ইউনিয়ন স্ট্রিট—অ্যাবারডিনের প্রধান সড়ক, স্থানীয় রুপালি-ধূসর পাথরের নামে যার ডাকনাম গ্রানাইট মাইল—একসময় ভরে থাকত উত্তর-পূর্ব স্কটল্যান্ডজুড়ে আসা ক্রেতাদের ভিড়ে।
এর যা হলো
আজীবন অ্যাবারডিনে থাকা মারি সিম বলেন, "আমি ইউনিয়ন স্ট্রিটে আসি অন্য কোথাও যাওয়ার বাস ধরতে... এখন কেনার মতো কিছুই নেই... ভয়ংকর অবস্থা।"
দেশজুড়েই একই গল্প: একসময় দোকানে উপচে পড়া হাই স্ট্রিটগুলো ধাক্কা খেয়েছে প্রথমে শহরের বাইরের খুচরা কেন্দ্রের উত্থানে, তারপর অনলাইন বাণিজ্যে।
তবে অ্যাবারডিন এখন উচ্চাভিলাষী এক ঘুরে দাঁড়ানোর মাঝপথে। বন্দরনগরীটি কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নিজের খালি দোকানের সমস্যার বিরুদ্ধে—অস্বাভাবিকভাবে হাতে-কলমে নেমে খালি ইউনিট ভরাচ্ছে আর দীর্ঘদিন অবহেলিত ভবনগুলোর ওপরতলা আবার কাজে আনছে। শহরের কেন্দ্রকে ফের গন্তব্য বানাতে কাউন্সিল ঢালছে কোটি কোটি পাউন্ড—আর অন্য অনেক জায়গার মতোই ঝুঁকছে "অভিজ্ঞতার অর্থনীতির" দিকে, নতুন একটি আচ্ছাদিত খাবার ও পানীয়ের বাজার আর সমুদ্রতীরের বড় পুনর্গঠন নিয়ে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
যে ধারাবাহিকতা ইউনিয়ন স্ট্রিট খালি করেছে—প্রথমে শহরের বাইরের খুচরা, তারপর অনলাইন—তা বাংলাদেশে চলছে এখনই, আর অনেক কম সময়ের মধ্যে ঠেসে।
ঢাকার প্রচলিত খুচরা সড়ক ও পুরোনো বাজারগুলো একসঙ্গে দুটি জিনিসের কাছে ক্রেতা হারাচ্ছে: পার্কিংসহ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শপিং কমপ্লেক্স, আর ই-কমার্স। নিউমার্কেট, গুলিস্তান, ইসলামপুর কিংবা চট্টগ্রামের টেরিবাজারের পুরোনো অংশ পিছিয়ে পড়ছে দোকানিরা খারাপ হয়ে গেছেন বলে নয়। তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এমন এক ধরনের সঙ্গে যা আরাম দেয়, আর এমন এক ধরনের সঙ্গে যাতে বেরোতেই হয় না।
অ্যাবারডিনের জবাবটি অধ্যয়নের মতো, কারণ এটি স্মৃতিকাতরতা নয়। এর দুটি উপাদান সরাসরি কাজে লাগে।
প্রথমটি ওপরতলা। শহুরে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক সড়কেই নিচতলার দোকানের ওপরে আছে বিপুল খালি বা আধা-পরিত্যক্ত জায়গা, যার মালিকদের সেটি কাজে লাগানোর কোনো তাগিদ নেই। ওই জায়গাই দেশের সবচেয়ে সস্তায় পাওয়া নগর-আবাসন ও অফিসের মজুত, আর সেখানে সেবা সংযোগও দেওয়া আছে। বাধা হলো মালিকানার টুকরো হয়ে যাওয়া, অগ্নিনির্গমনের পথ না থাকা, আর এমন কর-কাঠামো যা খালি ফেলে রাখার জন্য শাস্তি দেয় না।
দ্বিতীয়টি এই উপলব্ধি যে কেনাকাটার সড়ককে এখন হতে হয় এমন জায়গা যেখানে মানুষ থাকতে চায়, কেবল যেখানে যেতে হয় তা নয়। বাংলাদেশি বাজার-সড়ককে যা মারে, তা দোকানিরা নিজেরাই বলেন—হাঁটার মতো ফুটপাত নেই, পার্কিং নেই, ছায়া নেই, বসার জায়গা নেই, আর এমন যানজট যাতে রাস্তা পার হওয়াই বিপজ্জনক। এগুলো পৌর সিদ্ধান্ত, খুচরা ব্যবসার নয়; আর এগুলোই ঠিক করে ক্রেতা আদৌ আসবেন কি না।
সৎ শর্তটি হলো, অ্যাবারডিনের পরিকল্পনায় খরচ হচ্ছে কোটি কোটি পাউন্ড সরকারি অর্থ, আর বাংলাদেশের কোনো সিটি করপোরেশনের তা নেই। তবে এ গল্পের সবচেয়ে সস্তা ব্যবস্থাগুলো—ফুটপাত খালি করা, ওপরতলা কাজে লাগানো, আর একটি সড়ককে পার্ক করা গাড়ির নয় মানুষের জন্য বলে ঠিক করা—সেগুলোর জন্য ওই টাকা লাগে না।
ক্রেতা কেন কোনো বস্তুর বদলে অন্তর্ভুক্তির জন্য টাকা দেন—"অভিজ্ঞতার অর্থনীতির" বাকি অর্ধেকটা সেটিই; আর তা আছে প্রিয় প্রযুক্তি কোম্পানিকে গায়ে পরা লেখায়।




