বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ধরে নিয়েছে, এআই দিয়ে মানুষের পরের কাজটি হবে প্রশ্ন করা নয়, বরং দৈনন্দিন কাজ সেরে ফেলা—বাজার করা, পার্সেল ফেরত পাঠানো, বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওপেনএআই, মেটা ও অ্যানথ্রপিক সেই বাজি ধরেই এনেছে নিজেদের এজেন্ট: ডটস, মিউজ ও ক্লড ডুয়েট।
প্রকাশিত একমাত্র সংখ্যাটি
মেটা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ৪০ দিনে মিউজের ডাউনলোড পৌঁছেছে ১ কোটিতে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ার বলছে, এত দ্রুত এই মাইলফলক ছোঁয়া অ্যাপের সংখ্যা হাতে গোনা।
মিউজ কী করতে পারে, সে বিষয়ে মেটার দেওয়া উদাহরণগুলো বেশ ঘরোয়া—ইনস্টাগ্রামে দেখা রেসিপি থেকে বাজারের তালিকা বানানো, ব্যায়ামের পরিকল্পনা তৈরি, পরিবারের কুইজ-সন্ধ্যার আয়োজন।

ডাউনলোড কেন সবচেয়ে দুর্বল ‘বড়’ সংখ্যা
চল্লিশ দিনে এক কোটি ডাউনলোড বিতরণের দিক থেকে সত্যিকারের অর্জন। আবার এই মাপকাঠিটিই সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেয় মেটার মতো বিশাল ব্যবহারকারী-ভিত্তি থাকা প্রতিষ্ঠানকে, কারণ ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের ভেতরে বিজ্ঞাপন দিয়ে কাউকে অ্যাপ ইনস্টল করানোর খরচ স্বাধীন কোনো নির্মাতার খরচের সমান নয়।
ডাউনলোড যা বলে না, তা হলো কেউ জিনিসটি দ্বিতীয়বার ব্যবহার করেছেন কি না। যে সহকারীর মূল্য আপনার অভ্যাস শিখতে শিখতে বাড়ার কথা, তার ক্ষেত্রে ধরে রাখার হারই একমাত্র অর্থবহ সংখ্যা—আর তিন প্রতিষ্ঠানের কেউই সেটি প্রকাশ করেনি।
যে অংশটি সত্যিই নতুন, এবং সত্যিই কঠিন
প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এজেন্ট ভুল করলে আপনার সময় নষ্ট হয়। কাজ করে দেওয়া এজেন্ট ভুল করলে আপনার টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে, ভুল মানুষকে ই-মেইল চলে যেতে পারে, কিংবা ভুল শহরে ভুল রাতের বুকিং হয়ে যেতে পারে।
পার্থক্যটি তাত্ত্বিক নয়। গত কয়েক মাসে নথিভুক্ত ঘটনা আছে, যেখানে এজেন্ট কাজ করেছে এমন জায়গায় যেখানে তাকে চাওয়া হয়নি—এক বিক্রেতা অন্য প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটার এজেন্টকে আটকে দিয়েছে, এজেন্ট পৌঁছে গেছে এমন ব্যবস্থায় যা পরিচালকেরা চাননি, আর নিরাপত্তা গবেষকেরা দেখিয়েছেন সাইন-ইন করা অবস্থায় থাকা এজেন্টকে দিয়ে কী করানো সম্ভব।
প্রতিষ্ঠানগুলো এটি জানে, তাই পণ্যগুলো আসছে নানা নিশ্চিতকরণের ধাপসহ। কিন্তু প্রতিটি কাজের জন্য নিশ্চিতকরণ চাইলে এজেন্ট নিজে করার চেয়ে দ্রুততর থাকে না—আর বাণিজ্যিক চাপ সেই ধাপগুলো রাখার বিপক্ষেই যায়।
নিচে থাকা প্রশ্নটি
যে প্রতিবেদন অবলম্বনে এই লেখা, তাতে সিএনএন পাঠকদের জিজ্ঞাসা করছে—তাঁদের এজেন্ট আসলে তাঁদের সম্পর্কে কতটা জানে, আর তারা কতটা মনে রাখে সে বিষয়ে তাঁরা সচেতন কি না। প্রশ্নটি ঠিক জায়গাতেই; আর একটি সংবাদকক্ষকে এ প্রশ্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর বদলে ব্যবহারকারীদের করতে হচ্ছে—এটিই এক অর্থে উত্তর।
যে এজেন্ট আপনার বাজারের তালিকা বানাতে পারে, তার কাছে আপনার কেনাকাটার ইতিহাস আছে। যে এজেন্ট বেড়ানোর পরিকল্পনা করে, তার কাছে আছে আপনার ক্যালেন্ডার, বাজেট ও ভ্রমণ নথি। সক্ষমতা আর তথ্যের চাহিদা একই জিনিস—দ্বিতীয়টি না দিয়ে প্রথমটি পাওয়ার উপায় নেই।
এ দেশের পাঠকের জন্য বাস্তব কথাটি আরও সংক্ষিপ্ত। পণ্যগুলো আসছে আগে যুক্তরাষ্ট্রে, আর প্রাপ্যতা, পরিশোধের উপায় ও সমর্থিত সেবা এখানে আসবে অসমভাবে, কিংবা আদৌ না-ও আসতে পারে। তবে এখন যে অভ্যাসগুলো তৈরি হচ্ছে, পরে বাকি বাজারকে সেগুলোই বিক্রি করা হবে।




