বিশ্ব

৬ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক কমাল ওয়াশিংটন-বেইজিং, আর নীরবে একমত হলো "সুপার ইন্টেলিজেন্স" বলায়

"৩০-এর বদলে ৩০" কাঠামোয় দুই পক্ষই অন্যের ৩ হাজার কোটি ডলারের স্পর্শকাতর নয় এমন পণ্য কম শুল্কে নেবে। চীনের তালিকায় ১,৬১৯টি পণ্য। মার্কিন সয়াবিন তাতে নেই।

৬ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক কমাল ওয়াশিংটন-বেইজিং, আর নীরবে একমত হলো "সুপার ইন্টেলিজেন্স" বলায়

৬ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক ব্যাপকভাবে কমাতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন; ছাড়ের আওতায় এসেছে মার্কিন কয়লা ও কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে চীনে তৈরি খেলনা, গাড়ির শিশু-আসন আর উৎসবের সাজসজ্জা।

কাঠামোটি

হোয়াইট হাউসের ঘোষণাটি এসেছে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠকের পর। "৩০-এর বদলে ৩০" কাঠামোয় দুই দেশই অন্যের কাছ থেকে "স্পর্শকাতর নয়" এমন ৩ হাজার কোটি ডলারের পণ্য কম শুল্কে আমদানি করতে পারবে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, এতে চীনে মার্কিন রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশের বাজার-সুবিধা বাড়বে।

চীনের তালিকায় আছে ১,৬১৯টি পণ্য—ভুট্টা, গম, হিমায়িত মাংস, সামুদ্রিক খাবার, কাঠজাত পণ্য, প্রসাধনী, চিকিৎসা সরঞ্জাম। যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় ৭৭টি, যার মধ্যে খেলনা, টেবিলওয়্যার, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, পর্দা, বৈদ্যুতিক শেভার ও ফোলানো বল। চীন ২০২৭ ও ২০২৮ সালে অন্তত ১ কোটি মেট্রিক টন মার্কিন কয়লাও আমদানি করবে।

মার্কিন সয়াবিন তালিকায় নেই—বাণিজ্যযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন কৃষকদের জন্য যা একটি ধাক্কা। চলমান বিরতির হার—চীনা পণ্যে ৩০ ও মার্কিন পণ্যে ১০ শতাংশ—১০ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত আছে।

প্রযুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি টীকাও আছে: এআই-সংক্রান্ত "ঘটনা" নিয়ে আলোচনার জন্য দ্বিপক্ষীয় চ্যানেল গড়তে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদলে "সুপার ইন্টেলিজেন্স" শব্দটি ব্যবহারে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সুপার ইন্টেলিজেন্স ডায়ালগের পরবর্তী বৈঠক হবে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশ এই টেবিলে নেই, তবু দুই বিপরীত দিক থেকে এতে প্রভাবিত।

প্রথমটি প্রতিযোগিতার। চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র যত শুল্ক কমায়, সেই দামের ফারাক তত সরু হয়—যা ক্রেতাদের বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার দিকে পাঠাচ্ছিল। মার্কিন তালিকার ৭৭টি পণ্যের বেশির ভাগই পোশাক নয়, তাই বাংলাদেশের মূল রপ্তানিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব কম—কিন্তু নজর রাখার বিষয় গতিপথটি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্ডার বৃদ্ধির বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র-চীন টানাপোড়েনের উপজাত। স্থায়ী শিথিলতা সেই অনুকূল হাওয়ার একটি অংশ সরিয়ে নেয়।

দ্বিতীয়টি উপকরণের খরচ, আর তা উল্টো দিকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশ চীন থেকে বিপুল যন্ত্রপাতি, কাপড়, আনুষঙ্গিক ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি করে। চীনা রপ্তানির দাম ও জাহাজভাড়া স্থিতিশীল করে এমন যেকোনো কিছু বাংলাদেশি কারখানার খরচের জন্য মোটের ওপর ভালো।

সয়াবিন বাদ পড়াটি অন্য কারণে লক্ষ করার মতো। এতে বোঝা যায়, এসব চুক্তি ঠিক হয় পণ্য ধরে ধরে—ওই পণ্যে কার দর-কষাকষির জোর আছে তা দিয়ে, নীতি দিয়ে নয়। কোনো দেশ যদি নির্দিষ্ট একটি খাত রক্ষা করতে চায়, তালিকা লেখার সময় তাকে ঘরের ভেতরে থাকতে হয়। বাংলাদেশের বাণিজ্য-কূটনীতি বিপুলভাবে নিজের পাওয়া সুবিধার দিকেই মনোযোগী; এ ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, ফল নির্ধারণকারী দর-কষাকষিগুলো হয় অন্যদের মধ্যে।

নাম বদলের বিষয়টিও নিছক টীকা নয়। দুই সরকার নিয়ম ঠিক করার আগেই শব্দ ঠিক করে ফেলল—শব্দটি কেন গুরুত্বপূর্ণ তা লিখেছি জাতিসংঘের মঞ্চে এআইয়ের নাম বদল লেখায়, আর এর নিচের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এআই দখলের দৌড়ে।

সূত্র: CNN

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।