বিশ্ব

আলাস্কার গ্যাসে দক্ষিণ কোরিয়ার ৫৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প, সিউল বলছে অঙ্কে রাজি হয়নি

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ কেবল বলেছে, বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা সাপেক্ষে দুই পক্ষ আলাস্কা প্রকল্পে "কাজ শুরু" করবে। কোনো অঙ্ক তারা দেয়নি। সিউলের বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন, অঙ্কটি সম্মত সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

আলাস্কার গ্যাসে দক্ষিণ কোরিয়ার ৫৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প, সিউল বলছে অঙ্কে রাজি হয়নি

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ৫৪০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া; আলাস্কা থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ধুঁকতে থাকা প্রকল্পটি এতে দুই মিত্রের দীর্ঘ বাণিজ্য আলোচনায় আরেকটি কাঁটা হয়ে উঠল।

একই বৈঠকের দুই বিবরণ

ট্রাম্প অঙ্কটি হাজির করেছেন বৃহত্তর এক সমঝোতার অংশ হিসেবে—যেখানে কোরীয় পণ্যে কম শুল্কের বিনিময়ে সিউল মার্কিন জ্বালানিতে ২০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।

সিউলের বিবরণ ভিন্ন। সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে বাণিজ্যমন্ত্রী কিম জুং-কোয়ান বলেছেন, "অঙ্ক বসানো বা চূড়ান্ত ভাষা ব্যবহার করা সম্মত সীমা অনেকটাই ছাড়িয়ে যায়।"

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নিজের বিবৃতিতে কেবল বলা হয়েছে, "বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা সাপেক্ষে" দুই দেশ আলাস্কা প্রকল্পে "কাজ শুরু" করতে সম্মত হয়েছে। কোনো অঙ্কই সেখানে নেই।

৮০৭ মাইলের পাইপলাইন আর একটি রপ্তানি টার্মিনাল মিলিয়ে ৪৫০০ থেকে ৫৫০০ কোটি ডলার ব্যয় ধরা প্রকল্পটি এক দশকের বেশি সময় ধরে উন্নয়নাধীন, আর অর্থায়ন ও ক্রেতার অভাবে বারবার আটকে গেছে। আলাস্কার একটি হাড্ডাহাড্ডি সিনেট লড়াইয়েও এটি এখন ইস্যু।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দক্ষিণ কোরিয়া; ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর থেকে তারা আমেরিকান কার্গো কিনছে বেশি।

বাংলাদেশে এর মানে কী

দুই বিবৃতি পাশাপাশি রাখলে কৌশলটি দেখা যায়। এক সরকার একটি অঙ্ক ঘোষণা করেছে; অন্যটি একটি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে। দুজনই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে সত্যি বলছেন, আর দুইয়ের ফাঁকেই চাপে পড়ে ছোট ক্রেতা।

বাংলাদেশ এখন সেই চাপেই আছে। পেট্রোবাংলার এলএনজি কেনা ক্রমে স্পট বাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দিকে সরেছে, কারণ সরবরাহ-সংকটের সময় স্পট কার্গোর দাম বাজার যা বলে তাই। দীর্ঘ চুক্তিই যুক্তিসংগত উত্তর—আর এ খবরটি সতর্ক করে, সেগুলো কীভাবে আলোচনা হয় তা নিয়ে।

দক্ষিণ কোরিয়া ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারের অর্থনীতি, পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম এলএনজি ক্রেতা, আর তাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিপরীত কথা বলতে পারে। তারপরও এমন একটি অঙ্কের সঙ্গে তাদের নাম জুড়ে গেছে, যাতে তারা বলছে রাজি হয়নি। ওই সুবিধার কিছুই না থেকে ভগ্নাংশ পরিমাণ কেনা বাংলাদেশের ধরে নেওয়া উচিত, তার জায়গা বেশি নয়—কম।

কাজের শিক্ষাটি সরু ও দরকারি: জ্বালানির ঘোষণায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নয়, ক্রয়ের নথিটি পড়ুন। এখানে যে কথাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা হলো "বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা সাপেক্ষে"—কয়েকটি শব্দ, যা শিরোনামের প্রতিশ্রুতিকে বদলে দেয় একটি বিকল্পে। বাংলাদেশি জ্বালানি সমঝোতাগুলোতেও এ ধরনের ধারা থাকে, আর আসল শর্তগুলো থাকে সেখানেই।

এসবের পেছনের সরবরাহ-সংকটটি আছে হরমুজ নৌপথের বিরোধে।

সূত্র: CNN

লিখেছেন

Miraj S

টেক বিডিতে প্রযুক্তির ব্যবসা নিয়ে লেখেন মিরাজ এস — বাংলাদেশের প্রযুক্তি অর্থনীতি, ই-কমার্স, টেলিকম, যন্ত্রাংশের দাম আর সেগুলোর পেছনের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ঢাকার বাজারদরের নিয়মিত হিসাব তিনিই রাখেন—অর্থাৎ ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গেই তা তাঁকে জানানো হয়।