২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে গ্রামীণফোন গ্রাহকদের দিনের প্রথম কলড্রপের বিপরীতে টকটাইম ফেরত দেওয়া শুরু করল—বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের নতুন নিয়মে প্রতিটি অপারেটরের জন্য তা বাধ্যতামূলক হওয়ার দুই দিন আগে। কোম্পানি বলেছে, তারা "গ্রাহকদের সেবার অভিজ্ঞতার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ", আর অন-নেট ড্রপে—দুটি গ্রামীণফোন নম্বরের মধ্যের কল—ক্ষতিপূরণ যাবে আপনাআপনি।
১ অক্টোবর থেকে নিয়ম
২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার রমনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি নির্দেশনাটি ঘোষণা করে; টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার যুক্ত হন অনলাইনে। সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজের উপস্থাপনায় বিস্তারিত:
- দিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ড্রপ: প্রতিটিতে ৩০ সেকেন্ড টকটাইম।
- তৃতীয় থেকে সপ্তম ড্রপ: প্রতিটিতে ৪০ সেকেন্ড।
- কখন: বড়জোর পরের দিন জমা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএস; অপারেটর চাইলে একই দিনে।
- মেয়াদ: ১৫ দিন, আর ফেরত পাওয়া সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকের টাকা কাটা যাবে না।
- পরিধি: আপাতত শুধু অন-নেট কল। অন্য অপারেটরে কলের ড্রপ এর আওতায় নয়।
- নিজের হিসাব: অক্টোবর থেকে যেকোনো অপারেটরে *১২১*৭৬৫# ডায়াল করে কতবার কল কেটেছে দেখা যাবে।
বিটিআরসির হিসাবে প্রতি ১০০ সেকেন্ড কলড্রপে অপারেটররা ফেরত দেবে প্রায় ৩০৯ সেকেন্ড—সেটাই উদ্দেশ্য। "ক্ষতিপূরণটাই গুরুত্বপূর্ণ না," বলেন জব্বার। "গ্রাহক যেন নির্বিঘ্ন সেবা পায়, সে উদ্দেশ্যেই নির্দেশনা। অপারেটররা যেন সেবার মান বাড়িয়ে ক্ষতিপূরণ থেকে রেহাই পান, বিটিআরসি সেটাই চাচ্ছে।"
পুরোনো নিয়ম থেকে যা বদলাল
২০১৬ সালের নির্দেশনায় ক্ষতিপূরণ ছিল দিনের তৃতীয় ড্রপ থেকে; ফলে প্রায় কেউ কখনো কিছু পাননি, আর ভিড় ও হ্যান্ডওভারের ব্যর্থতা সারানোর তাগিদ অপারেটরদের ছিল না। প্রথম ড্রপ থেকে দেওয়া, এসএমএসে নিশ্চিত করা—খারাপ কভারেজের খরচ অপারেটরের খাতায় আর গ্রাহকের ফোনে দৃশ্যমান করে। এটি এসেছে মার্চের তরঙ্গ নিলাম আর মে মাসে মন্ত্রীর "এ বছরই কলড্রপ কমবে" প্রতিশ্রুতির পর।
যা করবেন
তত্ত্বে কিছুই নয়; জমা আপনাআপনি। বাস্তবে এসএমএসগুলো রাখুন, মাসের শেষে কোডটি ডায়াল করুন, আর বাসা বা অফিসের যে জায়গায় বারবার কল কাটে সেখান থেকে কখনো জমা না এলে অপারেটরের ১২১-এ, তারপর বিটিআরসির ১০০ হটলাইনে অভিযোগ করুন। নিয়মটি তখনই কাজ করে, যখন গ্রাহক খেয়াল করেন কখন তা করছে না।
আপনার অভিজ্ঞতা আর অপারেটরের হিসাব মেলে না কেন
অপারেটররা নিয়মিতই জানায়, তাদের কলড্রপের হার নিয়ন্ত্রক সীমার অনেক ভেতরে; অথচ গ্রাহকেরা বলেন কল হরহামেশাই কেটে যায়। দুই পক্ষই সত্যি বলতে পারে, কারণ তারা আলাদা জিনিস গুনছে।
নেটওয়ার্ক কলড্রপ গোনে তখন, যখন সংযুক্ত হয়ে যাওয়া একটি কল নেটওয়ার্ক থেকে কেটে যায়। যে কল কখনো সংযুক্তই হলো না, যে কলে আট সেকেন্ড কিছু না শুনে আপনি রেখে দিলেন, কিংবা যে কল ব্যর্থ হলো কারণ আপনার হ্যান্ডসেট কাছের টাওয়ারে না গিয়ে দূরেরটি আঁকড়ে ছিল—এর কোনোটিই সে গোনে না। গ্রাহকের কাছে চারটিই ‘কল কেটে গেল’। মাপজোখের কাছে কেবল প্রথমটি।
গ্রাহকসেবার সঙ্গে তর্কে যাওয়ার আগে কথাটি জানা ভালো। কাজের অভিযোগ ‘আপনাদের ড্রপ রেট ভুল’ নয়, বরং নির্দিষ্ট একটি নথি: তারিখ, সময়, যে নম্বরে ডায়াল করেছিলেন, আর আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ ধরনের অভিযোগই প্রকৌশল বিভাগ পর্যন্ত পৌঁছায়।




