এই লেখায় আত্মহত্যায় মৃত্যুর বর্ণনা আছে।
অনলাইন সেক্সটরশন প্রতারণার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করা এক তরুণের মৃত্যুর তদন্তের পর যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তরুণদের জন্য অনলাইন জগৎকে যতটা সম্ভব নিরাপদ করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রোন্ডা কিনন টাফের পন্টিপ্রিডের কাই ডেভিস, বয়স ১৮, মারা যান ২০২৫ সালের জুনে। সাউথ ওয়েলস সেন্ট্রাল করোনার্স কোর্ট শোনে, আফ্রিকা থেকে পরিচালিত প্রতারকেরা তাঁকে লক্ষ্য করেছিল, টাকা দাবি করেছিল আর বলেছিল ঘনিষ্ঠ ছবি তাঁর বন্ধুদের কাছে পাঠানো হবে ও ইউটিউবে দেওয়া হবে।
করোনার যা পেয়েছেন
সহকারী করোনার র্যাচেল নাইট আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নথিবদ্ধ করেন, আর বলেন ‘সম্ভাবনা বেশি’ যে তাঁর জীবনের ব্যক্তিগত চাপ আর প্রতারণার শিকার হওয়া মিলে তাঁর মৃত্যুতে ‘নগণ্যের চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে’।
পদ্ধতি নিয়ে তাঁর বয়ানটি ঠিক যেমন লেখা তেমনই পড়ার মতো, কারণ এটিই ছক। ‘আলাপ দ্রুত যৌন দিকে মোড় নেয় আর তিনি তাঁর কাছে ঘনিষ্ঠ ছবি চান; এরপর সেগুলো ব্যবহার করে টাকার জন্য তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়—হুমকি দেওয়া হয় ছবিগুলো তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের কাছে পাঠানোর আর একটি ইউটিউব চ্যানেলে তোলার। প্রতারক সত্যিই কাইয়ের অন্তত একজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে ছবি পাঠিয়েছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল ও বার্তায় কাইকে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ছিল টাকার দাবি।’
তিনি যুক্তরাজ্য ও ওয়েলস সরকারকে দিয়েছেন রেগুলেশন ২৮ প্রতিবেদন—ভবিষ্যতের মৃত্যু ঠেকানোর আনুষ্ঠানিক নথি।

সরকারের জবাব
অনলাইন সেফটি মিনিস্টার ইয়ান মারি সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন: সম্মতি ছাড়া ঘনিষ্ঠ ছবি তোলাকে অপরাধ করা, এমন ছবি সরাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে বাধ্য করা, আর অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট। ‘কাইয়ের মৃত্যুর পারিপার্শ্বিকতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক,’ তিনি লেখেন; সঙ্গে যোগ করেন, সরকার ‘সবার জন্য, বিশেষত শিশু ও তরুণদের জন্য অনলাইন জগৎকে যতটা সম্ভব নিরাপদ করতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
যে খুঁটিনাটিগুলো সর্বত্র খাটে
এই বয়ানের তিনটি জিনিস দুর্ভাগ্য নয়, কার্যপ্রণালি—আর তিনটিই দেশ ছাড়িয়ে যায়।
উদ্দেশ্যের প্রমাণ। সত্যিকারের একজন বন্ধুকে ছবি পাঠানো ইচ্ছাকৃত একটি ধাপ বাড়ানো। এটি হুমকিকে বদলে দেয় প্রদর্শনে, আর এই মুহূর্তেই ভুক্তভোগী সিদ্ধান্তে আসেন যে মেনে নেওয়াই একমাত্র পথ। আর এই মুহূর্তেই উল্টোটা সত্যি হয়ে যায়: উপাদান একবার বেরিয়ে গেলে টাকা দিয়ে কিছুই কেনা যায় না।
গতি। ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে’। এই চাপাচাপিই পদ্ধতি—সাজানো হয় সেই বিরতিটি ঠেকাতে, যার মধ্যে কেউ বাবা-মা বা বন্ধুকে বলে ফেলতেন।
একাধিক প্ল্যাটফর্মে তাড়া। একসঙ্গে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ, যাতে একটি অ্যাকাউন্ট ব্লক করেও তা না থামে।
বাংলাদেশে একই অপরাধ ঘটে বিপুল সংখ্যায়, একই চিত্রনাট্যে। কাজ করা জবাবটি সর্বত্র একই: উত্তর দেওয়া বন্ধ করুন, টাকা দেবেন না, অ্যাকাউন্ট ও দাবিগুলোর স্ক্রিনশট নিন, অ্যাপের ভেতর থেকে রিপোর্ট করুন, আর সঙ্গে সঙ্গে কাউকে বলুন। এখানে তার মানে পুলিশের সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন ইউনিট বা ৯৯৯ লাইন—আর কোনো তরুণের জন্য, সেই বড় মানুষটি, যিনি রাগ করবেন না।
রেগুলেশন ২৮ প্রতিবেদন কী কাজে
ব্যাখ্যা করার মতো, কারণ এর মধ্যে দাঁত আছে কেবল এই অংশটিতেই। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কোনো করোনার যদি দেখেন পারিপার্শ্বিকতা ভবিষ্যতের মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করছে, তবে তাঁকে তা জানাতে হয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা যাঁদের আছে তাঁদের; আর প্রাপক ৫৬ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বাধ্য—তিনি কী করবেন, বা কেন করবেন না, তা জানিয়ে।
এটি আদালতের আদেশ নয়, আর কোনো পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারে না। এটি যা করে, তা হলো নাম উল্লেখ করা একজন মন্ত্রীকে নথিতে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা—যা আইন প্রণয়নের চেয়ে অনেক নিচু ধাপ, আর সংবাদ বিবৃতির চেয়ে অনেক উঁচু। যুক্তরাজ্যে এখন চালু থাকা কয়েকটি অনলাইন নিরাপত্তা বিধানের শুরু হয়েছিল এ ধরনের প্রতিবেদনের জবাব হিসেবেই।
বাংলাদেশে সমতুল্য কোনো হাতিয়ার নেই। এখানে কোনো তদন্ত কারও ওপর জবাব দেওয়ার দায় তৈরি করে না—আর সে কারণেই একই ছকের ক্ষতি থেকে তুলনীয় কোনো নথি তৈরি হয় না।




