নিজের এআই-উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কাকে মনে করেন—দুটি নিয়েই খোলাখুলি বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প: চীন। তাঁর প্রতিপক্ষ সি জিনপিং এতটা স্পষ্ট কিছু বলেননি, তবে মনে হয় তিনিও একই রকম ভাবেন।
বেইজিং যেভাবে দেখে
মার্কেটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজের রেবেকা আরচেসাতি বলছেন, "চীন একে রীতিমতো দৌড় হিসেবেই দেখে, তারা খুব করেই মনে করে এআইয়ে চীনেরই নেতৃত্ব দেওয়া উচিত—তারা এআইকে দেখে ক্ষমতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে।"
কথার বাইরেও প্রমাণ আছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনের প্রযুক্তি-উচ্চাকাঙ্ক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর এআই—সি প্রকাশ্যে জোর দিন বা না দিন।
ট্রাম্পের কাছে এআইয়ে চীনকে হারানো প্রযুক্তিটি মানুষের জন্য যে ঝুঁকি তৈরি করে তার চেয়ে বড়—যে ঝুঁকিকে তিনি বলেছেন "ধাপ্পা"। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে "হুমকির বয়ান" আর সংঘাত বৈশ্বিক এআই-নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়; তারা সহযোগিতার ডাক দিয়েছে, যাতে প্রযুক্তিটি সবার কাজে লাগে।
দুটি অবস্থানই কৌশলগত, বর্ণনামূলক নয়। দৌড়ে এগিয়ে থাকা দেশের স্বার্থ ঝুঁকিকে বাড়িয়ে বলা হচ্ছে দাবি করায়; আর পিছিয়ে থেকে ধরতে চাওয়া দেশের স্বার্থ সহযোগিতামূলক নিয়মের ডাক দেওয়ায়।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশ এই দৌড়ে নেই, থাকবেও না। তাতে সে দর্শক হয়ে যায় না, কারণ দুই পরাশক্তির প্রযুক্তি-দৌড়ই ঠিক করে দেয় বাকি সবাই কোন শর্তে কিনবে।
প্রথম পরিণতি হলো, নিকট ভবিষ্যতে এআই-নিয়ন্ত্রণ বহুপক্ষীয়ভাবে নিষ্পত্তি হবে না। প্রযুক্তিটি বানানো দুটি দেশ যদি সংযমকে প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধা মনে করে, তবে এমন কোনো মঞ্চ থাকে না যেখানে বাংলাদেশের মতো দেশ বৈশ্বিক মান নিয়ে দর-কষাকষি করতে পারে। বাকি থাকে দেশের ভেতরের নিয়ম বানানো; আর যারা আগেভাগে নিজেদের নিয়ম লেখে, তারাই ঠিক করতে পারে তাদের বাজারে কী ঢুকবে আর কোন শর্তে।
দ্বিতীয়টি ক্রয়প্রক্রিয়া, আর সেটিই ব্যবহারিক। বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাগুলো গড়ে উঠবে এই দুই এখতিয়ারের কোনো একটিতে বানানো মডেলের ওপর। এটি নৈতিক পছন্দের চেয়ে প্রকৌশলগত সিদ্ধান্ত, আর এর সঙ্গে আসে নির্দিষ্ট দায়: জানা দরকার হিসাবটি কোথায় চলছে, নাগরিকের তথ্য কোথায় যাচ্ছে, বিক্রেতা এমন কোনো রপ্তানি-নিয়ন্ত্রণের আওতায় কি না যা সেবাটি বন্ধ করে দিতে পারে, আর দুই সরকারের যেকোনো একটির নীতি বদলালে চুক্তিটি টেকে কি না।
তৃতীয়টি সবচেয়ে কম মনোযোগ পায়। দুই পরাশক্তিই এআইয়ে নেতৃত্বকে সরকারি অর্থে চালানো জাতীয় প্রকল্প মনে করে। বাংলাদেশের বাস্তব সমতুল্য ফাউন্ডেশন মডেল বানানো নয়—কেবল কম্পিউটিংয়ের খরচেই তা অসম্ভব—বরং দেশটি যেন দক্ষ ক্রেতা ও অভিযোজক হয় তা নিশ্চিত করা; অর্থাৎ বাংলা ভাষার উপাত্তভান্ডার, দেশেই মূল্যায়নের সক্ষমতা, আর বিক্রেতার দাবি সমালোচনামূলকভাবে পড়ার মতো যথেষ্ট সরকারি কারিগরি দক্ষতা।
আর ট্রাম্পের "ধাপ্পা" শব্দটিতে একটি সতর্কবার্তা আছে। যেসব সরকার ঝুঁকিকে কথার কথা মনে করে, তারা ব্যর্থতাগুলো ধরার প্রতিষ্ঠান গড়ে না। প্রযুক্তিটি আমদানি করা দেশগুলো ব্যর্থতাগুলো ঠিকই উত্তরাধিকারসূত্রে পায়। একই প্রযুক্তির নাম নিয়ে লড়াইটি আমরা দেখেছি জাতিসংঘের মঞ্চে এআইয়ের নাম বদল লেখায়।




