অনুমতি ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রমাণ পেয়ে মার্কিন এক জুরির রায়ে ৫৭০ কোটি ডলার (৪৩০ কোটি পাউন্ড) ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে অ্যাপলকে।
অভিযোগটি
অডিও প্রতিষ্ঠান ট্যাকশন টেকনোলজি ২০২১ সালে দাবি করে, হ্যাপটিকস ব্যবস্থার তাদের দুটি পেটেন্ট লঙ্ঘন করেছে অ্যাপল—যে প্রযুক্তি বার্তা আসা বা বোতাম চাপার মতো কাজে কম্পন তৈরি করে। এটি আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচসহ বিভিন্ন যন্ত্রে রয়েছে।
অ্যাপল জানিয়েছে, তারা ট্যাকশনের কম্পন প্রযুক্তি ব্যবহার করেনি এবং আপিল করবে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, "বিবেচনার জন্য জুরিকে ধন্যবাদ জানালেও আজকের রায় ও নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের সঙ্গে আমরা তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করছি, যা তথ্যপ্রমাণে একেবারেই সমর্থিত নয়। অ্যাপলের ট্যাপটিক ইঞ্জিন ট্যাকশনের প্রযুক্তি থেকে মৌলিকভাবেই আলাদা, আর বিচার চলাকালে অ্যাপলের পণ্য নিয়ে ট্যাকশনের নিজের পরীক্ষাই তা নিশ্চিত করেছে।"
হ্যাপটিকস কম্পনের মাধ্যমে স্পর্শের অনুভূতি তৈরি করে যন্ত্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া সহজ করে—ছোট, নিখুঁত সেই ধাক্কা, যা ভার্চুয়াল বোতামকে সত্যিকারের চাপার মতো অনুভব করায়।
বাংলাদেশে এর মানে কী
শিরোনামের সংখ্যাটি ভুল পাঠের দিকে টানে। ৫৭০ কোটি ডলার নিরঙ্কুশ হিসেবে বিশাল, আর অ্যাপলের নগদের তুলনায় ছোট; আপিলে অঙ্কটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই কমবে বা মিলিয়ে যাবে, এ আকারের জুরি-রায়ে সাধারণত যা হয়। টিকে থাকে মূল কথাটি, আর বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, সেদিকেই এগোচ্ছে।
এখানে যা নিয়ে লড়াই, তা কোনো পণ্য নয়। তা হলো একটি যন্ত্রাংশকে নির্দিষ্টভাবে আচরণ করানোর পদ্ধতি—কম্পন কীভাবে তৈরি হয় তার পেটেন্ট, যে ফোনে তা বসানো তার নয়। ভোগ্যপণ্যের ইলেকট্রনিকস সংযোজন করা বাংলাদেশি কোনো নির্মাতা কিংবা যন্ত্র নকশা করা কোনো হার্ডওয়্যার স্টার্টআপ এই ঝুঁকি উত্তরাধিকারসূত্রে পায় ঠিক তখনই, যখন সে পেটেন্ট কার্যকর হয় এমন কোনো দেশে বিক্রি করে।
এ থেকে তিনটি কথা। বাংলাদেশের নিজের পেটেন্ট ব্যবস্থা দেশি প্রতিষ্ঠানেরা কম ব্যবহার করে আর তা ধীরও; অর্থাৎ বাংলাদেশি উদ্ভাবন সাধারণত সেসব জায়গায় অরক্ষিত, যেখানে তা গুরুত্বপূর্ণ—সুরক্ষা ভৌগোলিক, তাই এখানে আবেদন করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউতে কিছুই হয় না। দ্বিতীয়ত, এশিয়ার বেশির ভাগ রপ্তানিকারকের কাছে স্বাভাবিক চর্চা হলেও ‘ফ্রিডম টু অপারেট’ যাচাই ছোট বাংলাদেশি হার্ডওয়্যার প্রতিষ্ঠানে প্রায় অচেনা; লঙ্ঘন করছেন কি না তা জানার সবচেয়ে সস্তা সময় ছাঁচ বানানোর আগে, শুল্ক কর্তৃপক্ষের জব্দ করার পর নয়।
তৃতীয় ও সবচেয়ে ব্যবহারিক কথা: বিদেশি ক্রেতার নকশায় উৎপাদন করলে ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি লিখিতভাবে নিন। নকশা যখন তাঁদের আর লঙ্ঘনের দাবি এসে পড়ে, তখন কে দেবে তা ঠিক করে চুক্তি—ধারণাটি কার ছিল তা নয়। নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আদালত এই পার্থক্যে আগ্রহী হবে না।
একই নীতি, কম্পন মোটরের বদলে স্যান্ডেল নিয়ে, আছে নকলের দাম ঠিক করে দেওয়া ডাচ আদালতের খবরে।




