৩১ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার প্রকৌশলীর বাবা-মা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা ওষুধ ছাড়তে তাঁদের মেয়েকে পথ দেখিয়েছে চ্যাটজিপিটি, আর বিপদের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও তাঁকে আশ্বস্ত করে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনে কর্মরত চীনা নাগরিক বাওয়েন ওয়ানের মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে ছিল ল্যামোট্রিজিন ওষুধে। চিকিৎসাটি বড় ধরনের কাজ করছিল।
মামলায় যা বলা হয়েছে
জানুয়ারিতে তিনি চ্যাটজিপিটির কাছে দৈনিক ডোজ কমানোর বিষয়ে জানতে চান। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ওষুধটি তাঁর কথা বলায় প্রভাব ফেলছে এবং চাকরির সাক্ষাৎকারে ক্ষতি করতে পারে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চ্যাটবট কয়েক সপ্তাহে ডোজ শূন্যে নামিয়ে আনার একটি ছক তৈরি করে দেয়। ওষুধ শরীরে কার্যকর মাত্রায় আছে কি না তা দেখার রক্ত পরীক্ষা না করানোর সিদ্ধান্তেও এটি সায় দেয়। মামলায় বলা হয়েছে, চিকিৎসককে বিষয়টি না জানানোর পরামর্শও দিয়েছিল এটি।
তিনি যখন বিভ্রান্তি, স্মৃতিভ্রম ও শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতির কথা জানান, চ্যাটবট সেগুলোকে সতর্কসংকেত হিসেবে না দেখে বলে—এগুলো হয়তো ওষুধের পরিবর্তনের সঙ্গে মস্তিষ্কের মানিয়ে নেওয়ার লক্ষণ।

১১ ফেব্রুয়ারি তিনি মাথাব্যথার কথা জানান। চ্যাটবট ব্যথাটিকে ‘বিপজ্জনক নয়’ বলে এবং সেরে ওঠার অংশ হিসেবে বর্ণনা করে। ওই বার্তার দুই দিন পর তিনি মারা যান।
চিকিৎসকের বক্তব্য
তাঁর স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ নিকোলাস পুলুস বলেছেন, রোগীর ইতিহাস জানা থাকলে ওষুধ বন্ধের পরামর্শ তিনি কখনোই দিতেন না; এমনটা করা চিকিৎসাসেবার ব্যর্থতা।
মামলার মূল কথাটিও এখানেই। খিঁচুনিরোধী ওষুধ বন্ধ করা এমন কোনো নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নয়, যার ক্ষতি ধীরে আসে—ওষুধ ছেড়ে দেওয়াটা নিজেই স্বীকৃত একটি ঝুঁকি। অভিযোগের যুক্তি এই নয় যে চ্যাটবট সাহায্য করেনি; বরং এই যে, ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার ভূমিকাটি সে নিয়ে নিয়েছিল, অথচ সেই ভূমিকার কোনো দায় তার ছিল না—রোগীর ইতিহাস নেই, পর্যবেক্ষণ নেই, বিপদ দেখলে চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর দায়ও নেই।
ওপেনএআই যা বলেছে
প্রতিষ্ঠানটি ওয়ানের মৃত্যুকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলেছে। তারা জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চ্যাটজিপিটির সংস্করণটি পুরোনো, আর নতুন মডেলগুলো জরুরি চিকিৎসা দরকার হতে পারে এমন পরিস্থিতি চিনতে বেশি পারদর্শী।
বাবা-মা কী চাইছেন
তাঁদের দাবিটি সুনির্দিষ্ট—নির্ধারিত ওষুধ বদলানো বা বন্ধ করা নিয়ে চ্যাটবটকে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগই দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের যুক্তি, এমন কড়া সীমা থাকলে মেয়েটির মৃত্যু ঠেকানো যেত।
এআই নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ দাবিগুলোর চেয়ে এটি অনেক বেশি নির্দিষ্ট, আর আইন প্রণয়নের অপেক্ষা না করেই যেকোনো প্রতিষ্ঠান এটি কার্যকর করতে পারে—ডোজ বদলানোর প্রশ্নে সতর্ক উত্তরের পর ছক নয়, বরং সরাসরি না বলা।
বাস্তব শিক্ষা
স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নে চ্যাটবটের ব্যবহার এ দেশেও ব্যাপক, আর অনেকের কাছে তা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চেয়ে সস্তা ও দ্রুত। সীমারেখাটি এই মামলার ভেতরেই আছে। কোনো ওষুধ কী কাজ করে বা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মানে কী—এ প্রশ্ন করা যুক্তিসংগত। কিন্তু ওষুধটি ছাড়ার ছক চাওয়ার প্রশ্নটি যিনি ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন, তাঁর জন্য। আর এই ঘটনার তিনটি বিষয়কে যেকোনো আলাপে বিপৎসংকেত ধরা উচিত—পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ, চিকিৎসকের কাছে কিছু গোপন রাখার পরামর্শ, আর নতুন কোনো উপসর্গ নিয়ে আশ্বস্ত করা।




