বিশ্ব

পিঁপড়াভুকের নাকওয়ালা এক জেট, যার ককপিট এত পেছনে যে পাইলটকে পথ দেখতে হয় ক্যামেরায়

কনকর্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথ থেকে দূরে রাখা সনিক বুম মিইয়ে দিতেই বানানো হয়েছে এক্স-৫৯। ১৯৪৭ সাল থেকে চলে আসা নাসার পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজের সারির এটিই সর্বশেষ।

পিঁপড়াভুকের নাকওয়ালা এক জেট, যার ককপিট এত পেছনে যে পাইলটকে পথ দেখতে হয় ক্যামেরায়

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উড়ছে অদ্ভুত আর চমৎকার এক জেট। এর নাক পিঁপড়াভুকের মতো, যন্ত্রাংশ খুলে আনা অন্য সব উড়োজাহাজ থেকে, আর ককপিট এতটাই পেছনে যে পাইলটকে পথ দেখতে ভরসা করতে হয় ক্যামেরার ওপর।

আকৃতিটি কিসের জন্য

এক্স-৫৯-এর খেয়ালি নকশার পেছনে সনিক বুমের সমস্যা। শব্দের বেগ পেরোনোর সময় জেট যে অভিঘাত-তরঙ্গ তৈরি করে, তা কনকর্ডকে বেঁধে রেখেছিল সমুদ্রের ওপরের উড়ানে আর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাভজনক রুটগুলো থেকে দূরে। নাসা এর চারপাশে পথ খুঁজছে এক্স-৫৯-এর লম্বাটে নাক দিয়ে, যা সুপারসনিক গর্জনকে চ্যাপ্টা করে পটভূমির সহনীয় ধাক্কায় নামিয়ে আনার কথা।

এর বংশপরিচয়ও অসাধারণ: ১৯৪৭ সাল ও শব্দের বেগ প্রথম পেরোনো বেল এক্স-১ থেকে চলে আসা নাসার পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজের সারির এটিই সর্বশেষ।

কর্মসূচিটির ব্যবস্থাপক, নাসায় ৪৩ বছর কাটানো পিটার কোয়েন আশি বছরের এক্স-প্লেনের দর্শনটি ব্যাখ্যা করেন এভাবে: "আমাদের পদ্ধতি হলো ছোট ছোট লক্ষ্য বেছে নেওয়া, যেগুলো উড়ানের তথ্য দিয়ে প্রমাণ করতে চাই; আর সেই একটিমাত্র কাজের জন্যই একটি এয়ারফ্রেম বানাই।"

বাংলাদেশে এর মানে কী

সুপারসনিক পরিবহন বাংলাদেশের প্রশ্ন নয়। কোয়েনের বাক্যটি প্রশ্ন, আর এ মাসের প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে প্রকৌশল-ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে সহজে বয়ে নেওয়ার মতো পরামর্শও এটিই।

একটি ছোট লক্ষ্য নিন, তথ্য দিয়ে তা প্রমাণ করুন, আর সেটি পরীক্ষা করার ন্যূনতম জিনিসটি বানান। বাংলাদেশে সরকারি অর্থে চালানো বেশির ভাগ কারিগরি প্রকল্প সাজানো হয় ঠিক এর উল্টোভাবে। এখানকার ছক হলো উচ্চাভিলাষী সমন্বিত কর্মসূচি—স্মার্ট সিটি, জাতীয় প্ল্যাটফর্ম, ফ্ল্যাগশিপ কেন্দ্র—যা ঘোষণা হয় সম্পূর্ণ আকারে, বাজেট হয় সম্পূর্ণ আকারে, আর মূল্যায়ন হয় কী শেখা গেল তা দিয়ে নয়, তা বুঝিয়ে দেওয়া গেল কি না তা দিয়ে।

এক্স-প্লেন মডেলটি সস্তা আর বেশি সৎ। প্রতিটি উড়োজাহাজ একটিমাত্র প্রশ্নের উত্তর দেয়। এগুলোর কয়েকটি সাধারণ অর্থে ব্যর্থ হয়েছে—বিধ্বস্ত হয়েছে, কিংবা প্রমাণ করেছে ধারণাটি কাজ করে না—আর তবু সেই পরিণতিও ফলাফল হিসেবেই গণ্য হয়েছে, কারণ কর্মসূচিটি সাজানো হয়েছিল পণ্য নয়, জ্ঞান তৈরির জন্য।

যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সত্যিই সমাধানযোগ্য সমস্যা আছে, সেখানে এই কাঠামোটির বাস্তব প্রয়োজন: বন্যাসহনশীল নির্মাণ, কম খরচে পানি পরিশোধন, ক্ষুদ্র চাষির মাপে সৌর সেচ, কৃষির জন্য শীতল সরবরাহ শৃঙ্খল, লবণসহিষ্ণু ফসল। এসব ক্ষেত্রে মাপা মানদণ্ডে পরীক্ষা করা একটি ছোট প্রোটোটাইপ নকশা অনুযায়ী বুঝিয়ে দেওয়া বড় কর্মসূচির চেয়ে বেশি শেখাবে।

প্রাতিষ্ঠানিক বাধাটি টাকা নয়। বাধা হলো, বাংলাদেশে কোনো গবেষণা-অনুদান বা সরকারি প্রকল্প নেতিবাচক ফল দিলে তাকে প্রকাশযোগ্য আবিষ্কার নয়, চাপা দেওয়ার মতো ব্যর্থতা ধরা হয়—যা নিশ্চিত করে যে পাঁচ বছর পর একই ধারণায় আবার টাকা দেবেন এমন কেউ, যিনি কখনো শোনেননি যে এটি আগে চেষ্টা করা হয়েছিল।

এক-উদ্দেশ্যের এয়ারফ্রেমের শিল্প-আত্মীয়টি আছে উড়োজাহাজের জানালার পেছনের ভঙ্গুরতা লেখায়: চরম বিশেষায়ন সক্ষমতা কিনে দেয়, আর দাম নেয় সহনশীলতায়।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।