বিশ্ব

২০২০ সালে সাড়ে ৪ কেজির হুই প্রোটিনের ব্যাগের দাম ছিল ৬০ পাউন্ড। একই ব্যাগ এখন ১৭০

অমরপ্রীত সিং ১৬ বছর বয়স থেকে প্রোটিন শেক খাচ্ছেন। চোদ্দ বছর পরও তা তাঁর রুটিনে আছে, আর তিনি যে ব্যাগটি কেনেন তার দাম হয়েছে প্রায় তিন গুণ।

২০২০ সালে সাড়ে ৪ কেজির হুই প্রোটিনের ব্যাগের দাম ছিল ৬০ পাউন্ড। একই ব্যাগ এখন ১৭০

ষোলো বছর বয়স থেকে প্রোটিন শেক খাচ্ছেন অমরপ্রীত সিং। লন্ডনে থাকা ৩০ বছরের এই ব্যাংককর্মী জিমে যাওয়া শুরু করেছিলেন এমন সময়ে, যখন প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট মূলত বডিবিল্ডারদের জিনিস বলেই পরিচিত ছিল।

দামের যা হয়েছে

চোদ্দ বছর পরও শেক তাঁর রুটিনে আছে—আর অনেক বেশি দামি। তিনি যে হুই প্রোটিন কেনেন, তার সাড়ে ৪ কেজির ব্যাগের দাম ২০২০ সালে ছিল প্রায় ৬০ পাউন্ড। গত বছর তা বেড়ে হয় ১২০ পাউন্ড, যদিও ইবে থেকে তিনি একটি জোগাড় করেছিলেন ৯০ পাউন্ডে। এখন ব্যাগের দাম পৌঁছেছে ১৭০ পাউন্ডে।

কারণটি রহস্যময় নয়। হুই পনির বানানোর উপজাত, তাই এর জোগান বাঁধা প্রোটিন পাউডারের চাহিদার সঙ্গে নয়, দুগ্ধ উৎপাদনের সঙ্গে। অন্যদিকে চাহিদা বডিবিল্ডারদের গণ্ডি অনেক আগেই পেরিয়েছে: প্রোটিন এখন সিরিয়াল, দই, বার, পানীয় ও বিস্কুটের গায়ে লেখা বিপণন-দাবি। নির্দিষ্ট জোগানের একটি উপজাতের সঙ্গে এতটা সরে যাওয়া চাহিদার দেখা হলে নড়তে পারে কেবল দামই।

বাংলাদেশে এর মানে কী

এ সমস্যার আমদানি-সংস্করণটি এখানে আরও খারাপ। ঢাকায় বিক্রি হওয়া হুই প্রোটিনে থাকে বিশ্ববাজারের দাম, তার সঙ্গে জাহাজভাড়া, শুল্ক ও পরিবেশকের মুনাফা—যা আসল ব্র্যান্ডের একটি কৌটাকে সাধারণ আয়ের নাগালের অনেক বাইরে নিয়ে যায়; আর তৈরি করে ঠিক সেই পরিস্থিতি, যেখানে নকল ও ভেজাল সাপ্লিমেন্ট রমরমা হয়। বাংলাদেশের সাপ্লিমেন্ট বাজার মূলত অনিয়ন্ত্রিত, মালের বড় অংশ আসে অনানুষ্ঠানিকভাবে, আর কৌটার ভেতরে কী আছে তার নিয়মিত কোনো পরীক্ষা নেই।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভেজালগুলো নিরীহ নয়। সস্তা ভরাট উপাদান, ঘোষণা না করা ক্যাফেইন আর—দক্ষিণ এশিয়ার অন্যত্র নথিভুক্ত ঘটনায়—প্রোটিন বলে বিক্রি হওয়া পণ্যে অ্যানাবলিক স্টেরয়েড। যে তরুণ লেবেলটি যাচাই করতে পারেন না, তিনি এমন ঝুঁকি নিচ্ছেন যার সঙ্গে তাঁর অনুশীলনের কোনো সম্পর্কই নেই।

বেশি কাজের কথা হলো, বাংলাদেশে প্রায় কারোরই পাউডারটি দরকার নেই। প্রোটিন পাউডার একটি সুবিধার পণ্য—রান্না না করে প্রোটিন পাওয়ার সমস্যাটি এটি মেটায়। এটি উন্নততর উৎস নয়। স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করা বেশির ভাগ মানুষের জন্য দিনে শরীরের প্রতি কেজিতে মোটামুটি ১.৬ গ্রাম প্রোটিনই যথেষ্ট, আর বাংলাদেশি খাবারে তা কম খরচেই মেলে।

হিসাবটি একবার করে দেখা দরকার। ৭০ কেজির একজন মানুষের দিনে দরকার প্রায় ১১২ গ্রাম প্রোটিন। একটি ডিমে মেলে প্রায় ৬ গ্রাম, ১০০ গ্রাম রান্না করা মুরগিতে প্রায় ২৭, ১০০ গ্রাম মাছে ২০-২২, এক কাপ রান্না করা ডালে ৮-৯, এক কাপ দুধে ৮। তিনটি ডিম, এক টুকরো মাছ, এক বেলা মুরগি, দুবার ডাল আর এক গ্লাস দুধেই লক্ষ্য ছোঁয়া যায়—যেকোনো আমদানি করা কৌটার খরচের ভগ্নাংশে, আর সেই খাবারেই, যা মানুষ এমনিতেই কিনছেন।

সবাই কী করছে তার ওপর একটি পণ্যের দাম ঠিক হওয়ার একই শিক্ষা আছে ভারতে অ্যাভোকাডোর রমরমা লেখাতেও।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।