প্রযুক্তি জনপ্রিয়

পাসওয়ার্ড না জেনেই যেভাবে অ্যাকাউন্টের দখল নেয় আক্রমণকারীরা

সেশন হাইজ্যাকিং পাসওয়ার্ড তো বটেই, অনেক সময় দুই স্তরের যাচাইও পেরিয়ে যায়। ট্যাব বন্ধ করা আর লগআউট করা এক জিনিস নয়।

পাসওয়ার্ড না জেনেই যেভাবে অ্যাকাউন্টের দখল নেয় আক্রমণকারীরা

অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে বেশির ভাগ পরামর্শই আসলে পাসওয়ার্ড নিয়ে পরামর্শ। অথচ অ্যাকাউন্ট দখলের অন্যতম প্রচলিত উপায়টিতে পাসওয়ার্ডের কোনো ভূমিকাই নেই।

সেশন হাইজ্যাকিং-এ আক্রমণকারী চালু থাকা লগইন সেশনটিই চুরি করে নেয় এবং তা দিয়ে অ্যাকাউন্টে ঢোকে। পাসওয়ার্ড লাগে না, আর নতুন করে কোনো লগইন হয় না বলে আপনাকে সতর্ক করার মতো কিছুও সাধারণত থাকে না।

সেশন কুকি কী

সেশন কুকি হলো ওয়েবসাইটের আপনার যন্ত্রে রাখা ছোট এক টুকরা তথ্য, যাতে প্রতিটি পাতায় নতুন করে পাসওয়ার্ড দিতে না হয়। এটি কার্যত একটি ডিজিটাল চাবি—যার হাতে এটি থাকে, তাকেই আপনি বলে ধরে নেওয়া হয়।

ঠিকভাবে লগআউট করলে সেশন শেষ হয়, চাবিটিও অকেজো হয়ে যায়। সব সময় লগইন করে রাখলে—বা লগআউট না করে শুধু ট্যাব বন্ধ করলে—সেশনটি বহুদিন সচল থেকে যেতে পারে। পুরো সমস্যাটিই এই পার্থক্যে। ট্যাব বন্ধ করাকে বেরিয়ে যাওয়া মনে হয়, কিন্তু তা নয়।

কুকি চুরি হয় কীভাবে

সাধারণত আপনার নিজের যন্ত্র থেকেই, অবিশ্বস্ত সফটওয়্যার নামানোর পর বসে যাওয়া ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে। এ ধরনের ম্যালওয়্যারের নাম আছে—ইনফোস্টিলার, যা বানানোই হয় সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড, সেশন কুকি ও অন্যান্য স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নিতে। এটি ব্রাউজারে চালু থাকা কুকিগুলো খুঁজে বের করে আক্রমণকারীর কাছে পাঠায়, আর সেগুলো বসিয়ে দিলেই সে সেশনের ভেতরে।

৫২০ কোটি চুরি যাওয়া কুকি
নর্ডভিপিএনের হিসাবে, জুন পর্যন্ত এক বছরে অনলাইনে ছড়ানো চুরি যাওয়া তথ্যে পাওয়া গেছে। সেশন কুকি কাজ করে পাসওয়ার্ড ছাড়াই। গ্রাফিক: টেক বিডি।

আকারটা ছোট নয়। নর্ডভিপিএনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মারিয়ুস ব্রিয়েদিস বলছেন, কুকি এখন হ্যাকারদের বড় লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠানটি জুন পর্যন্ত এক বছরে অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা চুরি যাওয়া তথ্যে ৫২০ কোটি কুকি পেয়েছে।

বুঝবেন কীভাবে

অনেক সময় বুঝবেনই না, অন্তত শুরুতে। লক্ষণগুলো সতর্কবার্তা নয়, বরং ফলাফল—আপনার নামে বার্তা যাওয়া, পরিচিতদের কাছে টাকা চাওয়া, বিশ্বাসী মানুষদের কাছে প্রতারণামূলক লিংক যাওয়া, ব্যাংকিংয়ে অননুমোদিত প্রবেশ, কেনাকাটার অর্ডার বা ঠিকানা বদলে যাওয়া, সংরক্ষিত পেমেন্ট তথ্য দিয়ে কেনাকাটা। কখনো ওয়েবসাইট আপনাকে অ্যাকাউন্ট বদলের চেষ্টার কথা জানায়—তবে সব সময় নয়।

অ্যাকাউন্টের আগে যন্ত্রেই লক্ষণ ফুটতে পারে। হঠাৎ ধীরগতি, দ্রুত চার্জ ফুরানো, বারবার আটকে যাওয়া, হঠাৎ অন্য সাইটে চলে যাওয়া, বারবার পপ-আপ বা হোমপেজ বদলে যাওয়া—সবই ইনফোস্টিলার চালু থাকার সঙ্গে মেলে।

আসলে কাজে লাগে যা

কী ইনস্টল করছেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, ব্রাউজার এক্সটেনশনসহ, বিশেষ করে অচেনা উৎস থেকে—এই ধাপটিই বাকি সব ঠেকায়। কাজ শেষে ট্যাব বন্ধ না করে লগআউট করুন। ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড জমা রাখবেন না, আলাদা পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। নিয়মিত কুকি মুছে ফেলুন, এতে চুরি হওয়ার মতো কুকির সংখ্যা কমে। ব্যাংকিংয়ের জন্য অনিরাপদ পাবলিক ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলুন, যদিও সেখানে সরাসরি কুকি চুরির ঝুঁকি অন্য উপায়গুলোর চেয়ে কম।

দুই স্তরের যাচাই (এমএফএ) চালু রাখুন। তবে এর সীমা নিয়ে সৎ থাকা দরকার—চুরি যাওয়া সেশন কুকি কখনো কখনো এমএফএ পেরিয়ে যেতে পারে, কারণ সেশনটি আগেই যাচাই হয়ে আছে। তবু শুধু পাসওয়ার্ডনির্ভর অনেক বড় একটি শ্রেণির আক্রমণ এতে বন্ধ হয়।

সন্দেহ হলে কী করবেন

প্রথমে অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করুন—ম্যালওয়্যার যন্ত্রে থেকে গেলে বাকি সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে। এরপর সব যন্ত্র থেকে লগআউট করুন, এতে চুরি যাওয়াটিসহ সব সচল সেশন বাতিল হয়। পাসওয়ার্ড বদলান। অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিংস থেকে অচেনা যন্ত্র সরিয়ে দিন। টাকার বিষয় জড়িত থাকলে কারণ নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা না করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকে যোগাযোগ করুন।

সূত্র: প্রথম আলো, দ্য গার্ডিয়ান

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।