প্রযুক্তি

মেটার কেনাকাটার এজেন্টকে দরজা বন্ধ করল অ্যামাজন, আর ঘণ্টায় ৩০০ টেবিল বুক করায় অ্যাকাউন্ট আটকাল রিজার্ভেশন সাইট

মেটার মিউজ নামানো হয়েছে ২৫ লাখ বার, অংশীদার ওয়ালমার্ট, সেফোরা ও এক্সপিডিয়া। অ্যামাজন একে সরাসরি আটকে দিয়েছে। লড়াইটি ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্ক কার থাকবে তা নিয়ে।

মেটার কেনাকাটার এজেন্টকে দরজা বন্ধ করল অ্যামাজন, আর ঘণ্টায় ৩০০ টেবিল বুক করায় অ্যাকাউন্ট আটকাল রিজার্ভেশন সাইট

গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলছেন, এআই এজেন্ট কী করতে পারে তা ভোক্তাদের দেখাতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশি আগ্রহী ছিল মেটা। "মিউজ নিয়ে মেটা যতটা সরব, কেনাকাটায় এজেন্ট ব্যবহারের কথা অন্যরা ততটা বলেনি।" মিউজ নামানো হয়েছে ২৫ লাখেরও বেশি বার, আর মেটা অংশীদারত্ব করেছে ওয়ালমার্ট, গেমস্টপ, সেফোরা, এক্সপিডিয়া, ওপেনটেবল ও শপিফাইয়ের সঙ্গে।

অ্যামাজন বলল না

অ্যামাজন এজেন্টটিকে আটকে দিয়েছে; তাদের বক্তব্য, মিউজের মাধ্যমে তাদের দোকান পাওয়া যাবে কি না—সে বিষয়ে তাদের কোনো আগাম খবর বা পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অ্যামাজনের অ্যাকাউন্টের তথ্য ও পরিচয়পত্র কীভাবে সামলানো হবে তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে তারা; সঙ্গে বলেছে, এজেন্টে অ্যামাজনের ব্যক্তিগতকৃত সুপারিশ থাকে না।

অ্যামাজনের ভাষ্য, "আমাদের মনে হয় বিষয়টি বেশ সরল—যেসব তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্রেতার হয়ে কেনাকাটার প্রস্তাব দেয়, তাদের খোলাখুলি চলা উচিত এবং অংশ নেবে কি না সে বিষয়ে সেবাদাতার সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।"

রিজার্ভেশন প্ল্যাটফর্ম রিজি জানিয়েছে, তারা "অনুমোদনহীন তৃতীয় পক্ষের বট বা এজেন্টকে বর্তমানে অনুমতি দেয় না"; আলাদা একটি সহকারী ঘণ্টায় শত শত টেবিল বুকের চেষ্টা করলে তারা এক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট আটকে দেয়।

আসলে লড়াই কী নিয়ে

নিরাপত্তা নিয়ে নয়। ট্রাফিক আর তথ্য নিয়ে। কাজগুলো যদি এজেন্টের অ্যাপের ভেতরেই সারা হয়, ব্র্যান্ডরা হারায় সেই ব্রাউজিং-আচরণ যা থেকে তারা শেখে, সেই প্রচার যা দিয়ে তারা বাড়তি বেচে, আর সেই সম্ভাবনা—একটি জিনিস খুঁজতে আসা ক্রেতা তিনটি কিনে ফেলার। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক মনদীপ সিং বলছেন, "আপনি অ্যামাজনে যা খুঁজছেন তা দেখতে যান, কিন্তু সঙ্গে আরও কিছু চোখে পড়ে, যা শেষমেশ কিনেও ফেলতে পারেন।" মার্ক জাকারবার্গ আরও বলেছেন, মিউজের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনে মেটা একসময় কমিশন নেবে।

সবাই অবশ্য বাধা দিচ্ছে না। এক্সপিডিয়া এজেন্টদের অনুমতি দিচ্ছে, কারণ তারা চায় "ভ্রমণকারীরা যেখানেই খুঁজুন, সেখানেই থাকতে"।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশের ই-কমার্সে এখনো কেনাকাটার এজেন্টরা ঘুরছে না। ঘুরবে; আর খাতটির অবস্থান ঠিক করা উচিত ঘটনার পরে নয়, আগেই—কারণ এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে উল্টানো কঠিন।

অনুমতি দেওয়ার পক্ষে যুক্তিটি এক্সপিডিয়ার: এজেন্ট একটি নতুন তাক, আর ছোট বাংলাদেশি বিক্রেতার কাছে এমন ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর অন্য কোনো পথ নেই—যিনি তাঁর সাইট কখনো খোলেনই না। বিপক্ষের যুক্তিটি অ্যামাজনের: এজেন্ট নিয়ে নেয় সম্পর্ক, তথ্য আর একসময় কমিশন; বিক্রেতা হয়ে যান স্রেফ একটি গুদাম।

ওই পছন্দ যা-ই হোক, দুটি ব্যবহারিক কথা এখনই খাটে। প্রথমত, রিজির ঘটনাটিই পরিচালনগত শিক্ষা—ঘণ্টায় শত শত বুকিংয়ের চেষ্টা করা এজেন্ট আর আক্রমণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; আর বাংলাদেশের বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্মে এমন কোনো রেট লিমিটিং নেই যা এটি সামলাতে পারত। এজেন্ট আসুক বা না আসুক, এটি এ প্রান্তিকেই ঠিক করার মতো—কারণ বট-নির্ভর প্রতারণা এই ফাঁকটিই কাজে লাগায়।

দ্বিতীয়ত, পরিচয়পত্রের প্রশ্ন। রিজিতে মিউজ কাজ করেছে কেবল তখনই, যখন একজন ব্যবহারকারী ফোন নম্বর আর নিশ্চিতকরণ কোড দিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের যে সেবা ক্রেতাকে সফটওয়্যারের সঙ্গে ওটিপি ভাগ করতে দেয়, সে বৈধ সেশন আর চুরি যাওয়া সেশনের পার্থক্য করার ক্ষমতাই হারায়—আর যে বাজারে বিকাশ ও নগদের ওটিপি প্রতারণা মহামারির মতো, সেখানে সহকারীকে কোড দেওয়ার অভ্যাসকে স্বাভাবিক বানানো সত্যিই বিপজ্জনক শিক্ষা।

সূত্র: CNN

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।