প্রযুক্তি

মি. বিস্টের ১০ কোটি সাবস্ক্রাইবার: ২৪ বছরের এক তরুণ যেভাবে গড়লেন ইউটিউবের বৃহত্তম একক চ্যানেল

জিমি ডোনালডসন মাত্র পঞ্চম চ্যানেল আর দ্বিতীয় একক নির্মাতা, যিনি এই মাইলফলক ছুঁলেন। গত বছর ১ হাজার কোটি ভিউ, আয় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার, আর এমন এক সূত্র, যা বাংলাদেশি নির্মাতারা এরই মধ্যে নকল করছেন।

মি. বিস্টের ১০ কোটি সাবস্ক্রাইবার: ২৪ বছরের এক তরুণ যেভাবে গড়লেন ইউটিউবের বৃহত্তম একক চ্যানেল

মি. বিস্ট নামে পরিচিত জিমি ডোনালডসন ২০২২ সালের ২৮ জুলাই, ২৪ বছর বয়সে, ইউটিউবে ১০ কোটি সাবস্ক্রাইবার ছাড়ালেন। তাঁর আগে সংখ্যাটি ছুঁয়েছিল মাত্র চারটি চ্যানেল: ভারতীয় সংগীত লেবেল টি-সিরিজ, ছড়ার চ্যানেল কোকোমেলন, সনির ভারতীয় টিভি চ্যানেল সেট ইন্ডিয়া, আর সুইডিশ গেমার পিউডিপাই—এত দিন ক্লাবের একমাত্র একক নির্মাতা। ডোনালডসন দ্বিতীয়, আর এই গতিতে দুই বছরের মধ্যে সবার বড় হবেন।

সূত্রটা

মি. বিস্টের ভিডিও মানে দামি স্টান্ট আর শিরোনামে সহজ টোপ: "৫০ ঘণ্টা জীবন্ত কবরে", "বাস্তবে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ডলারের স্কুইড গেম", "অচেনা মানুষকে দিলাম ১০ লাখ ডলার"। টাকা সত্যি; ভিডিওপ্রতি বাজেট লাখো ডলার, আগেরগুলোর আয়ে। চমকের নিচে একরোখা কারিগরি: প্রতিটি সেকেন্ড দর্শক ধরে রাখতে সম্পাদিত, থাম্বনেইল বিকল্পের সঙ্গে পরীক্ষিত, আর ডোনালডসন নিজেই বলেছেন, কিছু কাজ করার আগে বছরের পর বছর তিনি ইউটিউবের অ্যালগরিদম পড়েছেন। প্রথম ভিডিও ১১ বছর বয়সে, তারপর এক দশক অখ্যাতি। "১০ কোটি মানে অনেক," তাঁর কথা। "১১ বছর বয়স থেকে ভিডিও বানাচ্ছি। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ইউটিউবার থাকতে চাই।"

ব্যবসাটা

২০২১ সালে তাঁর ভিডিও দেখা হয়েছে ১ হাজার কোটিবারের বেশি, আর ফোর্বসের হিসাবে আয় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার—ইউটিউবারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। চ্যানেলটি এখন একটি কোম্পানি: বার্গার চেইন, চকলেট ব্র্যান্ড, কূপ খোঁড়া ও ছানির অস্ত্রোপচারের খরচ দেওয়া একটি দাতব্য চ্যানেল, আর মূল চ্যানেলের স্প্যানিশ, পর্তুগিজসহ নানা ভাষায় ডাব করা সংস্করণ—নর্থ ক্যারোলাইনার এক নির্মাতাকে ঢাকায় দেখা হয় এভাবেই।

বাংলাদেশি নির্মাতারা যা নিচ্ছেন

বাংলাদেশে ইউটিউব দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু বৃহত্তম চ্যানেলগুলোও এখনো এক অঙ্কের মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবারে, আর মি. বিস্টের স্থানীয় নকল—ক্যামেরার সামনে টাকা বা ফোন বিলানো—মূল কথাটাই ধরে না। তিনটি বহনযোগ্য শিক্ষা:

  • প্রথম দশ সেকেন্ডই সব। মি. বিস্ট শুরু করেন প্রেক্ষাপট আর ঝুঁকি দিয়ে, কখনো "হাই গাইজ, ওয়েলকাম ব্যাক" দিয়ে নয়।
  • পুনর্বিনিয়োগ। প্রতিটি ভিডিওর আয় যায় পরেরটিতে; চ্যানেল বেড়েছে কারণ প্রোডাকশন বেড়েছে।
  • ভাষা গুণক। তাঁর ডাব করা চ্যানেলগুলো দেখায়, ইংরেজি সাবটাইটেল বা ডাবসহ একজন বাংলা নির্মাতা ১৭ কোটি মানুষের অনেক বাইরে পৌঁছান।

এরপর তাঁর লক্ষ্য টি-সিরিজ, প্রায় ২২ কোটিতে। ২০১৫ সালে যাঁরা তাঁর চ্যানেল দেখেছিলেন, কেউ এতে বাজি ধরতেন না।

সূত্রটি কেন হস্তান্তরযোগ্য নয়

বাইরের নির্মাতারা নকল করেন থাম্বনেইল আর ধারণাটি। যা নকল করতে পারেন না, তা হলো হিসাবের খাতা।

ডোনালডসনের পদ্ধতি ছিল আয়ের কার্যত পুরোটাই পরের ভিডিওতে ঢেলে দেওয়া—প্রতিটি আপলোডে বাজেট পৌঁছাত লাখো ডলারে—এই বাজিতে যে বেশি খরচের ভিডিও খরচের চেয়ে বেশি আয় করবে। এটি তখনই চলে, যখন ভিউপ্রতি বিজ্ঞাপনের আয় এতটা বেশি যে তা আবার লগ্নি করা যায়; আর বিজ্ঞাপনের হার দর্শক কোথায় বসে আছেন তার ওপর বিপুলভাবে বদলায়। যে চ্যানেলের দর্শক মূলত বাংলাদেশে, প্রতি হাজার ভিউয়ে তার আয় একই চ্যানেলের মার্কিন দর্শকের আয়ের ভগ্নাংশমাত্র।

তাই সঙ্গে নেওয়ার শিক্ষাটি উপহার বিলানো নয়। শিক্ষাটি নিচের শৃঙ্খলা: একটি ফরম্যাট বেছে নিন, প্রথম তিরিশ সেকেন্ড পেরিয়ে মানুষ কেন থাকে তা মাপুন, আর টাকা তুলে না নিয়ে আবার লগ্নি করুন। এগুলো ছোট মাপেও খাটে। বাজেটগুলো খাটে না।

হালনাগাদ: ২০২৪ সালের জুনে টি-সিরিজকে ছাড়িয়ে মি. বিস্ট ইউটিউবের সবচেয়ে বেশি সাবস্ক্রাইবারের চ্যানেল হন।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।