বিশ্ব

ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি রাসায়নিক ট্যাংক প্রায় বিস্ফোরিত হয়েছিল—আর উড়োজাহাজের জানালার উৎপাদন এখনো পুরোপুরি ফেরেনি

জিকেএন এরোস্পেসের এক কেন্দ্রে ৭ হাজার গ্যালন বিষাক্ত উপাদানের ট্যাংক গরম হতে শুরু করে। সরানো হয় ৫০ হাজার বাসিন্দাকে, আসে ১০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি, আর একটিমাত্র সরবরাহ লাইন এখনো পূর্ণ হয়নি।

ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি রাসায়নিক ট্যাংক প্রায় বিস্ফোরিত হয়েছিল—আর উড়োজাহাজের জানালার উৎপাদন এখনো পুরোপুরি ফেরেনি

লস অ্যাঞ্জেলেসের দক্ষিণে তৈরি হচ্ছিল এক শিল্প-দুঃস্বপ্ন। মে মাসের শেষে ৭ হাজার গ্যালনের বেশি বিষাক্ত উপাদান ধারণ করা একটি রাসায়নিক ট্যাংক দ্রুত গরম হতে শুরু করে।

প্রায় যা ঘটতে যাচ্ছিল

ট্যাংকটি ছিল জিকেএন এরোস্পেসের, যারা উড়োজাহাজের জানালাসহ বিমান শিল্পে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় কর্মীরা বুঝতে পারেন, ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হয়ে আশপাশের পাড়ায় মিথাইল মিথাক্রাইলেট ছড়িয়ে দিতে পারে—প্লাস্টিক উৎপাদনে ব্যবহৃত এই যৌগ ত্বক ও ফুসফুসে জ্বালা ধরায়।

তাপমাত্রা পৌঁছায় ১০০ ফারেনহাইটে (৩৮ সেলসিয়াস)—সম্ভবত আরও বেশি, কারণ ভেতরের মাপকাঠিতে ১০০ ফারেনহাইটই ছিল সর্বোচ্চ পাঠ। গার্ডেন গ্রোভের ৫০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়, আর দমকলকর্মীরা ট্যাংক ঠান্ডা করতে পানি ছিটাতে থাকেন। স্থানীয় দমকলপ্রধানের ভাষায়, একপর্যায়ে পাত্রটি "সত্যিই ফুলে উঠেছিল"।

বিস্ফোরণ হয়নি। আগস্টে জিকেএন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণে ১০ কোটি ডলারের (৭.৪ কোটি পাউন্ড) কর্মসূচি ঘোষণা করে। কিন্তু ওই কেন্দ্রে বন্ধ হয়ে যাওয়া উড়োজাহাজের জানালার উৎপাদন এখনো পুরোপুরি ফেরেনি।

বাংলাদেশে এর মানে কী

চোখে পড়ার মতো বিষয়টি রসায়ন নয়। বিষয়টি হলো, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কেন্দ্রে একটি ঘটনা এমন একটি যন্ত্রাংশের সরবরাহ থামিয়ে দিতে পারে, যা প্রতিটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজেই লাগে—কারণ পৃথিবীতে সেটি বানানোর জায়গা খুব কম।

আধুনিক উৎপাদনের চেহারাটাই এমন, আর বাংলাদেশ একই ছকের ভেতরে আছে উল্টো দিক থেকে। দেশের রপ্তানি অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে এর ওপর যে নির্দিষ্ট একটি কাজ বড় পরিসরে করে এমন খুব কম জায়গার একটি এই দেশ—এ ক্ষেত্রে পোশাক সংযোজন। অরক্ষিততা দুই দিকেই চলে: বাংলাদেশে কোনো বিঘ্ন ঘটলে ক্রেতারা বিপদে পড়েন, আর ক্রেতাদের দ্বিতীয় উৎস খুঁজতে বাধ্য করে এমন যেকোনো কিছুতে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

এ থেকে দুটি ব্যবহারিক পাঠ। প্রথমটি দেশের ভেতরের কেন্দ্রীভবন-ঝুঁকি নিয়ে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিজেই কেন্দ্রীভূত—ভৌগোলিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামকে ঘিরে, আর পরিচালনগতভাবে হাতে গোনা কয়েকটি বন্দর, একটি প্রধান বিমানবন্দর ও বেশির ভাগ পরিমাণ সামলানো একটিমাত্র কনটেইনার টার্মিনালের ওপর। এগুলোর যেকোনোটিতে আগুন, বন্যা বা দীর্ঘ বন্ধ বাংলাদেশের রপ্তানির সঙ্গে তা-ই করবে, গার্ডেন গ্রোভ যা করেছে উড়োজাহাজের জানালার সঙ্গে।

দ্বিতীয়টি ক্রেতারা এখন কিসের জন্য টাকা দেন তা নিয়ে। মহামারির পর থেকে বড় আমদানিকারকেরা সবচেয়ে কম একক দামের বদলে সরবরাহের নিশ্চয়তার জন্য বাড়তি দিতে রাজি—দুই উৎস, মজুত রাখা, লিখিত বিকল্প পরিকল্পনা। বাংলাদেশি সরবরাহকারীর জন্য "আপনার কারখানা থেমে গেলে কী হবে" প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দেখাতে পারা এখন একটি বাণিজ্যিক সম্পদ, কমপ্লায়েন্সের ঝক্কি নয়।

আর নিরাপত্তার শিক্ষাটির কোনো অভিযোজনই লাগে না। ক্যালিফোর্নিয়ার ট্যাংকে যে মাপকাঠি ছিল, তা যে তাপমাত্রায় পৌঁছেছিল সেটিই পড়তে পারেনি। বাংলাদেশের বহু রাসায়নিক গুদাম, ডাইং হাউস ও বয়লার কক্ষে যন্ত্রব্যবস্থা এর চেয়ে ভালো নয়।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।