পনেরো বছর আগে ভারতে অ্যাভোকাডোর বাজার প্রায় ছিলই না—মনে করেন মধু বোপাইয়া। পাকা ফল গাছ থেকে পড়ে যেত আর কুকুরে খেত; এ থেকেই অ্যাভোকাডোর জুটেছিল অরুচিকর নাম—কুকুরের ফল।
দুর্ঘটনা থেকে ব্যবসা
ভারতের বাগিচা শিল্পে বোপাইয়া কাজ করছেন ২৬ বছর ধরে; তিনি এখন কোত্তানাদ প্ল্যান্টেশনসের গ্রুপ ব্যবস্থাপক, যারা কেরালার ওয়ানাড়ের পাহাড়ে কোকো, রাবার, কফি, মসলা ও ফল—অ্যাভোকাডোসহ—ফলায়।
তাঁর ভাষায়, "আমরা কখনো অ্যাভোকাডোকে প্রধান ফসল হিসেবে লাগাইনি। কফিবাগানের ছায়াগাছ হিসেবে এনেছিলাম, আর অনেক পরে বুঝলাম এটি লাভজনক ব্যবসা হয়ে উঠতে পারে।"
মোড় ঘোরার সময়টিকে তিনি ধরেন ২০১১ সালের কাছাকাছি, যখন বলিউড তারকা শিল্পা শেঠি বলেন তিনি ত্বকের যত্নে অ্যাভোকাডো ব্যবহার করেন। তাঁর কথায়, "রাতারাতি দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল, তারপর বাড়তেই থাকল।"
বাংলাদেশে এর মানে কী
এখানে আলাদা দুটি শিক্ষা আছে, আর দুটিকে গুলিয়ে না ফেলাই ভালো।
প্রথমটি বেশি পড়ে ফেলা হবে। এ থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা সহজ যে বাংলাদেশের অ্যাভোকাডো লাগানো উচিত। পাহাড়ি জেলাগুলোতে কিছু চাষ হচ্ছেও, আর ফলটি এ জলবায়ু সহ্যও করে। কিন্তু ভারতের রমরমা দাঁড়িয়ে ছিল বড় শহুরে মধ্যবিত্তের ওপর, যারা চড়া দাম দিতে রাজি; নরম ফল সরানোর শীতল সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর; আর টাকা আসার আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গাছ পরিণত হওয়ার ওপর। অ্যাভোকাডোয় ফল ধরতে লাগে তিন থেকে পাঁচ বছর। দ্রুত লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাঁরা চারা বিক্রি করছেন, তাঁরা এ গল্পের ভুল অংশটি বেচছেন।
দ্বিতীয় শিক্ষাটি টেকসই, আর তা কোত্তানাদ আসলে যা করেছে তা নিয়ে: অন্য উদ্দেশ্যে লাগানো একটি গাছ থেকে তারা আয় করেছে। একে বলে আন্তঃফসল, আর বাংলাদেশের কৃষিতে এটিই সবচেয়ে কম ব্যবহৃত ধারণা। চা-বাগানের ছায়াগাছ, ধানের জমির আলে গাছ লাগানো, পার্বত্য অঞ্চলে রাবারের ফাঁকে ফলের গাছ—এক ফসলে দেওয়া জমি বাড়তি জমি ছাড়াই আর সামান্য বাড়তি শ্রমে দ্বিতীয় একটি ফসল বইতে পারে।
তৃতীয় কথাটি এ দেশের চাষিরা ইতিমধ্যেই কষ্টকর অভিজ্ঞতায় জানেন। বাংলাদেশ এ চক্র বারবার দেখেছে—ড্রাগন ফল, মাল্টা, ক্যাপসিকাম, মাশরুমে। একটি ফসল নজরে আসে, সবাই একসঙ্গে লাগায়, ফলনও আসে একসঙ্গে, দাম ধসে পড়ে; আর ফসল বদলাতে যাঁরা ঋণ করেছিলেন, তাঁরাই হারান। ওয়ানাড়ের অ্যাভোকাডো কাজ করেছে খানিকটা এ কারণেই যে কেউ এটিকে বাজি ধরে লাগায়নি।
তাই কাজের প্রশ্নটি "এর বদলে কী লাগাব?" নয়; বরং আরও সরু একটি প্রশ্ন: অন্য কোনো কারণে আপনার জমিতে ইতিমধ্যেই কী জন্মাচ্ছে, আর তা কারও দরকার আছে কি না?




