কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে স্কটল্যান্ডকে প্রযুক্তিটিকে গ্রহণ করতে হবে এবং নিজেদের পরিকল্পনাব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে হবে—বলেছেন উদ্ভাবনমন্ত্রী অ্যালিন স্মিথ।
স্বাধীন গবেষণার বরাত দিয়ে স্কটিশ সরকার বলছে, সঠিক বিনিয়োগ ও নেতৃত্ব পেলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এআই স্কটল্যান্ডের বার্ষিক জিডিপিতে বাড়তি ২৩০০ কোটি পাউন্ড যোগ করতে পারে। হিসাবটি এসেছে এমন এক তর্কের মাঝখানে, যা আসলে এআই নিয়ে নয়—যেসব ভবন এটি চালাবে, সেগুলো কোথায় বসবে তা নিয়ে।
পরিকল্পনা নিয়ে লড়াই
সেপ্টেম্বরে স্কটিশ গ্রিনসের নেতৃত্বে একটি বিতর্কে দাবি ওঠে, জাতীয় নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বড় এআই ডেটা সেন্টারের পরিকল্পনা আবেদন স্থগিত রাখা হোক। সরকার তা আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করে, তবে জানায়, এ বছরের শেষে নির্দেশিকা হালনাগাদ হওয়ার আগে এ ধরনের অনুমোদন ‘খুবই অসম্ভব’।
মন্ত্রীরা বড় ডেটা সেন্টার নিয়ে ‘যৌক্তিক উদ্বেগ’ স্বীকার করে বলছেন, পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার তদারকি বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত জায়গার আশপাশের বাসিন্দারা বিবিসি স্কটল্যান্ডকে বলেছেন, তাঁরা ভবনের চেহারা, শব্দ আর জমির পরিমাণ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বিশেষজ্ঞরা এমএসপিদের সতর্ক করেছেন, এসব কেন্দ্র গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে এবং জলবায়ু লক্ষ্য পূরণ কঠিন করতে পারে। স্কটিশ গ্রিনস বলছে, নিয়ন্ত্রণহীন সম্প্রসারণ ‘বিশাল এআই কোম্পানি আর তাদের অতিধনী মালিকদেরই আরও ধনী করবে’।

মন্ত্রী আসলে যা বলেছেন
বিতর্কের ধরন নিয়ে স্মিথ স্পষ্টভাষী ছিলেন। রেডিও স্কটল্যান্ড ব্রেকফাস্টে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে যেসব কথা শুনছি, তার কিছু কিছু উন্মাদের মতো। শুনে মনে হয় পরিকল্পনাব্যবস্থা বলে কিছুই নেই। উটাহ মরুভূমির মাঝখানের একটি বাজে ডেটা সেন্টারের সঙ্গে স্কটল্যান্ডে যা হবে তার তুলনা চলে না।’
মাত্রা বোঝাতে তিনি একটি তুলনা টানেন: স্কটল্যান্ডের আইটি খাতে এখন কাজ করেন ৮৭ হাজার মানুষ, আর ১৯৭৯ সালে খনিশিল্পে কাজ করতেন ২১ হাজার।
ডেটা সেন্টারকে তিনি বলেন ‘এআই খাতের হুইস্কি বন্ড’—যেখানে মূল্যবান কিছু পরিণত হওয়া পর্যন্ত রাখা হয়। ‘স্মার্টফোন ব্যবহার করলে জিজ্ঞেস করুন আপনার তথ্য কোথায় রাখা হচ্ছে। জায়গাটা কি নির্ভরযোগ্য? বিশ্বাসযোগ্য?’
মাঝখানের স্বীকারোক্তি
স্মিথের সবচেয়ে কাজের বাক্যটি ছিল একটি স্বীকারোক্তি: ডেটা সেন্টার খুব বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে না, তিনি মানলেন।
এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থানীয়ভাবে এসবের পক্ষে সাধারণত কর্মসংস্থানের যুক্তিই দেওয়া হয়। যুক্তিটি যদি চাকরি না হয়, তবে অন্য কিছু হতে হবে—করভিত্তি, গ্রিডে বিনিয়োগ, কিংবা জাতীয় তথ্য শারীরিকভাবে কোথায় থাকছে তার সার্বভৌমত্ব।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনাব্যবস্থাই প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা করে সিদ্ধান্ত নেবে: ‘সব আবেদন এগোবে না, কারণ সবগুলো উপযুক্ত নয় বা পর্যাপ্ত জনসম্পৃক্ততা নেই।’
দক্ষতা আর নিয়ন্ত্রণ
এআই গ্রহণে কী সাহায্য করছে আর কী বাধা দিচ্ছে, তা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শুনতে এডিনবরায় একটি বৈঠকে যাওয়ার কথা ছিল স্মিথের। আলোচ্যসূচিতে ছিল এআই ও ডেটা দক্ষতা জোগাতে স্কটল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ভূমিকাও।
তিনি এসটিইউসির নেতৃত্বে নতুন একটি ওয়ার্কপ্লেস জবস অবজারভেটরির কথা বলেন, যা বাস্তব সময়ে দেখবে এআই কর্মক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলছে। নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থান: ‘আইন করে নৈতিক সীমারেখা টানা হোক, আর আমরা ইইউর মানদণ্ডের সঙ্গে মিলিয়ে চলি।’
সংখ্যাটি নিয়ে সংশয় কেন
২০৩৫ সালে বছরে ২৩০০ কোটি পাউন্ড—এটি একটি প্রক্ষেপণ, অর্থাৎ গ্রহণ, বিনিয়োগ ও নেতৃত্ব সব ঠিকঠাক চললে প্রযুক্তিটি যা যোগ করতে পারে। এটি পূর্বাভাসও নয়, প্রতিশ্রুতিও নয়। অথচ এ ধরনের সংখ্যা পরে দুটোর যেকোনো একটি হিসেবেই উদ্ধৃত হতে থাকে।
বরং যাচাই করা যায় সেই দাবিগুলো, যেগুলোর সঙ্গে তারিখ আছে: এ বছরের শেষে নির্দেশিকা, আর তার আগে অনুমোদন অসম্ভব প্রায়।




