টিকটক ঠেকাতে ইউটিউবের বানানো খাড়া ভিডিওর ফিড ইউটিউব শর্টসের মাসিক দর্শক ১৫০ কোটি, আর এত দিন ক্লিপ যাঁরা বানান, তাঁদের আয়ের প্রায় কোনো পথ ছিল না। তা বদলাচ্ছে। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইউটিউব শর্টসের মাঝে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করবে আর টাকা নির্মাতাদের সঙ্গে ভাগ করবে—লম্বা ভিডিওতে ২০০৭ থেকে যেমন করছে। দুই দিন পর "মেড অন ইউটিউব" অনুষ্ঠানে কোম্পানি পরিকল্পনাটি নিশ্চিত করে।
এত দিন শর্টসের নির্মাতারা যেভাবে টাকা পেতেন
শর্টস ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের যোগ্য নয়—যে ব্যবস্থায় চ্যানেল তার ভিডিওতে দেখানো বিজ্ঞাপনের ভাগ পায়, আর যাতে লাগে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও এক বছরে ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ টাইম। বদলে ইউটিউব গড়েছিল ১০ কোটি ডলারের শর্টস ফান্ড, জনপ্রিয় নির্মাতাদের নিজের বিবেচনায় মাসে ১০০ থেকে ১০ হাজার ডলার। তহবিলটি সব দেশে ছিল না, আর ভাইরাল শর্ট থেকে বিজ্ঞাপনের আয় হতো না, কারণ ইউটিউব তাতে বিজ্ঞাপন বেচত না।
নতুন মডেল
- শর্টসের মাঝে বিজ্ঞাপন। ফিডে সোয়াইপ করার সময় প্রায় ছয় সেকেন্ড পর্যন্ত ছোট বিজ্ঞাপন।
- আয়ের ভাগ। সেই বিজ্ঞাপনের টাকা যায় একটি পুলে; সংগীতের লাইসেন্সের খরচ মিটিয়ে ইউটিউব নির্মাতাদের দেয় ভিউ অনুযায়ী তাঁদের অংশের ৪৫ শতাংশ। লম্বা ভিডিওর নির্মাতারা পান ৫৫; শর্টসে কম ভাগের কারণ সংগীতের খরচ।
- নিচু প্রবেশের সীমা। শুধু শর্টসের চ্যানেল পার্টনার প্রোগ্রামে ঢুকতে পারবে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও ৯০ দিনে ১ কোটি শর্টস ভিউয়ে—৪ হাজার ওয়াচ আওয়ারের বদলে। কার্যকর ২০২৩ সালের শুরুতে।
বাংলাদেশে কেন জরুরি
বাংলাদেশ খাড়া ভিডিওর দেশ। ফেসবুকের পর দ্বিতীয় সবচেয়ে ব্যবহৃত সামাজিক অ্যাপ টিকটক, ফেব্রুয়ারিতে এখানে এসেছে ফেসবুক রিলস, আর দেশের ইউটিউব ওয়াচ টাইমের বড় অংশ এখন শর্টসে। কিন্তু শর্টস ফান্ড কখনো বাংলাদেশি নির্মাতাদের টাকা দেয়নি, টিকটকের নিজের ক্রিয়েটর ফান্ডও এখানে নেই। বিজ্ঞাপনের আয়ের ভাগাভাগিই প্রথমবার এমন, যেখানে ছোট ভিডিওর প্ল্যাটফর্ম বগুড়ার নির্মাতাকে বোস্টনের নির্মাতার মতোই টাকা দেবে—অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে দেশীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। ১ কোটি ভিউয়ের সীমা বেশি শোনায়, কিন্তু বাংলায় একটি ভাইরাল শর্ট এক সপ্তাহে তা করতে পারে।
দুটি ব্যবহারিক কথা: শর্টসে ভিউপ্রতি আয় লম্বা ভিডিওর চেয়ে অনেক কম, তাই টাকাটা বাড়তি, জীবিকা নয়; আর পুনর্ব্যবহৃত কনটেন্টে ইউটিউবের নিয়ম বহাল—আবার আপলোড করা টিকটক আর টিভির কাটা অংশ যোগ্য হবে না। লাভ হবে তাঁদের, যাঁরা নিজের কিছু বানান।




