ব্লগ, প্রবন্ধ, ই-মেইল, সংবাদপত্রের কলাম আর গবেষণাপত্রের একটি অংশ এখন লিখছে এআই, আর লিখছে এতটাই সাবলীলভাবে যে ফলাফলের দায় কার—এ প্রশ্নটি আর তাত্ত্বিক নেই।
গত মাসে ওপেনএআই দীর্ঘদিনের জটিল গাণিতিক সমস্যা নিয়ে শত শত গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে এবং সেগুলোতে এআইকেই একমাত্র লেখক দেখিয়েছে, কোনো মানুষের নাম রাখা হয়নি। একাধিক গবেষক ও গণিতবিদ বলেছেন, অনেক প্রমাণই তাঁরা বুঝতে পারেননি।
এই সমন্বয়টিই কেন সমস্যা
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সেসের জৈবনীতিবিদ ডেভিড রেসনিক আপত্তিটি সহজ করে বলেছেন—মানুষ যদি কাজটি না-ই বোঝে, তবে নৈতিকভাবে তারা এর দায় নিতে পারে না।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একাডেমিক প্রকাশনায় লেখকস্বত্ব মানেই তো দায়। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব মেডিকেল জার্নাল এডিটরস-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন লেখককে গবেষণার পরিকল্পনা, উপাত্ত বিশ্লেষণ আর লেখা যাচাইয়ের জবাব দিতে পারতে হবে। তাই জার্নাল ও প্রিপ্রিন্ট সার্ভারগুলো এআইকে লেখক হিসেবে দেখানো সরাসরি নিষিদ্ধ করেছে—মান নিয়ে বিচার করে নয়, বরং একটি মডেল কোনো দায় বহন করতে পারে না বলে।

যেসব সমাধানের কথা উঠছে
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জৈবনীতিবিদ ব্রায়ান আর্প মনে করেন, লেখকস্বত্বের সংজ্ঞাটিই হয়তো বদলাতে হবে। তাঁর প্রস্তাব, অন্তত একজন মানুষ সনদদাতা লেখক হিসেবে থাকুন, যিনি চূড়ান্ত ফলাফল যাচাই করবেন।
রেসনিকের অবস্থান আরও কড়া—এআই কী করেছে তা মানুষ বুঝতে না পারলে গবেষণাপত্রটি প্রকাশই করা উচিত নয়, আর বিজ্ঞানীদের উচিত শেষে পর্যালোচনা না করে ধাপে ধাপে কাজটি তদারক করা।
পিএলওএস-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভেরোনিক কিয়েরমার উল্টো দিক থেকে একটি বাস্তব সতর্কতা যোগ করেছেন। এআই ব্যবহারের কথা জানানো নীতিগতভাবে ঠিক, কিন্তু সামান্য বানান বা ভাষা সম্পাদনার জন্যও তা বাধ্যতামূলক করা অর্থহীন—যে নিয়ম ব্যাকরণ পরীক্ষা আর স্বয়ংক্রিয় প্রমাণকে এক করে দেখে, সে নিয়ম কেউ মানবে না।
ওপেনএআই নিজে অবশ্য এই গবেষণাপত্রগুলোর একাডেমিক কৃতিত্ব দাবি করছে না; বরং বিজ্ঞানীদের তারা অনুরোধ করেছে এআইয়ের তৈরি গবেষণা পর্যালোচনা করে বুঝে নিতে।
গণিতের বাইরেও কেন গড়ায়
প্রমাণ নিয়ে তর্ক করা সবচেয়ে কঠিন, আবার যাচাই করা সবচেয়ে সহজ—কারণ একটি প্রমাণ হয় বৈধ, নয়তো নয়। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে ফলাফল সম্ভাব্যতানির্ভর এবং ভুল নিজে থেকে ধরা পড়ে না, সেখানে একই প্রশ্ন অনেক বেশি জটিল হয়ে ওঠে—ক্লিনিক্যাল গবেষণা যার স্পষ্ট উদাহরণ, আর সে কারণেই চিকিৎসা সম্পাদকদের নিয়মগুলোই বারবার উদ্ধৃত হচ্ছে।
দেশের গবেষক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর নিয়মটি বদলায়নি, আর তা স্পষ্ট করে বলা দরকার—এআই লেখক হতে পারে না, এর ব্যবহারের কথা জানাতে হবে, আর গবেষণাপত্রে যাঁর নাম আছে তিনিই এর প্রতিটি লাইনের জন্য জবাবদিহি করবেন। সনদদাতা লেখকের ধারণাটি গৃহীত হলেও তা এই দায় হালকা করবে না—বরং স্পষ্ট করবে।
নিয়ম আসলে কোথায় কামড় বসাবে
এআই ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়ার নীতি লেখা সহজ, কার্যকর করা কঠিন—কারণ তৈরি হয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কীভাবে লেখা হয়েছে। কার্যকর রূপটি জমা দেওয়ার সময়ের ঘোষণা নয়, বরং পর্যালোচনার সময়ের শর্ত—লেখককে কাজের যেকোনো ধাপ ব্যাখ্যা করতে বলা যাবে এবং তার জবাব দিতে হবে। এই পরীক্ষায় এআই শনাক্ত করার দরকারই নেই। যিনি নিজের সইয়ের হিসাব দিতে পারেন না, তিনি এমনিতেই আটকে যান।
গাণিতিক গবেষণাপত্রগুলো এই পরীক্ষাতেই আটকাত—আর সে কারণেই সেগুলো প্রশ্নটিকে মীমাংসা না করে বরং সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।




