ফ্লাইট চলাকালে সামনের সারিতে একটি ব্যাটারি প্যাকে আগুন ধরে যাওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন এক যাত্রী। ঘটনাটি সামনে এল এমন সময়ে, যখন যুক্তরাজ্যের উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করছে—উড়োজাহাজে আগুনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখন পাওয়ার ব্যাংক ও ভেপ।
পূর্ব সাসেক্সের দুই বোন স্যান্ডি এডওয়ার্ডস ও জ্যাকি রিগস ১৫ অক্টোবর গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে ইতালিগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ছিলেন। উড়োজাহাজটি ছাড়ে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে, তখনো সেটি চ্যানেল পেরোয়নি।
যা ঘটেছিল
বিবিসি রেডিও সাসেক্সকে এডওয়ার্ডস বলেন, ‘সবকিছু ঘটে গেল এত দ্রুত। সামনের ভদ্রলোক চিৎকার শুরু করলেন, আমি ভেবেছিলাম তাঁর প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছে। কিন্তু তারপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন, আর তাঁর ট্র্যাকস্যুটে আগুন।’
‘উঠে দাঁড়াতেই দেখা গেল তাঁর পা পুড়ে গেছে। জ্বলন্ত একটি যন্ত্র তিনি মেঝেতে ছুড়ে ফেললেন।’
কেবিন ক্রুরা আগুন নেভান, যাত্রীদের নির্দেশনা দেন এবং লোকটিকে উড়োজাহাজের পেছনে নিয়ে যান। ফ্লাইটটি গ্যাটউইকে ফিরে আসে, সেখানে তাঁকে দেখেন প্যারামেডিকরা। যাত্রীদের নেওয়া হয় আলাদা করে রাখা একটি গেটে, দেওয়া হয় ধূসর ট্র্যাকস্যুট। এক পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের বলেন, ফ্লাইটে পরা কাপড় উচ্চ তাপে ধোয়ার আগ পর্যন্ত যেন সিল করে রাখা হয়। দুই বোনকে পরে দুপুর ২টার ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি ‘দ্রুত ও নিরাপদে’ সামাল দেওয়ায় ক্রুদের প্রতি তারা ‘অত্যন্ত কৃতজ্ঞ’; দেরির জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে তারা।
কেবিনে রাখার নিয়ম কেন
সিভিল এভিয়েশন অথরিটির রস লিডাল ঝুঁকিটি সহজ করে বলেছেন, ‘অতিরিক্ত গরম হলে বা ত্রুটি দেখা দিলে এগুলো অনেকটা পটকার মতো আচরণ করতে পারে—খুব নাটকীয়, খুব তীব্র তাপ।’
এ কারণেই নিয়ম—এসব যন্ত্র রাখতে হবে কেবিনে, মালপত্রের খোপে নয়। লিডাল বলেন, ‘কেবিন ক্রুরা এ ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, তাঁরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন।’ কার্গো হোল্ডে ব্যাটারিতে আগুন ধরলে তা কারও চোখে পড়ে না; একই ব্যাটারি আসনের নিচে থাকলে কয়েক সেকেন্ডেই সামাল দেওয়া যায়।
আগুন ছাড়াও আছে দ্বিতীয় ঝুঁকি। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের গবেষক গ্যাভিন হার্পার বলেছেন, দ্রুত অবতরণ করা যায় না এমন দীর্ঘ ফ্লাইটে ‘বিষাক্ত ধোঁয়া’ নিয়ে উদ্বেগ যৌক্তিক, কারণ কেবিনের বাতাস বাইরে থেকে আসে না, ঘুরেফিরে ব্যবহৃত হয়।
পরের ফ্লাইটের জন্য যা মানবেন
বাস্তব নিয়মগুলো এর থেকেই আসে। পাওয়ার ব্যাংক, বাড়তি ব্যাটারি, ভেপ ও ল্যাপটপ রাখতে হবে হাতব্যাগে, কখনোই চেক-ইন ব্যাগে নয়। পাওয়ার ব্যাংক ওপরের বিনে না রেখে হাতের নাগালে রাখুন, আর ব্যাগের ভেতরে পুরে রেখে তা দিয়ে চার্জ দেবেন না—সেখানে তাপ বেরোতে পারে না। ফুলে ওঠা, আঘাত লাগা বা অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়া ব্যাটারি প্যাককে শেষ ধরে নিন; বেশির ভাগ দুর্ঘটনার আগে এই লক্ষণগুলোই দেখা যায়।
হার্পার বলেছেন, লিথিয়াম-আয়নই এখনো প্রধান প্রযুক্তি এবং এর ভেতরের কিছু উপাদানের বিকল্প বের করা সত্যিই কঠিন, যদিও পরিচ্ছন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে। সেটি না বদলানো পর্যন্ত ঝুঁকি কমানোর উপায় প্রযুক্তিগত নয়, পদ্ধতিগত—ব্যাটারিটি এমন জায়গায় রাখুন, প্রশিক্ষিত কেউ যেন তা দেখতে পান।
দেশ থেকে যাঁরা যাত্রা করেন, তাঁদের জন্য একটি বাস্তব কথা—অনেক এয়ারলাইনই এখন সঙ্গে নেওয়া পাওয়ার ব্যাংকের ধারণক্ষমতার সীমা বেঁধে দিয়েছে এবং ফ্লাইটে সেটি চার্জ করা নিষিদ্ধ করেছে। এই সীমা দেশভেদে নয়, এয়ারলাইনভেদে আলাদা; তাই যাওয়ার পথে যে নিয়ম ছিল, ফেরার পথে তা না-ও থাকতে পারে।




