ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পেট্রল ও ডিজেলের দাম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যখন ভাবছে, তখন মার্কিন রাজ্যগুলো একের পর এক নিজেরাই পদক্ষেপ নিচ্ছে—রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট আর দোদুল্যমান, সবাই।
রাজ্যগুলো যা করছে
বৃহস্পতিবার সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে ওহাইও; গ্যালনপ্রতি পেট্রলের ৩৮.৫ সেন্ট আর ডিজেলের ৪৭ সেন্ট কর তারা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে, যাতে চালকদের সঞ্চয় হবে আনুমানিক ৭২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। জর্জিয়া জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এক মাসের জন্য কর থামিয়েছে; ইন্ডিয়ানা চলতি স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়েছে; কেন্টাকি ও ইলিনয় পদক্ষেপ নিয়েছে বছরের আগের দিকে।
জাতীয়ভাবে পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪.৪০ ডলারের ওপরে—বছরের এই সময়ে কখনোই এত বেশি ছিল না, ইউক্রেন আক্রমণের পরেও নয়। ডিজেল গত মাসে ছুঁয়েছে সর্বকালীন রেকর্ড।
বিশ্লেষকেরা যা বলছেন
পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের অ্যালেক্স আরনন বলছেন, জ্বালানি কর ছাড়ের সঞ্চয়ের সাধারণত ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পান চালকেরা; বাকিটা নিয়ে নেয় পেট্রল পাম্প আর সরবরাহ শিকলের অন্যরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিচের সীমাটিই আশা করছেন।
তিনি বলেন, "সরবরাহ শিকলের সবার কাছেই সঞ্চয়ের কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার প্রণোদনা আর সুযোগ—দুটিই বেশি থাকে।"
গ্যাসবাডির প্যাট্রিক ডি হান তুলেছেন গভীর আপত্তিটি: দাম কমালে সরবরাহ না বেড়ে কেবল চাহিদাই বাড়ে। তাঁর কথায়, "বাজার আপনাকে বলছে সে সংকটে আছে।" লিপাউ অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের অ্যান্ডি লিপাউ আরও সোজা: "দাম কমাতে চাইলে ইরান সংঘাত বন্ধ করুন।"
বাংলাদেশে এর মানে কী
এ সপ্তাহের খবরে এটিই সবচেয়ে সরাসরি কাজে লাগানোর মতো প্রমাণ, কারণ বাংলাদেশ দশকের পর দশক এ পরীক্ষাটিই চালিয়ে এসেছে—মাপজোক ছাড়া।
প্রতিটি বাংলাদেশি সরকারই জ্বালানির দামকে সামাজিক নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে—বিপিসির মধ্য দিয়ে পাম্পের দাম খরচের নিচে ধরে রেখে, তারপর যন্ত্রণাদায়ক লাফে সংশোধন করে। পেন হোয়ার্টন যে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, এখানে কেউ সেটি করে না: পাম্পের দাম কমালে টাকাটা আসলে কে পায়?
তাদের পাওয়া ফল হলো, হাজারো পরিচালক আর প্রকাশিত দামের প্রতিযোগিতামূলক মার্কিন খুচরা বাজারেই এর এক-পঞ্চমাংশ থেকে দুই-পঞ্চমাংশ চালকের কাছে পৌঁছায় না। বাংলাদেশে অনুপাতটি ভালো হবে ভাবার কারণ নেই—যেখানে খুচরা মুনাফা প্রশাসনিকভাবে ঠিক করা, সরবরাহ কেন্দ্রীভূত, আর নিয়ন্ত্রিত দামে ডিলারের প্রণোদনা প্রতিযোগিতা নয়, পরিমাণ সামলানো।
ডি হানের কথাটি আরও কঠিন, আর এখানে তা পুরো মাত্রায় খাটে। সরবরাহে এক লিটারও যোগ না করে দাম কমানো ভর্তুকি একটি আমদানি পণ্যের ব্যবহার বাড়ায়—যা আমদানি ব্যয় বাড়ায় আর টাকার ওপর চাপ দেয়; ফলে সঞ্চয়ের একটি অংশ বিনিময় হারের মধ্য দিয়ে ওই পরিবারগুলোর কাছ থেকেই ফিরে আসে।
সেচের পাম্প আর ট্রাকের মধ্য দিয়ে ডিজেলের লাফ যে দেশে চালের দামে পৌঁছায়, সেখানে দাম ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে এর কোনোটিই যুক্তি নয়। যুক্তিটি বাংলাদেশ যা কখনো গড়ে তোলেনি তার পক্ষে: ভর্তুকির টাকা কোথায় গিয়ে পড়ে তার মাপ। সেচ আর বাস পরিচালকদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিরীক্ষাযোগ্য। দাম কমানো নয়।
এ চাপের কৃষি-দিকটি আছে মার্কিন কৃষি বলয়ের সংকটে।




