নেদারল্যান্ডসে বার্কেনস্টকের স্যান্ডেলের নকল সংস্করণ বিক্রি বন্ধ করতে হবে লিডলকে—রায় দিয়েছে ডাচ আদালত।
শর্তগুলো
না মানলে ছাড়ের এই সুপারমার্কেট চেইনের জরিমানা দিনে ৫ হাজার ইউরো (৪,২০০ পাউন্ড); বিক্রির তথ্যও তুলে দিতে হবে বার্কেনস্টকের হাতে। কোম্পানিটিকে ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচও দিতে হবে, যার পরিমাণ ঠিক হবে আলাদা করে।
রায়টি—যার বিরুদ্ধে এখনো আপিল করা যায়—লিডলের বানানো অ্যারিজোনা, মাদ্রিদ, গিজে, বোস্টন ও ফ্লোরিডা মডেলের নকলগুলোর ওপর প্রযোজ্য; আদালত দেখেছে, মুদি বিক্রেতাটি ব্র্যান্ডটির ট্রেডমার্ক করা "ফুটবেড নকশা" লঙ্ঘন করেছে। বার্কেনস্টকের নকশা নিয়ে আদালতের ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলোর এটি সর্বশেষ।
বার্কেনস্টক বলেছে, রায়টি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে "নকলকারীদের [আমাদের] সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ওপর বিনা মূল্যে চড়ে বসতে দেওয়া যাবে না"। বিবিসি মন্তব্যের জন্য লিডলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। একই সপ্তাহে রায়টির খবর দিয়েছে এনএল টাইমসসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশি উৎপাদকদের এই গল্পটি মন দিয়ে পড়া উচিত, কারণ দেশটি আছে এর দুই দিকেই।
একদিকে বাংলাদেশ জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের বড় উৎপাদক, আর সেই উৎপাদনের একটি অংশ স্পষ্টতই অনুকরণমূলক—ইউরোপীয় নকশার "হুবহু" সংস্করণ, যা বানানো হয় দেশের বাজারের জন্য আর এমন সব বাজারে রপ্তানির জন্য, যেখানে আইন প্রয়োগ দুর্বল। আজ এটি বাস্তব ব্যবসা, আর কাল দায়: বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বায়িং হাউসের মাধ্যমে নয়, সরাসরি ইউরোপে বিক্রির দিকে যত এগোবে, বায়িং হাউস যে আইনি ঝুঁকি শুষে নিত তা তত তাদের ঘাড়েই আসবে।
অন্যদিকে আছে সেই অংশ, যা কম মনোযোগ পায়। বাংলাদেশি নকশা অবিরাম নকল হয়—দেশে ও বিদেশে—আর কার্যকর কোনো প্রতিকার নেই। জামদানির ভৌগোলিক নির্দেশক আছে; সমকালীন বাংলাদেশি ফ্যাশন, চামড়া ও কারুশিল্পের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ নকশার কিছুই নেই। যে ডিজাইনারের প্রিন্ট তিন সপ্তাহ পর প্রতিদ্বন্দ্বীর তাকে উঠে যায়, তাঁর কাছে বাস্তবে হাল ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে দ্রুত বা সস্তা কোনো পথ নেই।
ডাচ রায়ে শেখার মতো খুঁটিনাটিটি হলো আসলে কী সুরক্ষিত হয়েছে: কোনো লোগো নয়, বরং একটি কার্যকরী আকৃতি—ঢেউ খেলানো ফুটবেড। এই অধিকার পাওয়া কঠিন আর অত্যন্ত মূল্যবান, কারণ এটি লেবেল নয়, পণ্যটিকেই রক্ষা করে। আর এটিই সেই ধরনের সুরক্ষা, যার জন্য বাংলাদেশি উৎপাদকেরা প্রায় কখনোই আবেদন করেন না—মূলত এ কারণে যে এ দেশে নকশা নিবন্ধনের ব্যবস্থা ধীর, কম ব্যবহৃত আর কম বোঝা।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহারিক কথাগুলো সরু ও সস্তা। আইন প্রয়োগ হয় এমন কোনো দেশে পাঠানোর আগে দেখে নিন আপনি যা বানাচ্ছেন তা নিবন্ধিত কোনো নকশা লঙ্ঘন করছে কি না। নিজের নকশা নিবন্ধন করুন সেখানে, যেখানে বিক্রি করছেন—শুধু যেখানে বানাচ্ছেন সেখানে নয়। আর ক্রেতার নকল করার নির্দেশকে ঝুঁকি হস্তান্তর হিসেবেই দেখুন, যা এটি আসলেই—ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি লিখিতভাবে নিন; কারণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আদালত জানতে চাইবে না ধারণাটি কার ছিল।
এসবের নিচে থাকা ব্র্যান্ড-অর্থনীতিটি আমরা লিখেছি প্রিয় প্রযুক্তি কোম্পানিকে গায়ে পরা লেখায়।




