বন্ড বাজারে চলছে অবিরাম বিক্রির চাপ। মার্কিন ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি নোটের সুদহার পৌঁছেছে ডটকম ধসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
এটি অদ্ভুত কেন
মার্কিন সরকারি বন্ড পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বাজার, আর টাকা রাখার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হিসেবেই একে ব্যাপকভাবে ধরা হয়। কঠিন সময়ে লেনদেনকারীরা সাধারণত এর ভেতরে ছুটে আসেন। এখন ঘটছে ঠিক উল্টোটা।
বৃহস্পতিবার ১০ বছরের সুদহার ওঠে ৫.৩৪ শতাংশে, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ; দিন শেষে তা দাঁড়ায় ৫.২৪ শতাংশে। ৩০ বছরের ট্রেজারি পৌঁছায় ৫.৬৯ শতাংশে, যা ২৪ বছরের সর্বোচ্চ। স্যাক্সোর কৌশলবিদ নিল উইলসন বলেন, "বন্ড বাজারে রক্তক্ষয় চলছে। দুশ্চিন্তা হলো, মার্কিন প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।"
কারণগুলো উল্টো। মার্কিন অর্থনীতি শক্তিশালী—সম্ভবত বেশিই শক্তিশালী, আর তার পেছনে বিপুল এআই ব্যয়। মূল্যস্ফীতি বেশি, দাম ঠেলে তুলছে বাড়তি জ্বালানি খরচ। গত মাসে ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৩ সালের পর প্রথমবার তার মূল সুদহার বাড়িয়েছে, আরও বাড়াতে পারে। ঋণ নিয়েও চাপ আছে—দুই দলের সরকারি ব্যয়ই দেশটিকে টেকসই নয় এমন পথে নিয়ে যাচ্ছে।
ব্যাপারটি কেবল মার্কিন নয়। ব্রিটেনের ৩০ বছরের গিল্ট ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার ছুঁয়েছে ৬ শতাংশ; ফ্রান্সের ১০ বছরের সুদহার উঠেছে ৪.৯৫ শতাংশে, যা ২০০২-এর পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের গৃহঋণের সুদ ২০২৫ সালের শুরুর পর প্রথমবার ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর যে কৌশলটির দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, এটি তারই সংখ্যায় দেখা রূপ। আর শেয়ারবাজারের ধসের মতো নয়—এটি বাংলাদেশে পৌঁছায় সরাসরি।
১০ বছরের ট্রেজারি সুদহার সারা পৃথিবীতে ঝুঁকির মানদণ্ড-দাম। এটি বাড়লে অন্য প্রতিটি ঋণগ্রহীতাকে বেশি দিতে হয়—তাঁর নিজের অবস্থা বদলেছে বলে নয়, বরং ঝুঁকিহীন বিকল্পটি ভালো হয়ে গেছে বলে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা দেখা যায় তিন জায়গায়: নতুন সার্বভৌম ঋণের সুদ, চালু বৈদেশিক ঋণ নবায়নের খরচ, আর বাণিজ্যিক প্রকল্প-অর্থায়নের দাম—যেখানে অবকাঠামোর তালিকাটি আছে।
মুদ্রার পথটি আরও তীক্ষ্ণ। মার্কিন সুদহার বাড়লে পুঁজি ডলারের দিকে টানে, আর শক্তিশালী ডলার প্রতিটি আমদানির টাকার খরচ বাড়িয়ে দেয়—জ্বালানি, খাদ্যশস্য, মূলধনি যন্ত্র, শিল্পের কাঁচামাল—দেশে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়েই। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আসে চেনা পছন্দ: রিজার্ভ খরচ করা, নাকি বিনিময় হার ছেড়ে দেওয়া।
একটি খুঁটিনাটি মনোযোগ দাবি করে, কারণ তা একটি বৃত্ত পূর্ণ করে। সিএনএন বলছে, এই সুদহার ঠেলে তোলা মূল্যস্ফীতির একটি অংশ বাড়তি জ্বালানি খরচের ফল; আর বন্ডধারীরা ক্ষতিপূরণ চাইছেন "তাঁদের বিনিয়োগে বাড়তি গ্যাস ও ডিজেলের দামের প্রভাবের" জন্য। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালি কেবল বাংলাদেশের আমদানি বিলে নেই; আছে পরের ঋণে বাংলাদেশ যে সুদ দেবে তার ভেতরেও। এ দুটিকে সাধারণত আলাদা খবর হিসেবে দেখা হয়। আসলে এটি একটিই।




