বিশ্ব

"কর্মীদের মূল্যায়ন হচ্ছে নিজেদের ছাঁটাইয়ে তাঁরা কতটা কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারেন, তা দিয়ে"

এআই ব্যবহার করে বেশি কাজ শেষ করলে বোনাস পান ডানকান ট্রেভিথিক। এতে তাঁর আসলে কী লাভ, তার হিসাব তিনি করেছেন—আর উত্তরটি দুই দিনের ছুটি নয়।

"কর্মীদের মূল্যায়ন হচ্ছে নিজেদের ছাঁটাইয়ে তাঁরা কতটা কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারেন, তা দিয়ে"

কাজে এআই ব্যবহারে দক্ষ হওয়া ডানকান ট্রেভিথিকের নিজের স্বার্থেই। বেশি কাজ দ্রুত শেষ করতে পারলে বছর শেষে তিনি বোনাস পাবেন। উপর থেকে দেখলে ভালো প্রণোদনা। তবে এতে তাঁর আসলে কী লাভ, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

অস্বস্তিকর পাঠটি

স্পেনে থাকা ৩৪ বছরের ট্রেভিথিক, যিনি একটি এআই প্রশিক্ষণ-উপাত্ত কোম্পানির বিপণনে কাজ করেন, বলেন, "অস্বস্তিকর ব্যাখ্যাটি হলো, কর্মীদের মূল্যায়ন হচ্ছে নিজেদের ছাঁটাইয়ে তাঁরা কতটা কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারেন, তা দিয়ে।"

তিনি বলছেন, প্রতি সপ্তাহে দুই দিনের কাজ যদি এআই দিয়ে সামলে ফেলেন, তবু হিসাব মেলে না। "আমি দুই দিন ছুটি পাই না, ৪০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধিও না। বাড়তি উৎপাদন কেবল নতুন মানদণ্ড হয়ে যায়। স্বল্প মেয়াদে এতে হয়তো পদোন্নতি হবে। দীর্ঘ মেয়াদে আমি প্রমাণ করতে সাহায্য করলাম, আমার কাজের কতটুকুতে আর আমাকে লাগে না।"

এটিই কাঠামোগত কথা, আর এআই ভালো না মন্দ—সে বিষয়ে কোনো মতের ওপর এটি নির্ভর করে না। উৎপাদনশীলতার লাভ যায় তার ঘরে, দর-কষাকষির ক্ষমতা যার আছে। নিজের কাজ কম সময়ে হয়ে যায় তা দেখিয়ে দেওয়া একজন কর্মী সাধারণ ক্ষেত্রে লাভ ঘরে তুলছেন না, বরং তথ্য হস্তান্তর করছেন।

বাংলাদেশে এর মানে কী

যে দেশের সবচেয়ে বড় সেবা-রপ্তানিই অন্যের সময় বিক্রি করা, সেখানে এ যুক্তি অন্যভাবে এসে পড়ে।

বাংলাদেশে কয়েক লাখ ফ্রিল্যান্সার আর একটি বড় আইটি-নির্ভর সেবা খাত আছে; আর সেই কাজের বড় অংশ—কনটেন্ট লেখা, সাধারণ ডিজাইন, ডেটা এন্ট্রি, প্রতিলিপি, প্রথম সারির সাপোর্ট, সহজ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট—ঠিক সেই স্তরেই পড়ে, বর্তমান এআই টুল যা মোটামুটি ভালোভাবেই পারে। ওই কাজগুলোতে দেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ছিল দাম। কাজ যত গতানুগতিক, সেই সুবিধা তত দ্রুত ক্ষয়ে যায়।

বাংলাদেশি আলোচনায় যে জবাবটি বেশি শোনা যায়—"এআই টুল শিখুন"—তা ভুল নয়, তবে ঠিক সেভাবেই অসম্পূর্ণ, যেভাবে ট্রেভিথিক ধরিয়ে দিচ্ছেন। ক্লায়েন্টের কাছে আপনার মূল্য যদি এটুকু হয় যে আপনি এমন একটি টুল চালাতে পারেন যা ক্লায়েন্টও চালাতে পারতেন, তবে আপনি ওপরে ওঠেননি; কেবল এমন একটি কাজে দ্রুততর হয়েছেন, যার দাম নতুন করে ঠিক হচ্ছে।

মূল্য ধরে রাখে সেই অংশটি, যা কোনো টুল দিতে পারে না: ক্লায়েন্টের আসলে কী দরকার সে বিষয়ে বিচারবুদ্ধি, ভুল হলে দায় নেওয়া, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, আর সম্পর্ক। যে ফ্রিল্যান্সার বলতে পারেন "আপনার ব্রিফটাই ভুল, আর কেন তা বলছি"—তিনি কোনো মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেই। আর যিনি যা চাওয়া হয়েছে ঠিক তা-ই দ্রুত দিয়ে দেন, তিনি আছেন।

এ দেশের নিয়োগকর্তাদের জন্য আরও সরু একটি সতর্কবার্তা। বোনাসকে এআই ব্যবহারের সঙ্গে জুড়ে দিলে ভুল জিনিস মাপা হয়—তাতে ফলাফল নয়, টুল গ্রহণকেই পুরস্কৃত করা হয়; আর নিজের সেরা মানুষদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা তাঁদের স্বয়ংক্রিয় করে ফেলা। যে শ্রমবাজারে ভালো ডেভেলপাররা এমনিতেই বিদেশি রিমোট কাজের জন্য চলে যাচ্ছেন, সেখানে এটি দামি এক বার্তা।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।