২০২২ সালের ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের নিলামে দেশের চার মোবাইল অপারেটর প্রায় ১০ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকায় কিনল ১৯০ মেগাহার্টজ নতুন তরঙ্গ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন নিলামে তুলেছিল ২.৩ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের ১০০ মেগাহার্টজ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের ১২০ মেগাহার্টজ; দুটিই "ক্যাপাসিটি" ব্যান্ড—আজ ফোর-জি, পরে ফাইভ-জির উপযোগী—আর লাইসেন্স ১৫ বছরের।
কে কী কিনল
- গ্রামীণফোন: ২.৬ গিগাহার্টজে ৬০ মেগাহার্টজ। মোট এখন ১০৭.৪০ মেগাহার্টজ।
- রবি: ২.৬ গিগাহার্টজে ৬০ মেগাহার্টজ। মোট ১০৪।
- বাংলালিংক: ২.৩ গিগাহার্টজে ৪০ মেগাহার্টজ। মোট ৮০।
- টেলিটক: ২.৩ গিগাহার্টজে ৩০ মেগাহার্টজ। মোট ৫৫.২০।
অঙ্কটা ২০২১ সালের মার্চের নিলামের কাছাকাছি, যখন ২৭.৪ মেগাহার্টজ বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়; কিন্তু এবার একই টাকায় সাত গুণ তরঙ্গ—কারণ নতুন ব্যান্ডগুলো উচ্চতর ফ্রিকোয়েন্সির, মেগাহার্টজপ্রতি সস্তা। বেশির ভাগ ব্লক গেছে ভিত্তিমূল্যে বা তার কাছাকাছি; আসল প্রতিযোগিতা আর আসল টাকা ছিল গত বছরের ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজের বিক্রিতে।
তরঙ্গই কেন আপনার গতি
মোবাইল নেটওয়ার্কের ধারণক্ষমতা নির্ভর করে তার হাতে কতটা তরঙ্গ, তার ওপর—যেমন রাস্তার ধারণক্ষমতা নির্ভর করে লেনের সংখ্যায়। গ্রাহকপ্রতি তরঙ্গে বাংলাদেশের অপারেটররা অঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘদিন পিছিয়ে; সে কারণেই এখানে ফোর-জিতে প্রায়ই ১০-১৫ এমবিপিএস মেলে, যেখানে একই ফোন পাশের দেশে ৩০ বা তার বেশি দেয়। নিলামে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সেটিই বলেন: গ্রাহকের মানের অভিযোগ আছে, অপারেটরদের তরঙ্গের ঘাটতি ছিল, আর "এই ১৯০ মেগাহার্টজ যুক্ত হলে খাতে আমূল পরিবর্তন হবে"। বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার অপারেটরদের বলেন, কেনাকাটাটিকে সেবার মানে রূপান্তর করতে, শুধু হিসাবের খাতার সম্পদ নয়।
সত্যি বলতে যা আশা করবেন
২.৩ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড অনেক ডেটা বহন করে, কিন্তু দূরে যায় না, ভবনের ভেতরেও ভালো ঢোকে না; তাই সবচেয়ে কাজে লাগে ঘন শহুরে এলাকায়, যেখানে অপারেটর বিদ্যমান টাওয়ারে এগুলো যোগ করে। গ্রামের কভারেজ নির্ভর করে তাদের হাতে থাকা নিচু ব্যান্ডে। নতুন ক্যারিয়ার চালু হলে আগামী এক বছরে ঢাকা ও চট্টগ্রামে লক্ষণীয় উন্নতি আশা করুন; টাওয়ার হালনাগাদ না হওয়া পর্যন্ত গ্রামে কিছুই বদলাবে না। প্রথম ফাইভ-জি সেবাও চলবে এই তরঙ্গেই, তবে কবে—তা কোনো অপারেটর বলেনি।




