দক্ষিণ-পশ্চিম টেক্সাসের ছোট শহর উভালডির চারপাশের সমতল, শুকনো জমিতে স্টিভ কারগিলের পরিবার চাষ করছে ১৯৫৩ সাল থেকে। ৬৭ বছরের কারগিল সব সময় ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর তিন সন্তানের কেউ একজন খামারটি নেবেন—যেমন তিনি নিয়েছিলেন বাবার কাছ থেকে।
যে রাতে সব বদলে গেল
২০১৮ সালে সেই ধরে নেওয়াটা ধাক্কা খায়। কারগিল আর তাঁর ছেলে রায়ান মাসের পর মাস যত্ন করে বাঁধাকপি আর পেঁয়াজের ফসল তোলার পর্যায়ে এনেছিলেন। প্রচণ্ড এক শিলাবৃষ্টি এসে রাতারাতি সব শেষ করে দেয়।
কারগিল বলেন, "মনে আছে, আমার ছেলে বলেছিল, ‘বাবা, আমি জানি না আমি এটা পারব কি না। তুমি সব ঠিকঠাক করো, আমরা এত খাটি, আর একদিন সকালে বেরিয়ে দেখো সব শেষ’।"
এই অর্থনীতিই বদলটা এনেছে। এমন অঞ্চলে চাষের আয় এমনভাবে অস্থির, যা কোনো পরিমাণ দক্ষতা দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সৌর-আয় তা নয়। শিলাবৃষ্টি হোক বা না হোক ইজারার টাকা একই থাকে, আর তা আসে দশকের পর দশক—আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের তেলের রাজধানী টেক্সাস হয়ে উঠেছে দেশটির বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদকদের একটি।
বাংলাদেশে এর মানে কী
টেক্সাসের সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাধারণত যে শিক্ষা নেওয়া হয়, তা আকার আর রোদ নিয়ে। বাংলাদেশের জন্য বেশি কাজের শিক্ষাটি আয়ের অস্থিরতা নিয়ে, কারণ আসলে সমাধান হচ্ছে সেই সমস্যারই।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র চাষি একই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন আরও কঠিন রূপে—বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, পোকার আক্রমণ, কিংবা কেবল সে বছর সবাই যা লাগিয়েছে তার দাম ধসে পড়া। যা নেই তা হলো একই জমিতে এমন কোনো আয়, যা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে না।
স্পষ্ট আপত্তিটি জমি নিয়ে, আর আপত্তিটি সঠিক। বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,১০০ মানুষ; সৌর-খামার গড়তে আবাদি জমি সরিয়ে নেওয়া এখানে সম্ভব নয়। টেক্সাসের সমস্যা উল্টো। মডেলটি হুবহু নকল করা যাবে না।
যা করা যাবে, তা হলো সেই সংস্করণ—যা জমির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না। কারখানা ও গুদামের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ দেশের সবচেয়ে বড় অব্যবহৃত সম্পদ—কেবল পোশাকশিল্পেই আছে বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত শিল্প-ছাদ, যা এমনিতেই গ্রিডে যুক্ত আর এমনিতেই দিনের দামি বিদ্যুতের দাম দিচ্ছে। দেশের পুকুর, খাল ও জলাধারের ওপর ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ব-দ্বীপের জন্য সত্যিই মানানসই। আর সৌর সেচ ডিজেল পাম্পের জায়গা নেয় ঠিক সেখানে, যেখানে চাষির নগদ খরচ সবচেয়ে বেশি।
অর্থায়নের কাঠামোটিই হুবহু আমদানি করার মতো। কারগিল কোনো সৌরকেন্দ্র কেনেননি; একজন ডেভেলপার তাঁর জমি ইজারা নিয়ে তাঁকে টাকা দেন। এর বাংলাদেশি সমতুল্য—ডেভেলপার কারখানার ছাদে বসিয়ে দীর্ঘ চুক্তিতে কারখানাকেই বিদ্যুৎ বিক্রি করবেন, মালিকের কোনো মূলধন খরচ ছাড়াই—সেই বাধাটিই সরিয়ে দেয়, যা এ দেশে ছাদের সৌরবিদ্যুৎ সত্যিই আটকে রাখে; আর তা রোদ বা প্রযুক্তি নয়, শুরুর খরচ।
সূর্য ডোবার পর কী হয়—সেটিই মূল বাধা হয়ে থাকে, আর তা আমরা দেখেছি ব্যাটারিতে ইউরোপের দ্বিতীয় দৌড় লেখায়।




