বিশ্ব

মার্কিন ডিজেল রপ্তানি বন্ধে সায় দেবেন ট্রাম্প। যারা এই ডিজেল কেনে, তারা তাকিয়ে আছে

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায়; প্রেসিডেন্ট বলছেন, জ্বালানিটি দেশেই রাখার ডাক তিনি দিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা কাজ করবে কি না, খতিয়ে দেখছে ট্রেজারি।

মার্কিন ডিজেল রপ্তানি বন্ধে সায় দেবেন ট্রাম্প। যারা এই ডিজেল কেনে, তারা তাকিয়ে আছে

গাড়িচালকদের জন্য পাম্পের দাম কমাতে মার্কিন ডিজেল রপ্তানি বন্ধের প্রস্তাবে সায় দেবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যা বলা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় ওঠায় নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের চাপের পর এল তাঁর এই মন্তব্য।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে তিনি বলেন, দেশের সরবরাহ দেশে রাখলে পেট্রলের দামও কমতে পারে। তাঁর ভাষায়, "আমিও সেই ডাক দিয়েছি। বলেছি, ডিজেল বাইরে পাঠাব না। আমরা প্রচুর ডিজেল বানাই। এতে সাধারণ গাড়ির গ্যাসোলিনেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।"

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিশ্চিত করেছেন, শোধনাগারের সক্ষমতা ব্যাহত না করে "পূর্ণ নাকি আংশিক নিষেধাজ্ঞা কাজ করবে" তা কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন—আর এই শর্তটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন শোধনাগারগুলো দেশের বাজারের চাহিদার চেয়ে বেশি ডিজেল বানানোর জন্যই সাজানো।

একই দিনে খবরটি দেয় রয়টার্স, সিএনবিসি, অ্যাক্সিওস ও দ্য হিল; আর এল পাইস জানায়, মার্কিন শোধিত জ্বালানির একক বৃহত্তম ক্রেতা মেক্সিকো সতর্ক অবস্থায় গেছে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে খুব বেশি ডিজেল কেনে না। তার মানে এই নয় যে প্রভাব পড়বে না—আর এই পার্থক্যটিই এ গল্পের মূল কথা।

ডিজেল বিশ্ববাজারে লেনদেন হওয়া পণ্য, যার দাম একটিই। বৃহত্তম রপ্তানিকারক যদি সমুদ্রপথের বাজার থেকে সরবরাহ তুলে নেয়, তবে যারা সেই সরবরাহ হারাবে—মেক্সিকো, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা—তারা দর হাঁকবে ঠিক সেই চালানগুলোতেই, বাংলাদেশ যেগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল ও সিঙ্গাপুর থেকে কেনে। দাম বাড়বে সর্বত্র, এমনকি যে দেশ কখনো এক ব্যারেল মার্কিন তেলও কেনেনি তার জন্যও।

এ দেশে এটি বেশির ভাগ জায়গার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশ অস্বাভাবিকভাবে ডিজেল-নির্ভর। দেশটি যত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করে, তার একক বৃহত্তম ডিজেল। বোরো ধান সম্ভব করে তোলা সেচপাম্প, দেশের সব পণ্য সরানো ট্রাক, বাস, মাছ ধরার নৌকা আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ—সবই চলে এতে। তাই ডিজেলের দামের ধাক্কা এখানে পরিবহনের খবর নয়। এটি এক মৌসুম দেরিতে আসা খাদ্যমূল্যের খবর।

দ্বিতীয় অর্ধেকটা রাজস্বের। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে সরকার হয় তা ভোক্তার ওপর ছেড়ে দেয়—যা সরাসরি পরিবহন ভাড়া ও খাবারে গিয়ে পড়ে—নয়তো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে শুষে নেয়, যাতে তা গিয়ে পড়ে বাজেটে। এই সমন্বয় স্বয়ংক্রিয় করতে আনা সূত্রভিত্তিক দাম দুই দিকেই কাজ করে, আর সেটিই এর পক্ষে যুক্তি; রাজনৈতিক অসুবিধা সব সময়ই আসে ওপরের দিকের ধাপে।

কাজের একটি আগাম কথা: বোরোর সেচ মৌসুম মোটামুটি ডিসেম্বর থেকে মার্চ, আর এ সময়েই বাংলাদেশের ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে কম কমানো যায়। উত্তর গোলার্ধের শীতজুড়ে তৈরি হওয়া সরবরাহ-সংকট এসে পৌঁছাবে ঠিক তখনই।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।