প্রযুক্তি

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফাইভ-জি পরীক্ষা করল গ্রামীণফোন: কী দেখানো হলো, আর আপনি কবে পেতে পারেন

টেলিটকের সাত মাস পর দেশের বৃহত্তম অপারেটর জিপি হাউস ও চট্টগ্রামে ফাইভ-জির ট্রায়াল চালাল। প্রতিশ্রুতিগুলো পরিচিত; তরঙ্গ, ফোন আর ব্যবসার হিসাবই আসল সময়সূচি।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফাইভ-জি পরীক্ষা করল গ্রামীণফোন: কী দেখানো হলো, আর আপনি কবে পেতে পারেন

দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ২০২২ সালের ২৬ জুলাই মঙ্গলবার জানায়, ঢাকার জিপি হাউস ও চট্টগ্রামে তারা ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের পরীক্ষামূলক পরিচালনা করেছে; অন্য বিভাগীয় শহরেও পরীক্ষা হবে। প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোম্পানির ইনোভেশন ল্যাবে সংযোগ ও প্রদর্শনীর "ইউজ কেস" পরখ করেন। "স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যপূরণে আমরা ফাইভ-জি কানেকটিভিটি ও এর ইউজ কেসের ট্রায়াল পরিচালনা করছি," বলেন আজমান; উদ্দেশ্য সবার সঙ্গে মিলে চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা।

ট্রায়াল কী, আর কী নয়

ট্রায়াল মানে হাতে গোনা কয়েকটি বেস স্টেশন, ধার করা তরঙ্গ, পরীক্ষার হ্যান্ডসেট আর মাপার যন্ত্র হাতে প্রকৌশলী। এটি সেবা নয়। রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার কয়েকটি স্থানে দেশের প্রথম ফাইভ-জি পরীক্ষা চালিয়েছিল; এরপর জনসাধারণের জন্য কিছুই আসেনি। মার্চে বেসরকারি অপারেটরদের কেনা ২.৩ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গে ফাইভ-জি চলতে পারে, কিন্তু তারা কিনেছে মূলত ভিড়ে থাকা ফোর-জি সামলাতে; আর বেশির ভাগ দেশ যে ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে প্রথম ফাইভ-জি চালায়, বিটিআরসি এখনো তার নিলাম করেনি।

ফাইভ-জি যা বদলাবে

পরিচিত প্রতিশ্রুতিগুলো আবার শোনা গেল: ফোর-জিতে ঘণ্টা লাগা এইচডি সিনেমা কয়েক সেকেন্ডে, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটিতে দূরের শ্রেণিকক্ষ ও অস্ত্রোপচার, এআইচালিত কারখানা, ড্রোনে খাবার, চালকবিহীন গাড়ি। বিপণন সরালে ফাইভ-জি আনে তিনটি সত্যি জিনিস: টাওয়ারপ্রতি অনেক বেশি ধারণক্ষমতা, তাই ভিড়ের জায়গা আর ধীর হয় না; কয়েক মিলিসেকেন্ডের লেটেন্সি, যা শিল্প নিয়ন্ত্রণ ও গেমিংয়ে জরুরি; আর সেলপ্রতি হাজারো কম-শক্তির সেন্সরের সমর্থন—"ইন্টারনেট অব থিংস"। বাংলাদেশি গ্রাহকের জন্য প্রথমটিই টের পাওয়া যাবে: যেখানে ফোর-জি এখন হামাগুড়ি দেয়, সেখানেই দ্রুত ডেটা।

আপনার ফোন কি ফাইভ-জি?

সম্ভবত, গত এক বছরে ২৫ হাজার টাকার ওপরের ফোন কিনে থাকলে। এখানে বিক্রি হওয়া স্যামসাংয়ের এ-সিরিজ ও তার ওপরের বেশির ভাগ, আইফোন ১২ থেকে পরের, আর শাওমি, রিয়েলমি, ভিভোর মিড-রেঞ্জ মডেলে ফাইভ-জি আছে; বাজারের বেশির ভাগ যে ১৫ হাজার টাকার ফোন, তাতে নেই। এখনো তাতে কিছু যায় আসে না, নির্মাতারাও জানে; দেশে বিক্রি হওয়া কয়েকটি "ফাইভ-জি" মডেল বাংলাদেশে সম্ভাব্য ব্যান্ডগুলোই ব্যবহার করতে পারে না।

বাস্তব সময়সূচি

অপারেটরদের লাগবে তরঙ্গের নিলাম, বিশ্বের সবচেয়ে কম গ্রাহকপ্রতি আয়ের বাজারে ব্যবসার হিসাব, আর টাওয়ার পর্যন্ত ফাইবার—যা গ্রামের বেশির ভাগ সাইটে নেই। শিল্পের নির্বাহীরা ঘরোয়া আলাপে ঢাকায় বাণিজ্যিক চালুর কথা বলেন ২০২৪ বা তার পরে। ততক্ষণ সাধারণ গ্রাহকের জন্য ফাইভ-জি ট্রায়ালের সেরা কাজ—অপারেটরদের আগে ফোর-জি ঠিক করতে ঠেলা।

সময়সূচি বারবার পিছিয়েছে কেন

বছর কয়েক পর দেখা যাচ্ছে, এই লেখার সতর্ক উত্তরটিই আশাবাদী উত্তরের চেয়ে ভালো টিকেছে। তরঙ্গ বিক্রির অনেক পরেও বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ফাইভ-জি সীমিতই থেকেছে, আর কারণগুলো কখনোই মূলত কারিগরি ছিল না।

ফাইভ-জি চালু করতে গেলে অপারেটরকে প্রতিটি সাইটের জন্য বেতার যন্ত্রপাতি কিনতে হয়, এখনো মাইক্রোওয়েভে চলা টাওয়ারগুলোতে ফাইবার টানতে হয়, আর খুঁজে বের করতে হয় বেশি দাম দিতে রাজি গ্রাহক—এমন একটি বাজারে, যেখানে গ্রাহকপ্রতি মাসিক গড় খরচ বিশ্বের সবচেয়ে কমগুলোর একটি আর ব্যবহৃত বেশির ভাগ হ্যান্ডসেট ওই ব্যান্ড সমর্থনই করে না। তরঙ্গ হাতে রাখলে এর কোনো সমস্যাই মেটে না। সে কারণেই লাইসেন্স বছর কয়েকের পুরোনো হতে পারে, অথচ সেবাটি নয়।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।