যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল করেছে ওউরা—যে তালিকাভুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়াত ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার (১ হাজার ১৩০ কোটি পাউন্ড); ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মাথায়।
যা ঘটল
ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা স্মার্ট রিংয়ের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, "প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে" তারা তালিকাভুক্তি স্থগিত করছে; কবে তা হতে পারে, সে বিষয়ে কিছু বলেনি। এক সপ্তাহের কিছু বেশি আগেই তারা ২২০ কোটি ডলার পর্যন্ত তোলার পরিকল্পনা জানিয়ে নথি জমা দিয়েছিল।
প্রধান নির্বাহী টম হেল বলেন, "আইপিও আমাদের যাত্রার একটি ধাপ মাত্র"; তিনি যোগ করেন, "নিজেদের সময় বেছে নেওয়ার সুবিধা আমাদের আছে।"
এ মাসে এটি দ্বিতীয় স্থগিতাদেশ। মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হোলটেক ইন্টারন্যাশনালও তাদের তালিকাভুক্তি পিছিয়ে দিয়েছে; কারণ হিসেবে বলেছে "অস্বাভাবিক কিছু ঘটনার মিলিত প্রভাব, যা নতুন গণপ্রস্তাবের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে"।
লক্ষ করার মতো ছকটি
এক মাসে দুটি প্রত্যাহার, সম্পর্কহীন দুই খাতে—আর পাশাপাশি অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই দুজনেই বিশাল প্রস্তাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই মিলটি সাধারণত একটি জিনিসই বোঝায়: সবাই যে গল্প নিয়ে উত্তেজিত, বিনিয়োগকারীরা এখনো তাতে টাকা দিতে রাজি; আর বাকি সবকিছুতে তাঁরা বাছবিচার বাড়াচ্ছেন।
১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে স্বাস্থ্য-পরিধেয় একটি ভালো ব্যবসা, যা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের মতো মূল্যায়ন চাইছে। আত্মবিশ্বাসী বাজারে সেই যুক্তি টেকে। অস্থির বাজারে টেকে না; আর অপেক্ষা করার মতো নগদ যার আছে, সে কম দামে ছেড়ে সেই দাগ বয়ে বেড়ানোর বদলে সরে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশি কোনো বিনিয়োগকারী এই শেয়ার কিনতে পারতেন না, সরাসরি প্রাসঙ্গিকতাও শূন্য। পরোক্ষ প্রাসঙ্গিকতা শূন্য নয়।
আইপিও বাজার ঠান্ডা হওয়া ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সতর্ক হয়ে ওঠার প্রথম দৃশ্যমান ধাপ, কারণ প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত পান গণ-তালিকাভুক্তির মধ্য দিয়েই। সেই বেরোনোর পথ অনিশ্চিত দেখালে পেছনের তহবিলগুলো গতি কমায়—আর প্রভাবটি সিলিকন ভ্যালি থেকে বাইরের দিকে ছড়ায়, সবচেয়ে ছোট বাজারে পৌঁছায় সবার শেষে আর সবচেয়ে জোরে।
বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে শেষ-পর্যায়ের পুঁজি এমনিতেই পাতলা; আর হাতে গোনা যে কটি দেশি প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য বিদেশি অর্থ তুলেছে, তা তুলেছে সস্তা টাকার এমন এক সময়ে—যা ফুরিয়েছে। ঢাকার কোনো উদ্যোক্তার জন্য বাস্তব পরিণতি এই নয় যে মূল্যায়ন কমবে; পরিণতি হলো দুটি তহবিল-সংগ্রহের মাঝের সময় বাড়বে, আর শর্ত কঠিন হবে। যাঁরা আঠারো মাসের খরচ আর একটি সহজ রাউন্ড ধরে পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাই ধরা পড়েন।
বাংলাদেশের নিজের বাজারের জন্যও একটি পাঠ আছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে ডিএসই বছরের পর বছর হিমশিম খেয়েছে, আর চেনা ব্যাখ্যা নিয়ন্ত্রক জটিলতা। এ ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর গভীরতম পুঁজিবাজারেও সত্যিকারের পণ্যসহ ভালো একটি কোম্পানি জানালা বন্ধ পেতে পারে। সময় বাংলাদেশের সমস্যা নয়; এটি গণ-বাজারের স্বভাব।
একই আবহে প্রস্তুত হওয়া অনেক বড় তালিকাভুক্তিটি আছে অ্যানথ্রপিকের ফাঁস হওয়া প্রসপেক্টাসে।




