প্রযুক্তি

নিজের ৫ শতাংশ শেয়ার ‘পাবলিক বেনিফিট ফান্ডে’ দেবে অ্যানথ্রপিক — তবে দামটি ঠিক হবে এখনো না হওয়া এক তালিকাভুক্তিতে

প্রতিষ্ঠানটির ৭ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে এমন এক তহবিলে, যেখান থেকে লবিং বা রাজনৈতিক অনুদান নিষিদ্ধ। তবে এর প্রকৃত মূল্য নির্ভর করছে এখনো প্রস্তুতি চলতে থাকা এক তালিকাভুক্তির ওপর।

নিজের ৫ শতাংশ শেয়ার ‘পাবলিক বেনিফিট ফান্ডে’ দেবে অ্যানথ্রপিক — তবে দামটি ঠিক হবে এখনো না হওয়া এক তালিকাভুক্তিতে

জনকল্যাণে অনুদান দেবে এমন একটি তহবিলে নিজের ৫ শতাংশ শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অ্যানথ্রপিক; পর্ষদ চাইলে আরও ২ শতাংশ যেতে পারে। ঘোষণাটি এসেছে রোববার, এমন এক সময়ে যখন প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে—যাতে এর মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তহবিলটি কী, আর কী নয়

এটি পাচ্ছে শেয়ার, টাকা নয়। অ্যানথ্রপিক বলছে, তহবিলটি অলাভজনক সংস্থা এবং শ্রমবাজারে এআইয়ের প্রভাব মোকাবিলার কাজে সহায়তা করতে পারে; আর এর হাতে থাকা কোনো শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রে বা অন্য কোথাও লবিং কিংবা রাজনৈতিক অনুদানে ব্যবহার করা হবে না।

শেষ শর্তটিই ঘোষণার সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট অংশ। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি প্রতিষ্ঠানের বড় শেয়ারভান্ডার ঠিক সেই সম্পদ, যা ওয়াশিংটনে কাজে লাগানো হয়; আগেভাগে তা বাতিল করে দেওয়া আবেগ নয়, বাস্তব একটি সীমা।

৫ শতাংশ, যেতে পারে ৭-এ
টাকা নয়, শেয়ার—লবিং ও রাজনৈতিক অনুদানে ব্যবহার নিষিদ্ধ এমন এক তহবিলে। সামনে ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারা তালিকাভুক্তি। গ্রাফিক: টেক বিডি।

বাকিটার মূল্য নির্ধারণ কঠিন, কারণ অতালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ততটুকুই, পরবর্তী ক্রেতা যতটা দিতে রাজি। এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ানো মূল্যের ৫ শতাংশ বিশাল অঙ্ক। আর প্রত্যাশার চেয়ে কম দামে তালিকাভুক্তি হলে সংখ্যাটি অন্য রকম—বাজার না বলা পর্যন্ত তহবিলটি জানতেই পারবে না সে কোনটি ধরে আছে।

সময়টি

গত সপ্তাহে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এক প্রান্তিকেই তাদের ঘরে এসেছে ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার, যা এক বছরের ব্যবধানে ৪৫ শতাংশ বেশি। তার কয়েক দিনের মাথায়, আর তালিকাভুক্তির কয়েক দিন আগে দেওয়া এ ধরনের প্রতিশ্রুতি অবস্থান তৈরির কাজও বটে—নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের মুখে থাকা একটি শিল্প জানাচ্ছে, তারা কিছু একটা সরিয়ে রেখেছে।

এর ওপর আছে সেপ্টেম্বরে এই সাইটে পড়া সেই প্রসপেক্টাসটিও, যেখানে ঝুঁকির অংশটি ব্যবসার বর্ণনার চেয়েও দীর্ঘ ছিল—নিজেদের মডেল কী করতে পারে, তা নিয়ে অস্বাভাবিক রকম খোলামেলা একটি নথি।

সামাজিক মাধ্যমে ইলন মাস্কের প্রতিক্রিয়া: ‘আমার পরামর্শ, শেয়ারগুলো সরাসরি জনগণকে দিয়ে দিন।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি তা-ই করব।’

নিচে থাকা চাকরির প্রশ্নটি

শ্রমবাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে তহবিলের আগ্রহ একটি বাস্তব সংখ্যার ওপর দাঁড়ানো। ২০২৪ সালে প্রকাশিত আইএমএফের গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ চাকরিতে এআইয়ের প্রভাব পড়বে, উন্নত অর্থনীতিতে যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। এআই নেওয়ার দক্ষতা বৃদ্ধির কথা বলে বিশ্বজুড়ে বহু প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার পদ কমিয়েছে।

এ দেশে কম সংখ্যাটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেন

৬০ শতাংশের শিরোনামটি উন্নত অর্থনীতির, আর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলো কম বৈশ্বিক সংখ্যাটিকে বাংলাদেশের জন্য সুখবর ভাবা। বিষয়টি এত সরল নয়। কম ঝুঁকির কারণ হলো এ অর্থনীতিতে শারীরিক শ্রম ও কৃষিকাজ বেশি—কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অংশগুলো দ্রুততম বেড়েছে, সেগুলোই ঝুঁকির তালিকায়: বিপিও, ডেটা এন্ট্রি, ফ্রিল্যান্স ডিজাইন ও লেখালেখি, বিদেশি ক্লায়েন্টের ব্যাক-অফিসের কাজ, গ্রাহকসেবা।

অর্থাৎ ঝুঁকি কমেনি, বরং একজায়গায় জমেছে। তা পড়েছে সেই কয়েক লাখ মানুষের ওপর, যাঁদের কাজ ইংরেজিতে, কম্পিউটারে, বিদেশের কারও জন্য—যাঁদের তৈরি করতেই দেশ এক দশক ব্যয় করেছে।

আর এ ধরনের তহবিল যত বড়ই হোক, খরচ হবে প্রায় নিশ্চিতভাবেই সেখানে যেখানে তার অনুদানগ্রহীতারা আছেন—ঢাকায় নয়। একে এ দেশের কারও জন্য নিরাপত্তাবেষ্টনী ভাবা ভুল হবে। কাজের উত্তরটি বরাবরের মতোই: মূল্যশৃঙ্খলে এত দ্রুত ওপরে ওঠা, যাতে যে কাজটি স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে সেটিই আর বিক্রি করতে না হয়।

আরেকটি কথাও যোগ করা দরকার। এ ধরনের তহবিল সাধারণত তৈরি হয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরের নিয়ম দিয়ে, বাইরের আইন দিয়ে নয়। লবিংয়ে ব্যবহার না করার শর্তটি অ্যানথ্রপিকের নিজের ঘোষণা—কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরোপ করা বাধ্যবাধকতা নয়। শেয়ারের মালিকানা যদি তালিকাভুক্তির পর বদলায়, কিংবা পর্ষদের গঠন বদলায়, তখন শর্তটি কতটা টিকবে তা নির্ভর করবে তহবিলের দলিলে কী লেখা আছে তার ওপর—আর সেই দলিল এখনো প্রকাশ্য নয়। প্রতিশ্রুতির মূল্য মাপার সময় এ প্রশ্নটিই সবচেয়ে কাজের।

সম্পর্কিত: অ্যানথ্রপিকের ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলারের প্রান্তিক, আর যে প্রসপেক্টাসে ৮০ পৃষ্ঠা জুড়ে ছিল কী কী বিপর্যয় ঘটতে পারে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।