অ্যাপল স্বীকার করেছে, তাদের কিছু আইফোন ডুও ফোনের পর্দায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোনটি বাজারে এসেছিল ২৩ অক্টোবর, তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই অভিযোগ।
অ্যাপল জানিয়েছে, ‘অল্পসংখ্যক’ ফোনের ‘ভেতরের ডিসপ্লেতে একটি সমস্যা’ সম্পর্কে তারা অবগত, আর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের ফোন বদলে নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ব্যবহারকারীরা যা বলছেন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে পর্দাজুড়ে রেখা দেখা যাচ্ছে। কেউ দিয়েছেন পর্দার মাঝখানের ভাঁজ বরাবর লম্বা ফাটলের ছবি, কেউ পর্দার একাংশে ভাঙা বা চিপ উঠে যাওয়ার, আর কারও ফোনে ডান পাশজুড়ে উজ্জ্বল রেখা—যা ব্যবহারকারীরা বলছেন ডেড পিক্সেলের কারণে। কয়েকজন জানিয়েছেন, ফোন খোলার সময় একটি কড়মড় বা ‘পপ’ শব্দ হয়।
বর্ণনার ক্রমটি মিলে যাচ্ছে: ভাঁজ খোলার সময় প্রথমে কবজায় অস্বাভাবিক শক্তভাব, এরপর একটি শব্দ, তারপর ফাটল। কারও কারও দাবি, স্বাভাবিক ব্যবহারেই ফোন কেনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি ঘটেছে। ব্যবহারকারীরা সমস্যাটির নাম দিয়েছেন ক্র্যাকগেট।
রেডিটে একজন লিখেছেন, ফোন কেনার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই পর্দা ফেটে যায়; এর আগে তিনি ফোনটি বড়জোর ২০ বার খুলেছিলেন, তারপর হঠাৎ একটি ‘পপ’ শব্দ শোনেন। আইফোন ডুও ব্যবহারকারী জাস্টিন লোকোস ডিসপ্লের ডান পাশে রেখাযুক্ত একটি ফোনের ছবি দেন, পরে ভাঙা ফোনের পাশে নতুন একটি ফোনের ছবি দিয়ে নিউইয়র্কের একটি অ্যাপল স্টোরকে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
দুটি সতর্কতা, একটি অস্বাভাবিক
সমস্যাটি কত বড়, তা এখনো অস্পষ্ট। কতগুলো ফোন ক্ষতিগ্রস্ত, অ্যাপল তা বলেনি।
আর এখানেই সেই মোচড়, যা এটিকে কেবল কবজার গল্পের চেয়ে বড় করে তোলে: বিবিসি উল্লেখ করেছে, ত্রুটিপূর্ণ ফোন দেখানো কিছু ছবি এআই দিয়ে বানানো হতে পারে। পণ্যের ত্রুটির প্রতিবেদন এখন এমন এক ধরনের বিষয়বস্তু, যা বিশ্বাসযোগ্যভাবে বানিয়ে ফেলা সম্ভব—আর এটি দুই দিকেই কাটে: সত্যিকারের ত্রুটিকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দেওয়া যায়, আবার ভুয়া ত্রুটিকে আসল বলে ছড়িয়ে দেওয়াও যায়। আজ সকালেই আমরা লিখেছি, ঝড়ের আসল ছবিকে এআইয়ের বানানো বলে অভিযোগ করা হচ্ছে; সেই একই ক্ষয় এখন পৌঁছেছে পণ্য-সাংবাদিকতায়।
আইডিসির প্রযুক্তি বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেছেন, তাই পুরো উৎপাদন ব্যাচ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সতর্কতা দরকার। তবে তিনি যোগ করেছেন, প্রাথমিক অভিযোগগুলো এটিও দেখায় ‘যে অ্যাপলের মতো প্রকৌশল সামর্থ্য ও সরবরাহ-শৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠানকেও ভাঁজযোগ্য ফোনে খাড়া একটি শেখার পথ পেরোতে হয়’।

কবজার সমস্যা নতুন নয়
ডুওর ৭.৬ ইঞ্চি (১৯.৩ সেন্টিমিটার) ভেতরের ডিসপ্লে ধরে রাখে একটি কেন্দ্রীয় কবজা—প্রকৌশলের জটিল একটি অংশ, যা অ্যাপলের প্রতিযোগীদের ভাঁজযোগ্য যন্ত্রেও একই ধরনের ত্রুটি তৈরি করেছে। স্যামসাংয়ের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন গ্যালাক্সি ফোল্ড ২০১৯ সালে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল, যখন রিভিউয়াররা পর্দা ভেঙে যাওয়ার কথা জানান।
অ্যাপলের দাবি, ডুওর কবজা এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে পর্দার মাঝখানে ভাঁজের দাগ কম থাকে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও ফোনটি নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে। বাজারে আসার কয়েক দিনেই ফাটল দেখা দেওয়া সেই দাবিকে চাপে ফেলেছে।
বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই কঠিন অংশ
সমস্যাটি সরবরাহে। অনলাইনে সব রং ও স্টোরেজের সংস্করণ বিক্রি হয়ে গেছে, আর এখন নতুন অর্ডার দিলে ২২ জানুয়ারির আগে ফোন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ ফোন বদলে পাওয়ার অধিকার থাকলেও গ্রাহককে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে—আর তা-ও ৩০ অক্টোবর আরও ২৮টি বাজার খোলার আগের হিসাব।
জেরোনিমো একই কথা বলেছেন ব্যবসার দিক থেকে: ‘অ্যাপলের অনুগত গ্রাহকগোষ্ঠী আছে, আছে এমন বিক্রয় নেটওয়ার্ক যা তৎক্ষণাৎ যন্ত্র বদলে দিতে পারে; কিন্তু ৩০ অক্টোবর আরও ২৮টি বাজার চালু হতে যাওয়ায় তাদের ওয়ারেন্টির অবস্থান দ্রুত স্পষ্ট করা দরকার।’
যুক্তরাজ্যে ডুওর দাম শুরু ১,৯৯৯ পাউন্ড (২,৬৬৮ ডলার) থেকে, সর্বোচ্চ সংস্করণে ৩,১৯৯ পাউন্ড পর্যন্ত—অর্থাৎ এটিই সবচেয়ে দামি আইফোন। প্রায় দুই দশকে এটিই আইফোনের প্রথম বড় নকশা-পরিবর্তন, উন্মোচন করেছেন নতুন প্রধান নির্বাহী জন টারনাস, যিনি সেপ্টেম্বরে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। গত মাসে অ্যাপলের ক্যালিফোর্নিয়া সদর দপ্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘অন্যরা এমন ভাঁজযোগ্য বানিয়েছে, যা দেখে মনে হয় দুটি ফোন কষ্ট করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে’—আর ডুও ‘ভাঁজযোগ্য ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে নতুন করে নির্ধারণ করবে’।
বাংলাদেশে কিনতে চাইলে
তিনটি ব্যবহারিক কথা। ডুও এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি, তাই গ্রে-মার্কেট থেকে কেনা ফোনে ঠিক এই ধরনের ভেতরের ডিসপ্লের ত্রুটির জন্য অ্যাপলের ওয়ারেন্টির কোনো পথ থাকবে না—আর এটি এমন ত্রুটি, যাতে মেরামত নয়, ফোন বদলে নেওয়াই দরকার।
দ্বিতীয়, আনুষ্ঠানিকভাবে কিনলে পড়ার জিনিস ওয়ারেন্টির শর্ত। আইফোন ১৮ যখন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এসেছিল, তখন শিল্ড+ প্যাকেজে ছিল দ্বিতীয় বছরের বাড়তি ওয়ারেন্টি, আর তাতে সামনের পর্দা একবার এবং পেছনের কাচও একবার বদলে নেওয়ার সুবিধা রাখা হয়েছিল। এমন কোনো প্যাকেজ ভাঁজযোগ্য ভেতরের ডিসপ্লে কভার করে কি না—প্রশ্নটি টাকা দেওয়ার আগে করার, পরে নয়।
তৃতীয়, সোজা কথাটি: অপেক্ষা করুন। বাজারে আসার চার দিনের মধ্যেই কবজার সমস্যা প্রকাশ্যে—প্রথম প্রজন্মের ভাঁজযোগ্য যন্ত্রে অন্য কাউকে আগে যেতে দেওয়ার এটিই পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ। অ্যাপল আজ নতুন ম্যাকও দেখাচ্ছে, তাই দেখার আরও অনেক কিছু থাকবে—ওই আয়োজনে কী আশা করা হচ্ছে, গত সপ্তাহেই আমরা তা নিয়ে লিখেছি।




