প্রযুক্তি

পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা আর দর-কষাকষিতে থাকা তিন প্রতিদ্বন্দ্বী মিলে লিখতে চায় সেই নিরাপত্তার নিয়ম, যা দিয়ে তাদেরই বিচার হবে

গুগল, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক গড়ছে স্বাধীন একটি সংস্থা, প্রাথমিক নাম সাফা। প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগাযোগ করা হয়েছে হোয়াইট হাউসের সাবেক এআই নীতি উপদেষ্টার সঙ্গে।

পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা আর দর-কষাকষিতে থাকা তিন প্রতিদ্বন্দ্বী মিলে লিখতে চায় সেই নিরাপত্তার নিয়ম, যা দিয়ে তাদেরই বিচার হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিরাপত্তায় যৌথভাবে একটি স্বাধীন সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে গুগল, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক। সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু হতে পারে চলতি বছরের শেষে অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে।

প্রস্তাবটি কী

সংস্থাটির প্রাথমিক নাম দেওয়া হয়েছে সাফা—স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি ফর ফ্রন্টিয়ার এআই। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে হোয়াইট হাউসের সাবেক এআই নীতি উপদেষ্টা শ্রীরাম কৃষ্ণনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি সাফা তিন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া এআই নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যালোচনা করে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে। বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত করার আগে উন্নত মডেলের নিরাপত্তা যাচাইয়েও নির্মাতাদের সহায়তা করবে। সংস্থাটি কেবল মানদণ্ড তৈরি করবে, নাকি নিজেই মডেলের নিরাপত্তা পরীক্ষা করবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে; আর এটিই মূল প্রশ্ন।

ধারণাটি একেবারে নতুন নয়। গত জুলাইয়ে গুগল ডিপমাইন্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও অ্যালফাবেটের প্রধান বিজ্ঞানী ডেমিস হাসাবিস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি এআই মান নির্ধারণকারী সংস্থার প্রস্তাব দিয়েছিলেন; তিনি বলেছিলেন, এটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কিংবা শিল্পের স্বনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়া যেতে পারে।

এআইয়ের বাজারে আধিপত্যের জন্য তিন প্রতিষ্ঠান তীব্র প্রতিযোগিতায় আছে, আর একই সময়ে উন্নত মডেলের নিরাপত্তা ও সাইবার ঝুঁকি নিয়ে তাদের ওপর চাপও বাড়ছে। এই দুইয়ের মিলই এখন এটি ঘটার কারণ।

বাংলাদেশে এর মানে কী

কোনো শিল্পের নিজের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আপনাআপনি কেলেঙ্কারি নয়। হিসাববিজ্ঞানের মান, উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাচর্চা আর ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনার বড় অংশ এভাবেই গড়া, আর সেগুলো মোটামুটি কাজও করে—যখন সংস্থাটির ‘না’ বলার ক্ষমতা থাকে, আর ‘না’ বললে সদস্যরা বেরিয়ে যেতে পারে না।

এখানে কোনো শর্তই নিষ্পন্ন নয়। সাফার নকশা করছে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোই, যাদের তদারক করার কথা; অর্থও তাদের, আর যে কেউ যেকোনো সময় বেরিয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে অমীমাংসিত প্রশ্নটি—মানদণ্ড লেখা নাকি সত্যিকারের পরীক্ষা—ঠিক সেই পার্থক্য, যা একটি শিল্প-সমিতি আর একটি নিয়ন্ত্রকের মধ্যে থাকে।

বাংলাদেশের জন্য পরিণতিটি বাস্তব: সাফা যা ঠিক করবে, তা-ই কার্যত বৈশ্বিক মান হয়ে যাবে—কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো মান নেই; আর বাংলাদেশ তা পুরোটাই আমদানি করবে ক্রয়ের নথিতে ও বিক্রেতার আশ্বাসে। ফ্রন্টিয়ার মডেল স্বাধীনভাবে মূল্যায়নের সক্ষমতা এ দেশের নেই, হবেও না। এটি সমালোচনা নয়; প্রায় কোনো দেশেরই তা নেই।

বাংলাদেশ যা করতে পারে, তা আরও সরু আর করার মতো। সদস্যপদ নয়, প্রমাণ চান। কোনো বিক্রেতার "আমরা সাফার মান মেনে চলি" একটি দাবি, পরীক্ষার ফল নয়। এ দেশে সরকারি ও ব্যাংকের ক্রয়ে চাওয়া উচিত প্রকৃত মূল্যায়নটি—কে করেছে, আর মডেলের কোন সংস্করণের ওপর; নিরাপত্তা নিরীক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষ যেকোনো ক্রেতা যে শৃঙ্খলা প্রয়োগ করেন, সেটিই।

সময় নিয়েও একটি কথা। ২০২৬ ও ২০২৭ সালে তিনটি মার্কিন কোম্পানির লেখা নিয়ম পরে আবার খোলা খুব কঠিন হবে। ওই ঘরের বাইরের দেশগুলো যে মান তাদের দেওয়া হয়, তা-ই পায়। আঞ্চলিক জোট, জাতিসংঘের প্রক্রিয়া কিংবা আইটিইউর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান নথিভুক্ত করার যে ছোট জানালাটি আছে, তা এখন খোলা—আর খোলা থাকবে না।

যে ঘটনা এটিকে জরুরি করেছে, তা আছে ওপেনএআইয়ের তৈরি মডেল আটকে দেওয়ার খবরে, আর বাণিজ্যিক জবাবটি এনভিডিয়ার রেলিংয়ে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।