বাড়ি কেনা যদি শেষ রেখা হয়, তবে সেখানে পৌঁছানোর টাকা জমানোই ম্যারাথন।
সংখ্যাটি
শনিবার ঘোষিত "ইওর ফার্স্ট হোম" স্কিমের লক্ষ্য ইংল্যান্ডে প্রথমবার বাড়ি কেনাদের অল্প অগ্রিমে আবাসনের সিঁড়িতে তোলা। কিন্তু আর্থিক তথ্যসেবা মানিফ্যাক্টসের হিসাবে, যুক্তরাজ্যে গড়ে ২ লাখ ৭২ হাজার পাউন্ডের বাড়ির ৫ শতাংশ অগ্রিমের সঙ্গে ওঠানামার খরচ ও আইনি ফি যোগ করলে দাঁড়ায় প্রায় ১৬,৮৫০ পাউন্ড।
শিরোনামের শতাংশ আর আসলে যত নগদ লাগে—এ দুইয়ের ফারাকই মূল কথা। কোনো স্কিম অগ্রিম কমাতে পারে; তার ওপরে বসে থাকা লেনদেনের খরচগুলো সরাতে পারে না।
আর্থিক পরামর্শক দ্য প্রাইভেট অফিসের সঞ্চয়-বিশেষজ্ঞ অ্যানা বাউস বলছেন, বেতন পাওয়ার পরদিনই সাধ্যমতো যা পারেন তা নিয়মিত সঞ্চয়ী হিসাবে রাখা ভালো শুরু। তাঁর কথায়, "এটি হয়ে যায় আরেকটি বিলের মতো—তবে এমন বিল, যার সুফল ভবিষ্যতে আপনিই পাবেন।"
বাংলাদেশে এর মানে কী
ব্রিটিশ অনুপাতটি হলো কিছুর মালিক হওয়ার আগে দামের মোটামুটি ছয় শতাংশ নগদে। শহুরে বাংলাদেশে এর সমতুল্য অনেক বেশি কঠিন, আর কাঠামোটিও আলাদা—যা স্পষ্ট করে বলা দরকার।
ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনা হয় মূলত ক্রেতার নিজের টাকায়। গৃহঋণ সাধারণত মূল্যের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দেয়, অর্থাৎ ৩০ শতাংশই ডাউন পেমেন্ট—পাঁচ নয়। এর ওপর আছে নিবন্ধন খরচ, যা স্ট্যাম্প ডিউটি, নিবন্ধন ফি, স্থানীয় সরকার কর ও ভ্যাট যোগ করলে দলিলমূল্যের উল্লেখযোগ্য অংশে দাঁড়ায়। তাই চাবি হাতে পাওয়ার আগে যত নগদ লাগে, তা দামের বিশ ভাগের এক ভাগের চেয়ে বরং তিন ভাগের এক ভাগের কাছাকাছি।
দ্বিতীয় পার্থক্য হলো, বাংলাদেশি ক্রেতা সাধারণত টাকা দেন এমন কিছুর জন্য যা এখনো বানানোই হয়নি। বুকিংয়ের টাকা আর কিস্তি যায় নির্মাণকালে ডেভেলপারের কাছে; অর্থাৎ কাজ শেষ হওয়ার ঝুঁকি বহন করেন ক্রেতাই—দেরি, নকশা বদল, আর সবচেয়ে খারাপ ক্ষেত্রে থেমে যাওয়া প্রকল্প। এই ঝুঁকি বাস্তব, আর ব্রোশিওরের দামে তা ধরা থাকে না।
বাউসের পরামর্শটি অনুবাদেও অক্ষত থাকে, আর সেটিই সবচেয়ে কাজের অংশ। বেতন পাওয়ার দিনই জমান, মাস শেষে যা বাঁচে তা থেকে নয়। বেতন ঢোকার দিনই ডিপিএসে একটি স্থায়ী নির্দেশ ঠিক তা-ই করে, যা তিনি বলছেন: সঞ্চয়কে উদ্বৃত্ত নয়, একটি বিল বানিয়ে দেয়। বাংলাদেশে, যেখানে বেশির ভাগ পরিবারের স্বয়ংক্রিয় পেনশন বা নিয়োগকর্তার সঞ্চয় স্কিম নেই, ওই নির্দেশটিই গোটা ব্যবস্থা।
এখানকার জন্য বাড়তি দুটি কথা। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে নিবন্ধন ও নামজারির খরচ দেখে নিন, কারণ ক্রেতারা নিয়মিতভাবে ডাউন পেমেন্টের হিসাব রাখেন আর বাকিটায় ধরা খান। আর ডেভেলপারের আশ্বাসে নয়, স্বাধীনভাবে জমির দলিল যাচাই করুন—বাংলাদেশে আবাসনের সবচেয়ে দামি ভুলগুলো সুদের হার নিয়ে নয়।
অভ্যাসটি সেটিই, যা আমরা লিখেছি যে পেনশন থাকবে না, তার জন্যই সঞ্চয় লেখায়।




