মাদ্রিদের পশ্চিমে গ্রেদোস পাহাড়ের ছোট্ট এক সবুজ তৃণভূমিতে চরছে হুয়ান আনহেল ইথকিয়েরদো ও তাঁর পরিবারের কুড়ি-পঁচিশটি গরু। একমাত্র শব্দ তাদের গলার ঘণ্টার টুংটাং।
যা টিকে আছে
দৃশ্যটি মনোরম হতো, যদি চারপাশে পোড়া পাইন আর ওক গাছ না থাকত—সাম্প্রতিক এক দাবানলের রেখে যাওয়া চিহ্ন। ইথকিয়েরদো, যাঁর পরিবার এখানে চাষ করছে ২০০ বছর ধরে, বলেন, "এটা ছিল বিশাল, এমন কিছু আমি কখনো দেখিনি।"
জুলাইয়ের শেষে লাগা আগুনটি আরও দুটির সঙ্গে মিশে পুড়িয়ে দেয় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর (দুই লাখ একর), যা স্পেনের নথিভুক্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানল।
এতে পুড়ে যায় ইথকিয়েরদোর দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি জমি, মারা যায় তাঁর ৮৫টি গরুর ১২টি। আঘাতের কারণে আরও আটটিকে মেরে ফেলতে হয়। শীতে পশুদের খাওয়াতে জমিয়ে রাখা সব খড়ও পুড়ে যায় সঙ্গে।
তিনি বলেন, "আমাদের কৃষকদের জন্য গ্রীষ্মকাল দিন দিন আরও দুশ্চিন্তার হয়ে উঠছে, কারণ গরম বাড়ছে। বৃষ্টি কমছে, ভেজা মৌসুম আগেই ফুরিয়ে যাচ্ছে, আর শরৎ শুরু হচ্ছে অনেক দেরিতে।"
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশ পোড়ে না। এখানে হয় বন্যা, লবণাক্ততা আর ভাঙন। কিন্তু ইথকিয়েরদোর শেষ বাক্যটিই এখানে চলে আসে, আর তা এমন কিছুর বর্ণনা—বাংলাদেশের কৃষকেরা প্রায় হুবহু একই কথায় যা বলেন: ঋতুগুলো আর আগের সময়ে আসে না।
এ দেশের কৃষি-পঞ্জিকা গড়া হয়েছিল এমন এক বর্ষার ওপর, যা শুরু ও শেষ হতো অনুমানযোগ্য সময়সীমার ভেতরে। কৃষকেরা এখন জানাচ্ছেন খাটো ও আরও উগ্র বর্ষার কথা, দেরিতে শুরু হওয়ার কথা—যা রোপণ পিছিয়ে দেয়—আর বর্ষা থাকার কথা যে সময়টায়, সেই মাঝখানে শুকনো সময়ের কথা। সবচেয়ে ঝুঁকিতে আমন ধান, কারণ তার সময়সূচিতে নমনীয়তা সবচেয়ে কম।
দ্বিতীয় মিলটি স্পেনের গল্প স্পষ্ট করে দেখায়: ক্ষতি শুধু ফসলের নয়। ইথকিয়েরদো চারণভূমির সঙ্গে হারিয়েছেন শীতের খাবারও, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতেও আগুনটি তাঁর খরচ বাড়াবে। কুড়িগ্রামে বন্যায় পড়া বাংলাদেশি কৃষক হারান দাঁড়িয়ে থাকা আমন, পরের মৌসুমের জন্য রাখা বীজ, আর প্রায়ই গবাদিপশু—যা আসলে পরিবারের সঞ্চয়ের হিসাব। এর প্রতিটিই আলাদা আঘাত; আর যে ত্রাণ কেবল প্রথমটির জায়গা নেয়, তা পরিবারটিকে দেখতে যতটা মনে হয় তার চেয়ে বেশি পিছিয়ে রাখে।
এখান থেকেই বেরিয়ে আসে ব্যবহারিক ফাঁকটি। স্পেনে কৃষি বিমা আছে, ইথকিয়েরদো কিছু ফেরত পাবেন। বাংলাদেশে প্রায় নেই—শস্য বিমা বারবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে আর কখনো বড় পরিসরে পৌঁছায়নি; হার মেনেছে লাখ লাখ ক্ষুদ্র জমিতে দাবি যাচাইয়ের খরচের কাছে। সূচকভিত্তিক বিমা ঠিক এ সমস্যার জন্যই বানানো: পরিদর্শন করা জমির বদলে বৃষ্টিপাত বা নদীর উচ্চতার মতো মাপা সূচকের ভিত্তিতে টাকা দেওয়া। এটি চালানোর প্রযুক্তি—উপগ্রহের বৃষ্টিপাতের তথ্য, মোবাইল আর্থিক সেবা, চালু এজেন্ট নেটওয়ার্ক—সবই বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই আছে।
ঝুঁকিটি নতুন নয়। তা ভাগ করে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকাটাই এখন ব্যাখ্যা করা কঠিন। একই অস্থিরতার মুখে থাকা অন্য একটি শিল্প নিয়ে লিখেছি বিমান চলাচলের আরও গরম, আরও ঝড়ো আকাশ লেখায়।




