কর্মীদের জানিয়েছেন, ১,২৭১ জন হয় চাকরি হারাবেন, নয়তো শহর বদলাতে বলা হবে, নয়তো তাঁদের দায়িত্ব বদলে যাবে।

তিনি একে বলেছেন ‘নিঃসন্দেহে আমাদের ১৩ বছরের ইতিহাসে কঠিনতম মুহূর্ত’। বার্তায় হিসাবটি নরম করা হয়নি: ‘দুঃখজনকভাবে এর মানে সেই সহকর্মী ও বন্ধুদের বিদায় জানানো, যাঁরা ক্যানভাকে আজকের জায়গায় এনেছেন।’

সংখ্যার পেছনের সংখ্যা

বাকিটা ব্যাখ্যা করে পারকিন্সের এই বাক্যটি: এটি ছিল ‘আমাদের এ পর্যন্ত কঠিনতম বছর, আর বছরের শুরুতেই আমরা জানিয়েছিলাম, এক দশকে প্রথমবার আমাদের প্রবৃদ্ধি কমেছে’।

টানা এক দশকের প্রবৃদ্ধির ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন। সেটি থামলে মূল্যায়নও নামে। ক্যানভার দুই বিনিয়োগকারী ব্ল্যাকবার্ড ভেঞ্চারস ও এয়ারট্রি গত বছরের শেষে থাকা প্রায় ৬ হাজার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে কমিয়ে প্রায় ৪,৯০০ কোটি করেছে বলে খবর। ক্যানভা নিজেদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও কমিয়েছে।

১,২৭১ জন, ১৩ বছরে
ক্যানভার যত কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন, শহর বদলাচ্ছেন বা দায়িত্ব বদলাচ্ছেন—প্রতিষ্ঠাতার ভাষায় কোম্পানির ইতিহাসের কঠিনতম মুহূর্তে। গ্রাফিক: টেক বিডি।

এআই কেন হিসাবের দুই পাশেই

ক্যানভার ওপর চাপটি অস্বাভাবিক, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখানে একই সঙ্গে হুমকি এবং খরচ।

একদিকে প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রতিশ্রুতি—ডিজাইন না জানা মানুষও পেশাদার চেহারার গ্রাফিক বানাতে পারবেন—এখন একটি সাধারণ ইমেজ মডেল বিনা মূল্যেই দিচ্ছে। ক্যানভা ব্যবসা গড়েছে টেমপ্লেটের ওপর; প্রতিযোগীদের টেমপ্লেট লাগছেই না।

অন্যদিকে সেই হুমকির জবাব দেওয়া ব্যয়বহুল। নতুন প্রোডাক্ট ছাড়তে গিয়ে এআই খাতে খরচ বেড়ে যাওয়াকেই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন কমার কারণ বলা হচ্ছে। যে প্রযুক্তি সুরক্ষাবলয় ক্ষয় করছে, সেটির পেছনেই বিপুল খরচ করতে হচ্ছে।

পারকিন্স বুধবার লিখেছেন, ‘নতুন প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে মানুষ কী বানাতে পারে, কীভাবে বানায়, আর ব্যবহৃত পণ্যের কাছে তারা কী আশা করে।’

শুধু ছাঁটাই নয়

১,২৭১ সংখ্যাটি নিয়ে নির্দিষ্ট হওয়া জরুরি, কারণ এতে তিন রকম পরিণতি আছে এবং এর একটিই চাকরি হারানো। কাউকে বলা হচ্ছে শহর বদলাতে, কারও দায়িত্ব নতুন করে লেখা হচ্ছে।

ক্যানভার কর্মী আছেন ৩৭টি দেশে, আর পুনর্গঠন কাজকে ভেতরের দিকে টানছে। আরও বেশি প্রোডাক্ট দলের ‘মূল ঠিকানা’ হবে সিডনি, আর আগামী বছর থেকে হাইব্রিড কর্মীদের সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অফিসে থাকতে হবে।

ক্যানভার বাইরে এর অর্থ

প্রচলিত অর্থে ক্যানভা বিপদে পড়া প্রতিষ্ঠান নয়। ৪,৯০০ কোটি ডলার কোনো ধস নয়। তবু এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটিই প্রথম স্পষ্ট উদাহরণগুলোর একটি যেখানে একটি বড় ও সফল সফটওয়্যার ব্যবসা পুনর্গঠনে যাচ্ছে স্রেফ এ কারণে যে জেনারেটিভ এআই তার পণ্যের মূল্য বদলে দিয়েছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের সময় এআইয়ের নাম অনেকেই নিয়েছে। প্রযুক্তিটি একই সঙ্গে প্রতিযোগী এবং বিল—এতটা স্পষ্ট করে কমই বলা হয়েছে।

যে প্রতিশ্রুতির ওপর ক্যানভা দাঁড়িয়ে ছিল

১৯ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে প্রথম উদ্যোগ শুরু করেন মেলানি পারকিন্স, আর ২০১৩ সালে চালু করেন ক্যানভা। প্রতিষ্ঠানটি টেমপ্লেট ও টুল দেয়, যাতে কারিগরি দক্ষতা বা ডিজাইনের পড়াশোনা ছাড়াই মানুষ পেশাদার চেহারার গ্রাফিক বানাতে পারেন—বিয়ের কার্ড থেকে ব্যবসায়িক উপস্থাপনা পর্যন্ত।

এই শ্রেণিটি ক্যানভার আগে কার্যত ছিলই না। সে কারণেই প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত বেড়েছে, আর সে কারণেই এখন চাপটি তীব্র: যে কাজটি সহজ করে দেওয়াই ছিল ক্যানভার ব্যবসা, সেই কাজ এখন আরও সহজ করে দিচ্ছে অন্য প্রযুক্তি।

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য

বাংলাদেশের বহু ফ্রিল্যান্সার ও ছোট উদ্যোগ ক্যানভার ওপর নির্ভরশীল। পুনর্গঠনে গ্রাহকসেবা বা আঞ্চলিক দল ছোট হলে সাড়া পেতে দেরি হতে পারে, যদিও প্রতিষ্ঠানটি পণ্য বন্ধ করার কথা বলেনি। এই ঘোষণা চাকরি ও কাঠামো নিয়ে, সেবা বন্ধ নিয়ে নয়।

সূত্র: বিবিসি

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।