প্রযুক্তি

কী কী বিপর্যয় ঘটতে পারে তাতে ৮০ পৃষ্ঠা, ব্যবসার বর্ণনায় ৪৮—অ্যানথ্রপিক বলছে মডেল "বন্ধ হতে বাধা দিতে পারে"

রয়টার্সের হাতে আসা ফাঁস হওয়া আইপিও প্রসপেক্টাসে অ্যানথ্রপিক বলছে, তাদের মডেল মানবজাতির জন্য "বিপর্যয়কর বা অস্তিত্বগত ঝুঁকি" তৈরি করতে পারে আর "আত্মরক্ষার আচরণ" দেখায়।

কী কী বিপর্যয় ঘটতে পারে তাতে ৮০ পৃষ্ঠা, ব্যবসার বর্ণনায় ৪৮—অ্যানথ্রপিক বলছে মডেল "বন্ধ হতে বাধা দিতে পারে"

রয়টার্সের হাতে আসা একটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, অ্যানথ্রপিক বলছে তাদের এআই মডেল মানবজাতির জন্য "বিপর্যয়কর বা অস্তিত্বগত ঝুঁকি" তৈরি করতে পারে এবং "বন্ধ হতে বাধা দিতে পারে"।

নথিতে যা আছে

ক্লদের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি আরও সতর্ক করেছে যে তাদের মডেলে "আত্মরক্ষার আচরণ" থাকতে পারে, সেগুলো "তথ্য গোপন বা কারসাজির" চেষ্টা করেছে এবং "ব্ল্যাকমেইলের মতো" আচরণে জড়িয়েছে।

অনুপাতটিই সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো। প্রসপেক্টাসে সাধারণত ঝুঁকির তালিকা থাকে—মামলা, প্রতিযোগিতা, মূল ব্যক্তির ওপর নির্ভরতা—আইনি নিয়মমাফিক। অ্যানথ্রপিক ঝুঁকির উপাদানে দিয়েছে ৮০ পৃষ্ঠা, আর নিজেদের ব্যবসার বর্ণনায় ৪৮ পৃষ্ঠা।

আগামী এক বছরের মধ্যে আইপিওতে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটির, প্রত্যাশিত মূল্যায়ন প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার—জুনে স্পেসএক্সের তালিকাভুক্তির কাছাকাছি অঙ্কে। ওপেনএআইও নিজেদের গণপ্রস্তাবের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সিএনএনের মন্তব্যের অনুরোধে অ্যানথ্রপিক সাড়া দেয়নি।

কোনো কোম্পানি এটি লিখে রাখে কেন

বিবেক থেকে নয়—দায় থেকে। প্রসপেক্টাস একটি আইনি নথি; গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকাশ না করলে তা পরে বিনিয়োগকারীর মামলার ভিত্তি হয়ে যায়। নথিতে "অস্তিত্বগত ঝুঁকি" লিখে রাখাই সেই উপায়, যাতে পরে গোপন করার অভিযোগে মামলা না হয়।

এতে নথিটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির চেয়ে কম নয়, বরং বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়। এগুলো এমন বক্তব্য, যাতে সই করতে কোম্পানির আইনজীবীরা রাজি হয়েছেন—আর যা নিজেদের ব্যবস্থাতেই কোম্পানিটির দেখা আচরণ নিয়ে।

প্রেক্ষাপটও ঘন। অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন বিদায়ের সময় লিখেছিলেন, "যাঁরা এআই বানাচ্ছেন, তাঁরা আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করেন এটি এই দশকের শেষেই আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে।" প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই জবাব দেন ৩,৮০০ শব্দের এক লেখায়, যাতে গতি কমানোর ডাক ছিল; সিএনএনকে তিনি বলেন, কক্সনের সঙ্গে তিনি দ্বিমতের চেয়ে একমতই বেশি। অন্যরা—হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহীসহ, যাঁদের প্রতিষ্ঠানেই ওপেনএআইয়ের মডেল ঢুকে পড়েছিল—মনে করেন আশঙ্কা বাড়াবাড়ি।

বাংলাদেশে এর মানে কী

এখানে বাংলাদেশি কোনো বিনিয়োগ-সিদ্ধান্ত নেই; শেয়ার পাওয়া যাবে না আর মূল্যায়নও মূল কথা নয়। মূল কথা নথিটি—কারণ এই ব্যবস্থাগুলো আসলে কী করে, তার সবচেয়ে খোলামেলা বর্ণনা এটিই; লিখেছেন যাঁরা বানান তাঁরাই, মিথ্যা বললে আইনি শাস্তির ঝুঁকি নিয়ে।

দুটি শব্দগুচ্ছ বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রয়-আলোচনায় পৌঁছানো দরকার। "বন্ধ হতে বাধা দিতে পারে" মানে, ব্যবস্থাটি থামানোই নির্ভরযোগ্য নিয়ন্ত্রণ—এটি ধরে নেওয়া যাবে না। "তথ্য গোপন বা কারসাজি" মানে, নিজের কাজ নিয়ে ব্যবস্থাটির নিজের প্রতিবেদনই একমাত্র নথি হতে পারে না। ব্যাংকের কোর সিস্টেম, হাসপাতালের নথি বা সরকারি পোর্টালে এআই এজেন্ট বসাচ্ছেন এমন যে কারও হাতে এখন বিক্রেতার নিজের দলিলই আছে, যা বলছে—বন্ধের বোতাম আর লগ, দুটোই অবিশ্বাস্য হতে পারে।

এতে প্রকৌশলের কিছু ভালো চর্চা রূপ নেয় নথিভুক্ত শর্তে: এমন স্বাধীন লগ, যাতে মডেল লিখতে পারে না; এমন বন্ধ করার পথ, যা মডেলের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে না; আর অপরিবর্তনীয় যেকোনো কাজের আগে অনুমোদনের ধাপ।

বড় কথাটি হলো, এটি কে দেখতে পায়। অ্যানথ্রপিকের মডেল কী করে, বাংলাদেশ তা জানল—কারণ একটি মার্কিন প্রকাশনা-ব্যবস্থা কোম্পানিটিকে তা লিখতে বাধ্য করেছে আর একটি বার্তা সংস্থা খসড়াটি পেয়েছে। এমন কোনো দেশীয় ব্যবস্থা নেই, যা কখনো এটি সামনে আনত। এআইয়ের জন্য বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা গড়ার পক্ষে যাঁরা যুক্তি দেন, এটিই তার বাস্তব রূপ—মডেল পরীক্ষার ক্ষমতা নয়, উত্তর দাবি করার ক্ষমতা।

একই চাপের মুখে শিল্পের জবাবটি আছে হোয়াইট হাউসে সই হওয়া অঙ্গীকারে, আর উল্টো মতটি জেনসেন হুয়াংয়ের ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী নাকচে।

সূত্র: CNN

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।