২০২৪ সালের শুরুর দিকে দক্ষিণ-পূর্ব চীনের হুয়াংশি শহরের এক তরুণ দোউয়িনে—টিকটকের চীনা সংস্করণ—একটি পোস্ট দেন বলে জানা যায়। ক্যাপশনে লেখা ছিল: "এই পৃথিবীকে বিদায়।"
এরপর যা হলো
কয়েক মিনিটের মধ্যেই দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সচল দোউয়িনের আত্মহত্যা প্রতিরোধ দল পোস্টগুলো পাঠিয়ে দেয় হুয়াংশির পাঁচটি থানায়। তাঁর একটি ভিডিওর অবস্থান স্থানীয় একটি পার্কে শনাক্ত করে পুলিশ তাঁকে বিপর্যস্ত অবস্থায় খুঁজে পায় এবং নিজের জীবন নেওয়ার আগেই হস্তক্ষেপ করে।
বর্ণনাটি এসেছে দোউয়িনের বানানো এবং চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক তথ্যচিত্র থেকে, যাতে দাবি করা হয়—কেবল ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই দলটি ৪০০টি আত্মহত্যাচেষ্টায় সফলভাবে হস্তক্ষেপ করেছে।
এটি চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সহযোগিতার মাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেয়—আর মানুষ প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে তা নজরে রাখতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে চীন যে নজরদারি-কাঠামো গড়েছে, তার দিকেও একটি জানালা খুলে দেয়। সেই একই কাঠামো এখন ঘোরানো হচ্ছে এআই সঙ্গী-অ্যাপের দিকে, যেগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বেইজিং।
বাংলাদেশে এর মানে কী
এ গল্পের সৎ অসুবিধাটি হলো, দুটি অর্ধেকই একসঙ্গে সত্য—আর বেশির ভাগ প্রতিবেদন একটিকে বেছে নেয়।
চার শ হস্তক্ষেপ উড়িয়ে দেওয়ার মতো প্রচারণার অঙ্ক নয়; এরা জীবিত মানুষ, যাঁরা না-ও থাকতে পারতেন। আর যে সক্ষমতা তা সম্ভব করেছে—বড় পরিসরে পোস্ট পড়া, ভিডিও থেকে ব্যবহারকারীর অবস্থান বের করা, কয়েক মিনিটে পুলিশে পৌঁছানো—তার সঙ্গে ভিন্নমতাবলম্বী খুঁজে বের করার সক্ষমতার কোনো পার্থক্য নেই। দ্বিতীয়টি ছাড়া প্রথমটির কোনো সংস্করণ হয় না। এটিই আসল শিক্ষা, আর তা সব দিক থেকেই অস্বস্তিকর।
বাংলাদেশের এটি রাজনৈতিক নয়, নকশার প্রশ্ন হিসেবে পড়া উচিত—কারণ একই পছন্দ এখানেও আসছে। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাতলা—১৭ কোটি মানুষের জন্য কয়েক শ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ—আর বিশেষত তরুণীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ আত্মহত্যা। প্ল্যাটফর্ম-পর্যায়ের হস্তক্ষেপ ব্যবস্থা এখানেও জীবন বাঁচাত। আবার বাক্স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নজরদারির ক্ষমতা ব্যবহারের নথিভুক্ত ইতিহাসও দেশটির আছে—আর ঠিক এ কারণেই একই প্রস্তাব হুমকি হিসেবেও পড়া যায়।
যে পার্থক্যটিতে জোর দেওয়া দরকার, তা হলো উদ্দেশ্যে বাঁধা সক্ষমতা আর প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা সক্ষমতার মধ্যে। যে ব্যবস্থা কেবল সরু একটি শ্রেণির বিষয়বস্তু চিহ্নিত করতে পারে, পুলিশ নয় স্বাস্থ্যসেবায় পাঠায়, হস্তক্ষেপের পর কিছুই জমা রাখে না আর প্ল্যাটফর্মের বাইরের কেউ যার নিরীক্ষা করে—তা সেই ব্যবস্থা থেকে আলাদা, যা কেবল বলে এটি সদয়ভাবে ব্যবহার করা হবে। চীনেরটি দ্বিতীয় ধরনের, আর এ কারণেই তা এত সহজে এআই সঙ্গীর দিকে বিস্তৃত হয়।
এআই সঙ্গী-অ্যাপে কড়াকড়ির অংশটি নকল করার নয়, নজর রাখার। সঙ্গী-অ্যাপ বাংলায় বাংলাদেশে আসছে, ব্যবহার করছেন মূলত তরুণেরা, আর কোনো ধরনের সুরক্ষা নেই—আর ভেবেচিন্তে বানানো নিয়মের বিকল্প স্বাধীনতা নয়। বিকল্প হলো অ্যাপটি যা ঠিক করবে তা-ই।




