কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর্থিক বাজারে ধাক্কা দিতে পারে আর যুক্তরাজ্যকে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে—সতর্ক করেছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর।
তিনি যা বলেছেন
অ্যান্ড্রু বেইলি বলেছেন, এআইয়ে ঢালা বিপুল পরিমাণ অর্থের দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক "খুব নিবিড়ভাবে" নজর রাখছে; আর সতর্ক করেছেন যে "সবাই সব সময় জেতে না"।
বড় মুনাফার আশায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে অর্থ খরচ ও ঋণ দেওয়া হয়েছে, তাতে বাজার এগুলোর কোনো কোনোটিকে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হিসেবে মূল্যায়ন করছে। এআই বুদ্বুদ ফাটতে পারে কি না—সরাসরি জানতে চাইলে বেইলি বলেন, "কোনো একসময় সম্পদের দামে কিছুটা সংশোধন দেখা যেতে পারে।"
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য এআইয়ের ঝুঁকি ও সুফল নিয়ে তিনি কথা বলছিলেন বিবিসির সঙ্গে। একই সপ্তাহে আলাদা এক সাক্ষাৎকারে বেইলি আরও বলেন, এআই নিয়ন্ত্রণ করা "শুরু করার সঠিক জায়গা নয়"—সতর্কবার্তার পাশে এ অবস্থানটিও রাখার মতো, কারণ তা জানিয়ে দেয় তিনি ঝুঁকিটিকে প্রযুক্তিগত নয়, আর্থিক হিসেবেই দেখছেন।
বাংলাদেশে এর মানে কী
কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর "সংশোধন" শব্দটি বললে তিনি নির্দিষ্ট একটি কাজ করেন: ধস ঘোষণা করেন না, আবার তা উড়িয়েও দেন না। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, আর পুনর্কথনে সাধারণত এটিই হারিয়ে যায়।
এআই শেয়ারে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো ঝুঁকি নেই। এখানে প্রায় কেউই এনভিডিয়া বা মাইক্রোসফটের শেয়ার ধরে রাখেন না, ডিএসইতে তুলনীয় কিছু তালিকাভুক্ত নয়, আর দেশের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও ওই বাজারে নেই। কাল যদি এআইয়ের মূল্যায়ন অর্ধেক হয়ে যায়, বাংলাদেশের কোনো পোর্টফোলিও সরাসরি তা টের পাবে না।
ঝুঁকিটি পরোক্ষ, আর তা আসে দুটি পথে। প্রথমটি টাকার দাম। মার্কিন শেয়ারে বড় দরপতন পুঁজিকে সরকারি বন্ডে ঠেলে দেয়, ফেডারেল রিজার্ভের পরের সিদ্ধান্ত বদলে দেয়, আর নতুন করে ঠিক করে দেয় প্রতিটি উদীয়মান অর্থনীতি কোন সুদে ধার করবে। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের সেবা ব্যয় এমনিতেই বাজেটের সবচেয়ে দ্রুত বাড়া খাত; আর তা নড়ে ঢাকায় নয়, নিউইয়র্কে নেওয়া সিদ্ধান্তে।
দ্বিতীয়টি সস্তা সরঞ্জামের জোগান। বাংলাদেশি ডেভেলপার ও ছোট ব্যবসা আজ যা ব্যবহার করে তার বড় অংশ—উদার ফ্রি টিয়ার, ভর্তুকি দেওয়া এপিআই দাম, বাজার দখলে বিনা মূল্যে দেওয়া মডেল—টিকে আছে কারণ বিনিয়োগকারীরা মুনাফার বদলে প্রবৃদ্ধিতে টাকা দিচ্ছেন। কেউ নাম দিক বা না দিক, এটি বুদ্বুদ-যুগের ভর্তুকি। টাকা কমে এলে প্রথমে বদলায় প্রযুক্তি নয়; বদলায় তাতে ঢোকার দাম।
এসব সেবার ওপর ব্যবসা গড়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহারিক অর্থটি সরু, আর তা নিয়ে কাজ করার মতো: তালিকামূল্যে আপনার পণ্যের খরচ কত, তা জেনে রাখুন—আপনি এখন যে ছাড়ের দাম দিচ্ছেন তাতে নয়। যে ব্যবসার মুনাফা একটি ফ্রি টিয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে, তার কৌশলটি আসলে অন্য কারও বিনিয়োগকারীদের।




