জন ইয়েলি ইলিনয়ের যে খামারটি চালান, তা তাঁর পরিবারের দখলে ১৮৫২ সাল থেকে; তিনি সপ্তম প্রজন্ম। তিনি চালিয়ে যেতে চান। তবে ১৬ বছরের ছেলে আর ১২ বছরের মেয়ের হাতে খামারটি দিতে চান কি না, সে বিষয়ে আর নিশ্চিত নন। "এখন যেভাবে সবকিছু চলছে, না, আমি ওদের জন্য এটা চাইব না।"
হিসাবটা
সবচেয়ে চাপের সমস্যা ডিজেল। পেট্রলের চেয়ে দ্রুত বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে এর জাতীয় গড় এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬.৫৩ ডলারের কাছাকাছি; ইলিনয়ে ছিল ৬.৮২ ডলার। ইয়েলি সাধারণত বছরে দুবার সাড়ে ৮ হাজার গ্যালন কেনেন। "প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে এই প্রথম আমরা পুরো একটি ট্রান্সপোর্ট লোড কিনিনি… টুকরো টুকরো করে কিনছি, একবারে ১ হাজার বা ১৫০০ গ্যালন, এই আশায় যে দাম কমবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হচ্ছে না।"
সারের দাম এক বছরে বেড়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত—প্রথমে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে কাঁচামালের সরবরাহ বন্ধ হওয়ায়, পরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে রপ্তানি আটকে যাওয়ায়। রোপণ থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত খামার চালানোর স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদও বেড়েছে। বাণিজ্য-বিরোধে বাজার বন্ধ হয়েছে, বিশেষত সয়াবিনের।
জুন পর্যন্ত বারো মাসে খামারের দেউলিয়া হওয়া বেড়েছে ২০ শতাংশ। আইনজীবী টম আজামি বলছেন, "এই কৃষকদের অনেকেই কিনারায়। এখন ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, কিন্তু আগামী দুই, চার, পাঁচ মাসে কী হবে?"
কিছু আইনপ্রণেতা মার্কিন ডিজেল রপ্তানি বন্ধের জন্য চাপ দিয়েছেন; জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অনেকেই সন্দিহান যে এতে দাম কমবে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশের কৃষকেরাও ঠিক এই ধাক্কাই সামলাচ্ছেন, আসছে একই দুই উপকরণ হয়ে; আর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি দিক থেকেই বাংলাদেশি সংস্করণটি কঠিন।
ডিজেল চালায় সেই সেচপাম্প, যা বোরো ধান সম্ভব করে; আর দেশের চালের প্রায় অর্ধেকই বোরো। মৌসুম শুরু ডিসেম্বরে—উত্তর গোলার্ধের শীতজুড়ে তৈরি হওয়া সরবরাহ-সংকট ঠিক তখনই এসে পড়বে। ইয়েলির মতো বাংলাদেশি কৃষক ১৫০০ গ্যালন কিনে অপেক্ষা করতে পারেন না—জমি দু-এক বিঘা, আর নগদ আসে গত ফসল বা ঋণ থেকে।
সারের ক্ষেত্রে পার্থক্যটি আরও তীক্ষ্ণ। বাংলাদেশ ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির বেশির ভাগই আমদানি করে, আর বিশ্ববাজারের দামের বড় অংশ সরকার ভর্তুকি দিয়ে শুষে নেয়। এতে কৃষক পর্যায়ের দাম ইয়েলির দেওয়া দামের অনেক নিচে থেকেছে—আর এর মানে ধাক্কাটি গিয়ে পড়ে জাতীয় বাজেটে, বাকি সবকিছুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে; আর সমন্বয় যখন আসে, তা বাজারের নয়, নীতির সিদ্ধান্ত।
ঋণের কথাটি হুবহু খাটে। ইয়েলির প্রতিবেশীরা বসে গেছেন, কারণ রোপণের জন্য ঋণ নিয়ে তা শোধ করতে পারেননি। বাংলাদেশি সমতুল্যটি মাসিক হারে সুদ নেওয়া অনানুষ্ঠানিক মহাজন—কারণ কৃষিঋণ ক্ষুদ্র চাষিদের সংখ্যালঘু অংশেই পৌঁছায়। উপকরণের দাম বেশি থাকা একটি মৌসুম বাংলাদেশি কৃষকের আয় কমায় না কেবল; পরিবারটিকে এমন শর্তে নিয়ে যায়, যেখান থেকে বেরোনো যায় না।
আর উত্তরাধিকারের প্রশ্নটি নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বেশি ভাবানো উচিত, কারণ বাংলাদেশেও তা আছে—কেবল মাপা হয়নি। ইয়েলি চান না তাঁর সন্তানেরা চাষ করুক। গ্রামবাংলাজুড়ে একই সিদ্ধান্তে নীরবে পৌঁছাচ্ছেন মানুষ, আর তা পরিসংখ্যান হয়ে নয়—ঢাকামুখী স্রোত হয়ে দেখা দিচ্ছে।
এর জ্বালানি-দিকটি আছে ডিজেল আবার রেকর্ড দামে লেখায়, আর নীতিগত জবাবটি আলোচনায় মার্কিন রপ্তানি বন্ধে।




