অনলাইন বিক্রেতা এটসি বলছে, এ বছর আবহাওয়ার মন্ত্র ও ডাইনি নিয়ে সার্চ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিয়ের দিনে রোদ নিশ্চিত করার মন্ত্রের সার্চ বেড়েছে ২০৬ শতাংশ, আর বিয়ে-সম্পর্কিত মন্ত্র ও ডাইনি নিয়ে সাধারণ সার্চ বেড়েছে ১০৫ শতাংশ।
স্কটল্যান্ডের আরস্কিনের এলেসিয়া কাহিল নিজেকে বলেন অতীন্দ্রিয়বাদী, আর তাঁর ভাগ্যপাঠ, ‘চ্যানেল করা চিঠি’, ক্রিস্টাল ও তাবিজের দুই হাজারের বেশি বিক্রি নথিবদ্ধ হয়েছে। ২৪ বছরের এই তরুণী বলছেন, সবচেয়ে জনপ্রিয় জিনিসটি মানুষের প্রত্যাশার মতো নয়: প্রেমের মন্ত্র নয়, বরং প্রাচুর্যের মন্ত্র—টাকা, সাফল্য ও সুযোগ টানার সহায়তা। তিনি বলছেন, মোনাকোর এক প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী প্রাচুর্যের তাবিজ কেনার পর নিজের সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার কথা জানিয়েছেন।
প্ল্যাটফর্ম যা বাধ্যতামূলক করে
এটসির নিয়ম বলছে, মন্ত্র বেচতে হবে কেবল বিনোদনের উদ্দেশ্যে। এই একটি ধারাই এই বাজারের পুরো বাণিজ্যিক স্থাপত্য, আর তা বোঝার মতো।
যে বিক্রেতা টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ফলের প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি এমন দাবি করছেন যা ভোক্তা-অধিকার আইনে পরীক্ষা করা যায়। যে বিক্রেতা বিনোদন দিচ্ছেন, তিনি করছেন না। তাই নিয়মটি কী বিক্রি হচ্ছে তা কমায় না; এটি ঝুঁকিটির জায়গা বদলায়—প্ল্যাটফর্ম ও বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতার কাছে, যিনি এমন কিছু কিনছেন যা কাজ করবে বলতে তালিকাটি নিজেই অস্বীকার করছে।

টাকার মন্ত্রই বিক্রি হয় কেন
কাহিলের নিজের ব্যাখ্যাটিই খবরের সৎ অংশ। তিনি বলছেন, তরুণেরা যুক্তি দিয়ে ভাবতে অভ্যস্ত হয়েও জাদুকরি কিছুতে বিশ্বাস করার জায়গা খুঁজছেন; অনেকেই একা বোধ করেন; আর তিনি দিতে চান নিরাপদ একটি জায়গা আর কিছুটা সান্ত্বনা।
এতে লেনদেনটির চেহারা বদলে যায়। প্রধান পণ্যটি প্রেম নয় প্রাচুর্য হলে ক্রেতারা রোমান্স খোঁজা মানুষ নন, বরং আর্থিক চাপে থাকা মানুষ—এমন এক অর্থব্যবস্থায়, যেখানে পরিশ্রম আর পুরস্কার দৃশ্যতই আলাদা হয়ে গেছে। টাকার মন্ত্র, অন্য সবকিছুর পাশাপাশি, খুব সস্তা একটি উপায়—এই বোধ পাওয়ার যে অন্যভাবে বদলাতে না পারা আয়টি নিয়ে আপনি কিছু করেছেন।
আর বাংলাদেশে এর সংস্করণ
এর কিছুই এখানে বিদেশি নয়। একই চাহিদা চলে সেই ফেসবুক পেজগুলোর ভেতর দিয়ে, যেগুলো দেয় তাবিজ, রুকইয়াহ সেবা, জ্যোতিষের আংটি আর ‘ব্যবসার বরকত’ প্যাকেজ—প্রায়ই বিক্রি হয় ডিরেক্ট মেসেজে আর টাকা নেওয়া হয় মোবাইল আর্থিক সেবায়; আর এটসির ‘কেবল বিনোদন’ দাবিত্যাগটি সেখানে নেই, কারণ কোনো প্ল্যাটফর্মই তা প্রয়োগ করছে না।
আর তাতে তৈরি হয় নাম ধরে বলার মতো একটি ব্যবহারিক পার্থক্য। ওই নিয়মসহ বাজারে সবচেয়ে খারাপ পরিণতি হলো ঘোষিত একটি খেলনায় টাকা নষ্ট। নজরদারিহীন ডিরেক্ট মেসেজের বিক্রিতে সবচেয়ে খারাপ পরিণতি হলো একটি নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি, বিক্রেতার চিহ্নিত করা কোনো বাধা সরাতে একের পর এক বাড়তে থাকা টাকা, আর এর কোনোটিরই কোনো নথি না থাকা। চেনার চিহ্নটি প্রতিটি ভাষায় একই: যে সমাধানে দ্বিতীয়বার টাকা লাগে, তা কখনোই সমাধান ছিল না।
একটি বাজার আদৌ এটি চলতে দেয় কেন
এটসি এখানে নির্বিকার নয়; তারা নির্দিষ্ট একটি লেনদেন করছে। শ্রেণিটি সরাসরি নিষিদ্ধ করলে বিক্রেতারা চলে যেতেন ইনস্টাগ্রাম ও ডিরেক্ট মেসেজে, যেখানে প্ল্যাটফর্মের কোনো আয় নেই আর ক্রেতার টাকা ফেরতের পথও নেই। ‘কেবল বিনোদন’ লেবেলসহ অনুমতি দেওয়া লেনদেনটিকে রাখে এমন একটি ব্যবস্থার ভেতরে, যেখানে আছে পরিশোধের নথি, রিভিউয়ের ইতিহাস আর অভিযোগের প্রক্রিয়া।
এটি দায়িত্বশীলতা নাকি নিছক লাভজনক—তর্কটি ন্যায্য, আর ঘনিষ্ঠভাবে দেখতে না চাওয়া প্রতিটি শ্রেণি নিয়ে প্রতিটি বাজারের একই তর্ক। তবে বিকল্পটি এই নয় যে ব্যবসাটি থেমে যায়। বিকল্পটি হলো, তা ঘটে এমন কোথাও—যার কোনো নথিই থাকে না।




