বিশ্ব

ছয় লাখ মানুষের তিরানায় প্রায় ৪০০ দাঁতের ক্লিনিক। এটি দুর্ঘটনা নয়

বোল্টনের এক জানালা পরিষ্কারকর্মী দেখাচ্ছেন আলবেনিয়ার রাজধানীতে বসানো নতুন দাঁত। আলবেনিয়া জোরেশোরে নামছে চিকিৎসা পর্যটনে, আর কেন—তার হিসাবটি শেখার মতো।

ছয় লাখ মানুষের তিরানায় প্রায় ৪০০ দাঁতের ক্লিনিক। এটি দুর্ঘটনা নয়

অ্যান্থনি হুক বসে আছেন দন্তচিকিৎসকের চেয়ারে, হাতের আয়নায় তাকিয়ে হাসছেন। বোল্টনের ৫৮ বছর বয়সী এই জানালা পরিষ্কারকর্মী এখন ঝকঝকে নতুন "তিরানা দাঁত"-এর গর্বিত মালিক।

মাড়ির দাঁতে ভরা এক শহর

এটি কোনো ব্র্যান্ডের নাম নয়—অন্তত এখনো নয়। কিন্তু নামটি মানিয়ে যায়, কারণ আলবেনিয়া জোরেশোরে নামছে চিকিৎসা পর্যটনের ব্যবসায়, আর কেন্দ্রে আছে তার রাজধানী।

প্রথম দাঁতটি চোখে পড়লেই এরপর সব জায়গায় দেখতে পাবেন: আকারে বড় করে বানানো আলোকিত মাড়ির দাঁত, যা জানান দেয় কাছেই কোনো দাঁতের ক্লিনিক আছে। তিরানার মহানগর এলাকাতেই আছে প্রায় চার শ দাঁতের ক্লিনিক, যার বেশির ভাগই শহরের কেন্দ্রে—আর জনসংখ্যা প্রায় ছয় লাখ।

অর্থনীতিটি রহস্যময় নয়। দাঁতের কাজ শ্রমনির্ভর, রোগীরা যেসব দেশ থেকে আসেন সেখানে তা বেশির ভাগই বিমার বাইরে, আর দাম ঠিক হয় স্থানীয় মজুরিতে। প্রশিক্ষিত দন্তচিকিৎসক ও কম খরচের যে দেশ ইউরোপের ভেতরে এবং ব্রিটেন থেকে অল্প সময়ের উড়ানে, তারা যুক্তরাজ্যের বেসরকারি দন্তচিকিৎসার চেয়ে এতটাই কম নিতে পারে যে উড়ানের খরচ কয়েকবার উঠে আসে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

এই বাণিজ্যের ভুল দিকে আছে বাংলাদেশ, আর সংখ্যাটি বড়। বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসায় খরচ করেন আনুমানিক বছরে ৪০০-৫০০ কোটি ডলার, বিপুলভাবে ভারতে; বেশি খরচের ক্ষেত্রগুলো যায় থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে। এটি বৈদেশিক মুদ্রা, যা এমন এক দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে যার তা দরকার—আর যাচ্ছে সক্ষমতার ঘাটতির মতোই আস্থার ঘাটতির কারণেও।

সেটি সারানোর প্রশ্নে আলবেনিয়ার গল্পটি পড়ার মতো। আলবেনিয়া বিশ্বসেরা হাসপাতাল বানিয়ে গন্তব্য হয়নি। হয়েছে একটি সরু, বিপুল পরিমাণের, কম জটিল পদ্ধতিতে মনোযোগ দিয়ে, দামে প্রতিযোগিতা করে, আর বিদেশি রোগীর কাছে অভিজ্ঞতাটিকে বোধগম্য করে তুলে—স্পষ্ট দর, ইংরেজি জানা কর্মী, হোটেলসহ প্যাকেজ।

ঠিক এই পদ্ধতিগুলোতেই বাংলাদেশের একই মৌলিক সুবিধা আছে। ডেন্টাল ইমপ্লান্ট, ক্রাউন, ছানির অস্ত্রোপচার ও হাড়ের কাজ—সবই এখানে দক্ষতার সঙ্গে হয়, ভারতের বেসরকারি দামের ভগ্নাংশে। যা নেই তা দক্ষতা নয়। নেই বিদেশি রোগী যাচাই করতে পারেন এমন স্বীকৃতি, প্রকাশিত দাম, আর অভিযোগ জানানোর বাস্তব পথ।

উল্টো দিকে যাওয়া বাংলাদেশি রোগীদের জন্য যেকোনো ব্রোশিওরের চেয়ে দামি তিনটি যাচাই। জিজ্ঞেস করুন ফলোআপ কে করবে—ইমপ্লান্ট বা প্রসাধনী কাজের জটিলতা দেখা দেয় সপ্তাহ কয়েক পরে, যখন রোগী দেশে আর ক্লিনিক অন্য দেশে। কোন উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে তা লিখিতভাবে নিন, কারণ ভালো আর সস্তা ইমপ্লান্টের ফারাক মুখের ভেতরে অদৃশ্য আর দশ বছরে নির্ণায়ক। আর স্থানীয় বাজারের চেয়ে নাটকীয়ভাবে কম দামকে সন্দেহ করুন—তিরানা, চেন্নাই বা ঢাকা যেখানেই হোক; কারণ দন্তচিকিৎসায় ওই ছাড়টি প্রায় সব সময়ই থাকে যে অংশগুলো আপনি দেখতে পান না, সেখানে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।