বিশ্ব

ইউরোপের দুই ব্যাটারি চ্যাম্পিয়ন দেউলিয়া। পরের চেষ্টাটি হচ্ছে মিটারের একশ কোটি ভাগের এক ভাগ মাপে

সুইডেনের নর্থভোল্ট আর নরওয়ের মরো—দুটিই দেউলিয়া হয়েছে, আর ইউরোপের আশঙ্কা আরেকটি প্রযুক্তি-পালাবদল সে হাতছাড়া করেছে। ক্রমেই বেশিসংখ্যক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, উত্তর আছে ন্যানোমিটার মাপে।

ইউরোপের দুই ব্যাটারি চ্যাম্পিয়ন দেউলিয়া। পরের চেষ্টাটি হচ্ছে মিটারের একশ কোটি ভাগের এক ভাগ মাপে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটারি শিল্পে ইউরোপ বড় কয়েকটি ঝাপটা দিয়েছে, আর প্রকাশ্যে দুবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। সুইডেনের নর্থভোল্ট আর নরওয়ের মরো—দুটিই দেউলিয়া হয়েছে, আর মহাদেশজুড়ে আশঙ্কা যে আরেকটি প্রযুক্তি-পালাবদল সে হাতছাড়া করেছে।

এটি কেবল দুর্ভাগ্য নয়, কঠিনও

পরিবহন ও শিল্পের আরও বেশি অংশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুতে যাওয়ায় ব্যাটারি সম্ভবত বাড়ন্ত ব্যবসা। কিন্তু নতুন পণ্য বাজারে আনতে যে সময় লাগে, তার সঙ্গে নির্মম প্রতিযোগিতা—বিশেষ করে চীনের—যোগ হলে এ শিল্পে ঢোকা বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়।

এ অংশটিই ধরে রাখার মতো। নর্থভোল্ট ব্যর্থ হয়নি এ কারণে যে ধারণাটি ভুল ছিল। ব্যর্থ হয়েছে এ কারণে যে বড় পরিসরে, নির্ভরযোগ্যভাবে ও সস্তায় সেল বানানো এমন এক শিল্পদক্ষতা, যা গড়তে বছর লাগে—আর চীন সেই বছরগুলো এটিই গড়ে কাটিয়েছে।

পরের চেষ্টাটি হচ্ছে ভিন্ন মাপে। এক ন্যানোমিটার মানে মিটারের একশ কোটি ভাগের এক ভাগ; আর ক্রমেই বেশিসংখ্যক বিনিয়োগকারী ও গবেষক মনে করছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এখন হচ্ছে ওই স্তরেই—বড় কারখানায় নয়, উপকরণের ভেতরে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশ লিথিয়াম সেল বানাবে না, আর সেটি আড়াল করে এ গল্পের কোনো কাজের সংস্করণ হয় না। প্রাসঙ্গিক অংশটি হলো, এই শিল্পেরই ক্রেতার দিকে দেশটি আছে—বড় পরিসরে, এখনই।

তিনটি ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি বৈদ্যুতিক দুই ও তিন চাকার যান। বাংলাদেশে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশার বহর ইতিমধ্যেই বিশাল, যা চলে মূলত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারিতে—সস্তা, ভারী, কম আয়ুর, আর পুনর্ব্যবহার হয় অনানুষ্ঠানিকভাবে। অনানুষ্ঠানিক সিসা পুনর্ব্যবহার দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিবেশ-স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি, আর এটি টিকে আছে কারণ যানটির একক সবচেয়ে দামি অংশই ব্যাটারি।

দ্বিতীয়টি গ্রিড সঞ্চয়। বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য আটকে আছে প্যানেলের চেয়ে বেশি—যা এখন সস্তা—সূর্য ডোবার পর কী হয় তাতে। সঞ্চয়ের খরচই ঠিক করে দেয়, দিনের সৌরবিদ্যুৎ আমদানি করা জ্বালানির জায়গা নেবে নাকি কেবল তার পরিপূরক হবে।

তৃতীয়টি নর্থভোল্টের ব্যর্থতায় থাকা বাণিজ্যিক শিক্ষা। এ গল্প দেখে কোনো সরকার ভাবতে পারে, বাংলাদেশের একটি ব্যাটারি কারখানা গড়া উচিত। আরও সঠিক সিদ্ধান্ত বরং উল্টো: ইউরোপীয় ভর্তুকিসহ ভালোভাবে অর্থায়িত একটি সুইডিশ কোম্পানি যদি চীনা সেল উৎপাদনের সঙ্গে না পারে, বাংলাদেশি সংযোজন কারখানাও পারবে না। বাস্তব শিল্প-সুযোগ সেল বানানো নয়। সুযোগ হলো প্যাক সংযোজন, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনার ইলেকট্রনিকস আর আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার—কম চাকচিক্যের, সত্যিই সম্ভব, আর পরিবেশের ক্ষতিটা এখন যেখানে হচ্ছে ঠিক সেখানেই।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।