ক্লডের নির্মাতা অ্যানথ্রপিক বুধবার সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের আয় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলারে (১,২৭০ কোটি পাউন্ড) পৌঁছেছে—বিবিসি এমনটিই জেনেছে।
সান ফ্রান্সিসকোয় সদর দপ্তরে হওয়া এই ব্রিফিং বছর শেষের আগে প্রত্যাশিত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ভিত তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি নাকি আরও জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় প্রান্তিকে তারা লাভ করেছে। এক মুখপাত্র মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গতিপথটি
সংখ্যাটি একা যতটা, ধারাবাহিকতায় তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর অ্যানথ্রপিকের আয় ছিল প্রথম প্রান্তিকে ৪৭০ কোটি, দ্বিতীয়টিতে ১,১৬০ কোটি, আর তৃতীয়টিতে ১,৬৮০ কোটি ডলার।
ওপেনএআইয়ের সংখ্যার পাশাপাশি এটি সেই অল্প কয়েকটি প্রকাশ্য মাপকাঠির একটি, যা দিয়ে বোঝা যায় এআই শিল্প নিজের গড়া অবকাঠামোর খরচ আদৌ জোগাতে পারবে কি না।
সময়টিই আসল খবর
ব্রিফিংটি এসেছে ঠিক ওই প্রশ্নের জন্য খারাপ একটি সপ্তাহে।
এআই খাতে ব্যয় নিয়ে উদ্বেগে বুধবার পড়েছে মার্কিন প্রযুক্তি শেয়ার। এএমডি, এনভিডিয়া ও ইনটেলের শেয়ার দ্রুত পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এশিয়ায় জাপানের সফটব্যাংক পড়েছে ৯ শতাংশের বেশি, স্যামসাং ৯.৪ শতাংশ আর এসকে হাইনিক্স ১০.৮ শতাংশ। ৮ শতাংশের বেশি পতনের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ও কসড্যাকে লেনদেন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়, আর জাপানের নিক্কেই ২২৫ পড়ে ৫ শতাংশের বেশি।
এর পেছনে আংশিকভাবে ছিলেন ব্রডকমের প্রধান নির্বাহী হক ট্যান, যিনি সোমবার সিঙ্গাপুরে এক সম্মেলনে বলেন, বহু বিনিয়োগকারীর ‘কোনো ধারণাই নেই’ আর তাঁরা ‘চরম প্রত্যাশা তৈরি করে পরে দেখেন ব্যাপারটা প্রায় ক্যাসিনোতে থাকার মতো’। বুধবার প্রকাশিত মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য—সেপ্টেম্বরে দাম প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়ার খবর—পতন আরও গভীর করে।
দুটি পাঠ, আর সেগুলো মেলে না
এক: সংশয়ের জবাব অ্যানথ্রপিকের সংখ্যাগুলোই। এক বছরের মধ্যে আয় তিন গুণ, সঙ্গে লাভ—এটি প্রমাণ যে ব্যয়ের নিচে একটি ব্যবসা আছে।
দুই: তালিকাভুক্তির কয়েক দিন আগে, যে সপ্তাহে বাজার গোটা খাতটিকেই নতুন করে ভাবছে, তখন ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে শক্তিশালী সংখ্যা প্রকাশ করা—যেকোনো প্রতিষ্ঠানই ওই সময়ে তা-ই করত। সংখ্যাগুলো প্রতিবেদিত, নিরীক্ষিত ও প্রকাশ্য নয়; পার্থক্যটি ধরে রাখার মতো।
দুটিই সত্য হতে পারে, আর তালিকাভুক্তিই সেই জায়গা যেখানে দুটি মুখোমুখি হবে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
শেয়ারের দাম দূরের বিষয়; ওই তালিকার একটি নাম নয়। এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং মেমোরি নির্মাতা, আর তাদের পতন এসেছে সেই সপ্তাহেই, যখন আমরা লিখেছি এআই অবকাঠামো মেমোরি চিপ শুষে নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ ২০ শতাংশ কমেছে।
শৃঙ্খলটি এক জায়গায়: এআই প্রতিষ্ঠান টাকা তোলে, সেই টাকায় মেমোরি কেনা হয়, মেমোরির সংকটে ঢাকায় ফোনের দাম বাড়ে। যে বাজার প্রথম ধাপে বিশ্বাস হারায়, সেটি শেষ পর্যন্ত তৃতীয় ধাপের চাপ কমায়—অর্থাৎ অ্যানথ্রপিকের জন্য যে দরপতন খারাপ খবর, এখানকার ফোন-ক্রেতার জন্য সেটিই চাপ কমার প্রথম লক্ষণ।
তবে দ্রুত নয়। মেমোরির চুক্তি হয় মাস কয়েক আগে, তাই সিউলের একটি খারাপ সপ্তাহ এলিফ্যান্ট রোডে পৌঁছায় অনেক পরে—যদি আদৌ পৌঁছায়।
প্রতিষ্ঠানটি নিজের ঝুঁকি নিয়ে কী বলেছিল, তা আছে ফাঁস হওয়া আইপিও প্রসপেক্টাসের খবরে।
সংখ্যাটি কীভাবে পড়বেন
১,৬৮০ কোটি ডলার শুনতে বিশাল, আর তুলনা ছাড়া সংখ্যাটির অর্থ ধরা কঠিন।
বাংলাদেশের বার্ষিক তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় মোটামুটি ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের ঘরে। অর্থাৎ অ্যানথ্রপিক তিন মাসে যা আয় করেছে, তা দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাতের বছরের আয়ের এক-তৃতীয়াংশের বেশি—এমন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে, যা দশ বছরও পুরোনো নয় আর যার কোনো কারখানা নেই।
তুলনাটি অ্যানথ্রপিকের প্রশংসা নয়, বরং পরিসরটি বোঝানোর জন্য। এআই খাতে যে টাকা ঘুরছে তা এত বড় যে এর ছোট একটি তরঙ্গও—যেমন মেমোরি চিপের দাম—অন্য প্রান্তে পুরো একটি দেশের ক্রেতার কেনাকাটা বদলে দিতে পারে। এ কারণেই সিউলের শেয়ারবাজারের খবর ঢাকার দোকানের সঙ্গে সম্পর্কিত, যদিও সম্পর্কটি কয়েক ধাপ দূরের।
সূত্র: বিবিসি নিউজ।




