দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে নিনটেনডো জানিয়েছে, তাদের মোট মুনাফা বছরে বেড়েছে ৫২ শতাংশ—অথচ একই সময়ে কমেছে তাদের সর্বশেষ কনসোল সুইচ টু-র বিক্রি। যন্ত্র বিক্রি কমেছে ৩৪.৪ শতাংশ।
দুটি সংখ্যাই সত্য, আর এদের মধ্যে বিরোধ নেই। মুনাফা বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে কনসোল ব্যবসার বাইরে থেকে, যেখানে সহায়তা করেছে সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি-সংশ্লিষ্ট আয়। আর যন্ত্র বিক্রি কমার বড় ব্যাখ্যা সময়—গত বছর বাজারে আসার সময়েই বহু মানুষ যন্ত্রটি কিনেছিলেন, ফলে তুলনাটি হচ্ছে উদ্বোধনী প্রান্তিকের সঙ্গে।
২০২৫ সালের জুনে বাজারে আসার পর থেকে সুইচ টু বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ, যা যেকোনো বিচারেই শক্ত শুরু।

যে সমস্যাটি আসছে বড়দিনে
নিনটেনডোকে এখন ক্রমাগত কারণ দেখাতে হবে কেন মানুষ নতুন যন্ত্রে যাবে—যা শুনতে যত সহজ, তত নয়; কারণ পুরোনো সুইচের খেলার ভান্ডার বিশাল এবং সেটি দিব্যি চলে।
সেই পরিস্থিতিতে তারা পাঠাচ্ছে দ্য লিজেন্ড অব জেলডা: ওকারিনা অব টাইম-এর রিমেক, যে খেলাটি প্রথম এসেছিল ১৯৯৮ সালে। এটি আসবে সেই ছুটির মৌসুমেই, যখন আসছে গ্র্যান্ড থেফট অটো সিক্স—শিল্পটি ধরে নিচ্ছে, এটিই হবে সর্বকালের সবচেয়ে বড় গেম উদ্বোধন।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক ইয়স্ট ভ্যান ড্রুনেন, যিনি গেম শিল্প নিয়ে বই লিখেছেন, বলেন, ‘নিনটেনডোর জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি, আর এই ছুটির মৌসুম থেকে তাদের খুব শক্তভাবে বেরিয়ে আসতে হবে।’
দুই প্রতিষ্ঠান, যাদের মিল প্রায় নেই
যেকোনো বিশ্লেষকের চেয়ে কথাটি ভালো বুঝিয়েছে স্যাটারডে নাইট লাইভ, ৩ অক্টোবরের এক পর্বে। সবুজ পোশাকে লিংক বর্ণনা করছিলেন হাইরুলে তাঁর সকাল—জাদুর শিম কেনা আর ওকারিনা বাজানো। পাশে বসা জিটিএ সিক্স-এর জেসন, হাতে রক্তমাখা ব্যান্ডেজ, বলছিলেন গাড়ি চুরি আর স্ট্রিপ ক্লাবে দশ লাখ ডলার খরচের কথা।
রসিকতার নিচে আছে আসল কৌশলটি। জিটিএ সিক্সের ঠিক বিপরীতে খেলা ছাড়তে রাজি একমাত্র প্রতিষ্ঠান নিনটেনডো, আর তারা তা পারে কারণ তারা একই সন্ধ্যা বা একই খেলোয়াড়ের জন্য লড়ছে না।
চার দশকের বাজিটি এটাই—একই চরিত্রগুলোকে কনসোলের প্রজন্মের পর প্রজন্মে নতুন চেহারায় ফিরিয়ে আনা, আর সাম্প্রতিক সময়ে সিনেমা, কনসার্ট ও থিম পার্কেও। যন্ত্র নয়, চরিত্রগুলোই সেই সম্পদ যা প্রতিটি চক্র পেরিয়ে টিকে থাকে।
কনসোল ব্যবসা এখন কেন অস্বস্তিতে
পুরো শিল্পের ওপরই দুটি চাপ। মেমোরির দাম দ্রুত বাড়ছে, তাতে প্রতিটি কনসোল বানানোর খরচ বাড়ে। আর প্রতিযোগিতা ক্রমেই আসছে এমন খেলা থেকে, যেগুলো বিনা মূল্যের এবং নিনটেনডোর যন্ত্রে নেই—সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ রোব্লক্স।
নিনটেনডোর জবাব এক্সক্লুসিভ খেলা। উদ্বোধনে মারিও কার্ট ওয়ার্ল্ড-এর পর তারা নিয়মিত ছেড়েছে ডংকি কং বোনানজা, ফায়ার এমব্লেম: ফরচুনস উইভ ও পোকেমন পোকোপিয়া।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার বড় অংশ এখনো গেম, তাই সিনেমা আর পার্ক খারাপ প্রান্তিকের ধাক্কা সামলায় মাত্র, ভালো প্রান্তিকের বিকল্প হয় না। এ কারণেই এবারের বড়দিন আরামের নয়, সত্যিকারের পরীক্ষা—২৮ বছরের পুরোনো একটি খেলার রিমেক, শিল্পটির এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় উদ্বোধনের বিপরীতে।




