বিশ্ব

ফোর্ডের ড্যাগেনহ্যামে ইঞ্জিন উৎপাদন এক দশকে অর্ধেক। পরিকল্পনা এখন সামরিক যান বানানো

ফোর্ডের ড্যাগেনহ্যাম কারখানায় উৎপাদন বছরে ৯০ হাজার ইঞ্জিন থেকে নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। জেনারেল ডায়নামিকস ও রিকার্ডোর সঙ্গে মিলে কোম্পানিটি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে ৯ হাজার যান সরবরাহের দরপত্রে আছে।

ফোর্ডের ড্যাগেনহ্যামে ইঞ্জিন উৎপাদন এক দশকে অর্ধেক। পরিকল্পনা এখন সামরিক যান বানানো

সবুজ, পেশিবহুল আর ভয় ধরানো—ফোর্ডের নতুন যানটি দেখতে যেন হাল্ক হয়ে যাওয়া কোনো পিকআপ। রেঞ্জারের ভিত্তিতে বানানো এটি দুই টন বইতে আর চার টন টানতে পারে; আর সেই সঙ্গে বইছে ড্যাগেনহ্যামে এখনো ইঞ্জিন বানানো দুই হাজার কর্মীর আশাও।

অর্ধেক গতিতে চলা এক কারখানা

কারখানার ভেতরে যে তিন লিটারের ডিজেল ইঞ্জিনগুলো এটিকে চালাবে, সেগুলো নামছে এমন এক উৎপাদন লাইনে—গত এক দশকে যার উৎপাদন বছরে ৯০ হাজার ইঞ্জিন থেকে নেমেছে প্রায় অর্ধেকে।

ফোর্ড আশা করছে, সামরিক যানের দিকে ঝোঁক সেই শূন্যতা কিছুটা ভরাতে পারবে, যা তৈরি হয়েছে কোম্পানির যুক্তরাজ্য-প্রধানের ভাষায় মোটরগাড়ি আবিষ্কারের পর সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে। একদা পরাক্রমশালী ইউরোপীয় গাড়িশিল্প এখন দেখাচ্ছে দুর্বল, আর আশা করছে ইউরোপের পুনঃসমরায়নে লাফিয়ে বাড়া প্রতিরক্ষা বাজেট তাকে আবার পেশি দেখানোর সুযোগ দেবে।

ফোর্ড জেনারেল ডায়নামিকস ও রিকার্ডোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন এক চুক্তির দরপত্রে, যেখানে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে সরবরাহ করতে হবে ৯ হাজার যান—সেনাবাহিনীর পুরোনো ল্যান্ড রোভারভিত্তিক বহরের বদলে। ফোর্ড ইউকের চেয়ারম্যান লিসা ব্র্যাঙ্কিন বলছেন, প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা দেখানোর এটি একটি সুযোগ। দরপত্রটির খবর দিয়েছে দ্য টাইমস ও বিজনেস ম্যাটারস; বাণিজ্য-সাংবাদিকতায় এসেছে যে একই কাজের জন্য প্রতিযোগিতায় আছে ইনিওস।

বাংলাদেশে এর মানে কী

এখানে যা প্রযোজ্য, তা প্রতিরক্ষা নয়। তা হলো, মূল বাজার সংকুচিত হয়ে গেলে আর যন্ত্র, জায়গা ও কর্মীরা থেকে গেলে একজন উৎপাদক কী করেন।

বাংলাদেশকে এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে, আর শিল্প যা স্বীকার করে তার চেয়ে আগেই। দেশের উৎপাদন ভিত্তি বিপুলভাবে একটিমাত্র পণ্য—পোশাক—যা বিপুলভাবে বিক্রি হয় দুটি বাজারে, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রে। ঝুঁকিগুলো জানা, আর আসছে একসঙ্গেই: উত্তরণের পর স্বল্পোন্নত দেশের বাণিজ্য সুবিধা হারানো, ক্রেতাদের ভিয়েতনাম আর ক্রমেই আফ্রিকার দিকে ছড়িয়ে পড়া, আর প্রক্রিয়ার যেসব অংশ সহজে স্বয়ংক্রিয় হয় সেখানে স্বয়ংক্রিয়তার বৃদ্ধি।

ফোর্ড যা করার চেষ্টা করছে তা সক্ষমতার পুনর্বিন্যাস—এই উপলব্ধি যে তার সম্পদ "গাড়ির ইঞ্জিন বানানো" নয়, বরং ধাতুর কাজ, নিখুঁত সংযোজন, প্রশিক্ষিত কর্মিবাহিনী আর স্বীকৃত সরবরাহ শৃঙ্খল—যা অন্য ক্রেতার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। এই দেখার ভঙ্গিটি বাংলাদেশি উৎপাদকদের হাতেও আছে, আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে না।

বাস্তব রূপটি এই: কমপ্লায়েন্ট একটি পোশাক কারখানার আসল সম্পদ কাটা ও সেলাইয়ের সক্ষমতা, মান ব্যবস্থাপনা, রপ্তানির কাগজপত্র আর মান অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মী। এই সম্পদ দিয়ে বানানো যায় চিকিৎসা-বস্ত্র, সুরক্ষা সরঞ্জাম, কারিগরি ও শিল্প-কাপড়, গাড়ির অভ্যন্তর আর আসবাবের গদি—যেসব শ্রেণিতে মুনাফা বেশি আর গুরুত্বপূর্ণভাবে ক্রেতারা আলাদা।

গল্পটির ভেতরের সতর্কবার্তাও সমান কাজের। ড্যাগেনহ্যাম এক বছরে অর্ধেক হয়নি; হয়েছে এক দশকে, আর এ সময় এতটা লাভজনক থেকেছে যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়নি। বৈচিত্র্য আনার খরচ সবচেয়ে কম ঠিক তখনই, যখন তা সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়—আর এ কারণেই তা এত কম ঘটে। এতে তৈরি হওয়া কেন্দ্রীভবন-ঝুঁকিটিই আমরা দেখেছি উড়োজাহাজের জানালার পেছনের ভঙ্গুরতা লেখায়।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।